September 21, 2018

পাঠানকোট হামলার মূল হোতাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে পাকিস্তান!

জয়েশ-ই মোহাম্মদের প্রধান এবং পাঠানকোট হামলার সন্দেহভাজন হোতা মওলানা আজহার মাহমুদকে ‘নিরাপত্তা হেফাজতে’ নেওয়ার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ। পাঞ্জাব প্রদেশের আইনমন্ত্রী সানাউল্লাহকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম ডন খবরটি নিশ্চিত করেছে। এদিকে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে হামলার মূল হোতাকে সুরক্ষা দিতেই তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর খবরে বলা হয়, তাদের টক শো ‘নিউজ আই’তে পাঞ্জাব প্রদেশের আইনমন্ত্রী সানাউল্লাহ স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তান পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগ মওলানা মাসুদকে হেফাজতে নিয়েছেন। তবে কেন তাকে গ্রেফতার না করে হেফাজতে নেওয়া হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই কেবল তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে। সন্দেহের বশে নয়।

উল্লেখ্য, ‘প্রিভেন্টিভ কাস্টডি’-র অর্থ তদন্ত বা বিচারের জন্য অভিযুক্তকে আটক করা। কিন্তু ‘প্রোটেক্টিভ কাস্টডি’ সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। কারও প্রাণসংশয় থাকলে তাঁকে নিরাপদে রাখার জন্য প্রশাসন ‘প্রোটেক্টিভ কাস্টডি’-র ব্যবস্থা করে। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের খবরে দাবি করা হয়েছে, মওলানা মাসুদকে গ্রেফতার না করে হেফাজতে নেওয়ার খবর তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে তবে কি মাসুদের প্রাণনাশের আশঙ্কা করছে পাকিস্তান? না হলে মাসুদ আজহারকে গোপন আস্তানায় নিয়ে গিয়ে কড়া নিরপত্তা বলয়ে রাখার প্রয়োজন কেন হল?

পাঞ্জাবের হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী

আনন্দবাজারের দাবি, মাসুদের ‘নিরাপত্তা হেফাজতে’ থাকার খবর সামনে আসতেই বিভিন্ন শিবির প্রশ্ন তুলেছে যে, পাকিস্তান কি আবার লাদেন-নিধন অভিযানের মতো কোনও অভিযানের ভয় পাচ্ছে? অ্যাবটাবাদের গোপন আস্তানায় মার্কিন নৌসেনার ‘সিল-টিম ৬’ রাতের অন্ধকারে অভিযান চালিয়ে হত্যা করেছিল ওসামা বিন লাদেনকে। মওলানা মাসুদ আজহারের ক্ষেত্রেও তেমন কোনও ঘটনা ঘটতে পারে বলে কি পাকিস্তানের আশঙ্কা? না হলে নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ল কেন? উল্লেখ্য, প্রশাসন যখন কাউকে প্রোটেক্টিভ কাস্টডিতে পাঠায়, তখন কোথায় তাঁকে রাখা হচ্ছে, সে কথা গোপন রাখা হয়। সেই গোপন আস্তানায় দেওয়া হয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায়।

এরআগে পাকিস্তান এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে পাঞ্জাবের পাঠানকোট বিমানঘাঁটি হামলায় জড়িত সন্দেভাজন সংগঠন জয়েশ-ই মোহাম্মদের প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার গ্রেফতারের যে খবর প্রচার করা হয়, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের তরফে জানানো হয় তা নিয়ে পাকিস্তানের কাছে কোন তথ্য নেই।

পাঠানকোট হামলার পর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান

পাঠানকোট হামলার পর ভারত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করে ইসলামাবাদ। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। বুধবার পাকিস্তানের মিডিয়ায় খবর ছড়ায় যে জইশ-ই-মহম্মদের বিভিন্ন ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে সেগুলি সিল করে দিয়েছে পাকিস্তানের প্রশাসন। জইশ-প্রধান মাসুদ আজহারকে জেরার জন্য আটক করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের সরকারি সূত্র সে সম্পর্কে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি।

এরআগে বুধবার রাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাসুদের আটকের জল্পনা নিয়ে বিবৃতি দেয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানান, ‘মাসুদ আজহারের গ্রেফতারির ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারি ভাবে ভারতকে কিছুই জানায়নি।’ ফলে আদৌ মাসুদ আজহার আটক হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের তরফে জানান হয়, ‘মাসুদ আজহারের আটক বা তার ডেরায় তল্লাশির কোনও খবর আমাদের কাছে নেই।’
পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য এবং ছয় জঙ্গি নিহত হন

গত ২ জানুয়ারি দিনগত রাতে পাঠানকোটের বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। ওই ঘটনায় ৬ হামলাকারী আর নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ সদস্য নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই হামলার পেছনে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই দায়ী করে আসছে ভারত। এই সংগঠনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণসাপেক্ষেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts