September 24, 2018

পাঞ্জাব বিমান ঘাঁটিতে বোম্বাই সিনেমা ষ্টাইলে মহড়া

পাঞ্জাব বিমান ঘাঁটিতে বোম্বাই সিনেমা ষ্টাইলে মহড়া। ছবিঃ সংগৃহীত

আবু জাফর মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের পাকিস্তান ও মার্কিণনীতির পিঠে চিম্‌টি মেরে নতুন বছরের যাত্রা হয়েছে কংগ্রেস প্রভাবাধীন ভারতীয় রাষ্ট্রশক্তির।কিন্তু কুয়াশার সাথে মিশে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের এই দুর্বল প্রতিরোধ।তচনছ হতে চলেছে পুরাতন ধাঁচের দৃষ্টিভঙ্গি।প্রতিবেশীর সাথে বন্ধুত্ব ছাড়া ভারতের জন্যে কোনই বিকল্প নেই।আমেরিকাকে এড়িয়ে চীন-পাকিস্তানের সাথে শত্রুতা বজায় রাখার বোকামি মোদীর পররাষ্ট্রনীতি করছে বলে মনে হয়না।যত বাধাই আসুক,ভারত-পাকিস্তান শান্তির আলোচনার স্রোতে গতি তীব্রতা পাবেই।

মোদীজী পাকিস্তান এবং আমেরিকার সাথে মিত্রতার নীতি চালু করেই ভারতের অগ্রগতির পথ সাজাচ্ছেন।চার দশকের ক্ষমতাধর ভিন্ন মতাবলম্বী শক্তির পক্ষে তা মেনে নিতে পারা সত্যিই কঠিন।এরই একটা প্রতিফলন হয়েছে পাঞ্জাবে।প্রকৃত বিচারে পাঠানকোটের সন্ত্রাসী নমুনাটি পাঞ্জাবি জাতির কোন অভিযান বলে মনে হয়না,পাকিস্তানী নাশকতাও নয়,এটা ভারতীয় কেন্দ্রীয় ধারার আভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রতিফলন।

ভারতীয় পাঞ্জাব আবার উত্তপ্ত হয়েছে।সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে জম্মু-কাস্মীরের সীমান্তের পথে উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের  এই  গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ।আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কিছু অস্ত্রধারী পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে আক্রমণ করেছে ইংরেজী নতুন বছর জানুয়ারীর ২য় দিন শনিবার।অপারেশন প্ল্যান দেখে মনে হয়েছে,এ যেনো নতুন বছরের কোন সামরিক স্যাবোট্যাজ।প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জানিয়েছে,আক্রমণ শুরু হয়েছিলো  ভোর ৩:৩০মিনিটে।তবে Helicopters,NSG Commandos &SWAT teams তাৎক্ষনিক প্রতিরোধ শুরু করলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ৫জন আক্রমণকারী।সংক্ষেপেই শেষ হয়ে যায় যুদ্ধ।

ভারতের প্রধান প্রধান পত্রিকার দাবী ওরা পাকিস্তানী সন্ত্রাসী জেইস-ই-মুহাম্মদ গ্রুপ। যদিও এটা তাদের সন্দেহ মাত্র।পত্রিকার ভাষ্যমতে,তাদের উদ্দেশ্য ছিলো প্রতিরক্ষাবাহিনীর স্থাপনা ধ্বংস করা।টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টে আরো দেখা যায়,সন্দেহভাজন পাকিস্তানী সন্ত্রাসী আক্রমণকারীদের ৫জন,বিমান বাহিনীর ৩জন মারা গেছে এবং ৬জন নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় ভারতের পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে এক বিবৃতিতে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে,“পাকিস্তান এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানাচ্ছে যাতে কয়েকটি মূল্যবান জীবন নাশ হয়েছে।আমরা ভারতের সরকার,জনগণ এবংক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর প্রতি হৃদয়ের গভীর থেকে সমব্যাদনা জানাচ্ছি এবং আশা করছি তারা এই আঘাত ও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে”।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিৎ দোভালের সাথে বসেছেন।বৈঠকে তিন বাহিনী প্রধান এবং প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন।বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।পাঞ্জাব কংগ্রেসের সভাপতি অমরিন্দর সিং সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করেছেন এবং দাবি করেছেন এটা অত্যন্ত পরিস্কার হয়েছে যে,পাকিস্তানী সন্ত্রাসীরাই শান্তি আলোচনা নস্যাৎকরার উদ্দেশ্যে একাজ করেছে,যা কোনভাবেই হতে দেয়া যাবেনা।

ভিজেপি জোর দিয়ে বলেছে,“একটা আক্রমণ”এর কারণেই পাকিস্তানের সাথে ভারতের আলোচনা বাতিল হতে পারেনা।সন্ত্রাসী ঘটনার রাজনীতিকিকরণ করার চেষ্টার জন্যে কংগ্রেসের নিন্দা করেছে ক্ষমতাসীন দলের বক্তব্যে।ইউনিয়ন মন্ত্রী প্রবাস জাভেদকার প্রতিবেশী দেশের সাথে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাবার প্রতিজ্ঞা পূণর্ব্যক্ত করেছেন।

নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানে নওয়াজ শরীফের বাড়ী এবং নাতনির বিয়ে অনুষ্ঠানে মেহমান হওয়া এবং নওয়াজকে পাগড়ি উপহার দেয়াসহ পাকিস্তানের সাথে শ্ত্রুতার সম্পর্ককে বন্ধুত্বে টেনে আনার এই নীতিকে ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের সাথে সংগতিহীন এবং সংঘাতময় মনে করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অনেক রিটায়ার্ড এবং চাকুরীরত কর্মকর্তা।ভারতীয় জাতীয় পত্রিকায় শত্রুতাপন্থীদের প্রতিক্রিয়াও প্রকাশ পেয়েছে।

পাঠানকোট এয়ার ফোর্স বেইজে আক্রমণের নামে এই কিছু বেকার বিকারগ্রস্থকে ব্যবহার করে তাদেরকে হত্যা করে ড্রামাটির প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে বানানো দোষারোপ গল্প দীর্ঘ করার একটা পরিকল্পনা অনুযায়ী।এতে গোয়েন্দা সংস্থার কন্ট্যাক্ট এজেন্টকে পলায়নের সুযোগও দেয়া হয়েছে সে নিজেদের লোক বিধায়।বিষয়টি মোদী-নওয়াজের আলোচনায় অগ্রগতিকে বাধা দেয়ার একটা চেষ্টা মাত্র।

পুলিশ বলেছে, এয়ার ফোর্স বেইজের হেলিকপ্টারগুলো এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি সম্পুর্ণ নিরাপদ এবং অক্ষত আছে।শুধু তাই নয়,এয়ার ফোর্স স্টেশনের টেকনিক্যাল এরিয়াটি সম্পুর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং সমগ্র এলাকা কর্ডন করা আছে। এতে কি বুঝা যায়,সন্ত্রাসীরা ঠাট্টা মস্কারী করে প্রাণ বলি দিতে এসেছিলো কোন টার্গেট ছাড়াই?

সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে ঠিকই।তবে হামলাটি সাজানো মনে হওয়াটা খুবই স্বাভাবিকি।গল্পটি হাস্যস্পদ মনে হতেই পারে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমান অগ্রগতির কালে।বাংলাদেশে কিছু দিন আগে সেনা অভ্যুত্থানের অজুহাত দিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দাদের নিয়ন্ত্রণ নিরংকুশ করার অনেক নাটক তো প্রমাণ রয়েছেই।এসব আত্ন বিশ্বাসী কর্মকর্তাগণ কেবলমাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতি মাথা অবনত রাখছেন বলে মনে হয়না।তাদের কাছে সামরিক কৌশলগত স্বার্থ অগ্রাধিকারে থাকবেই।

জম্মু-কাস্মীরের কাছাকাছি এই পাঠানকোট এয়ার বেইজ।এমন একটা সময় এই ঘটনার অবতারণা হয়েছে যাতে পাকিস্তান-ভারত শান্তি আলোচনা থেকে সবার দৃষ্টি এই দুই দেশের আগেকার শত্রুতার দিকে ফিরানো যায়।হয়তো কিছুটা মনোযোগ ফেরানো সম্ভব হয়েছেও।তবে এই দুই দেশের বর্তমান নেতৃত্ব নিশ্চয়ই কংগ্রেসি নীতিতে ফিরে যাবেন না।কেননা তারা ভালোই বুঝেন,বিশ্বপরিস্থির বর্তমান ধারায় শান্তির পথই দুই দেশের এবং দুই দেশের জনগণের নিরাপত্তার জন্যে একমাত্র বিকল্প।

ভারতের জাতীয় কংগ্রেস আমেরিকার সাথে ভিজেপির মাখামাখির সম্পূর্ণ বিরোধী।নরেন্দ্র মোদীর পাকিস্তানের সাথে অনাক্রমণ সম্পর্কের এই আঞ্চলিক চিন্তাধারা এবং বৈশ্বিক বলয়ে আমেরিকার সাথে সখ্যতা এবং সামরিক চুক্তি করাকে ব্যর্থ দেখতে চায়।মোদীজী রাশিয়ার সাথে অতীতের সকল চুক্তি অক্ষুন্ন রেখেই আমেরিকার সাথে নিরাপত্তা চুক্তিতে গেছেন এবং একই বিবেচনায় পাকিস্তানের সাথে অনাক্রমণ সম্পর্কে এসে ভারত-পাকিস্তান বিশাল অঞ্চলে সমৃদ্ধির অংশীদার হবার পথ ধরেছেন।কিন্তু দীর্ঘকালের কংগ্রেসের ফসল অনেক সরকারী কর্মকর্তা ভিজেপির বর্তমান নীতিকে বিতর্কিত করার জন্যে পরোক্ষভাবে চাপ দেয়ার উপায় খুঁজছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা ওয়াশিংটনে নিউক্লিয়ার সম্মেলনে ভারত-পাকিস্তানকেও দাওয়াত করেছে একটা মতৈক্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে।চীন সস্তায় নিউক্লিয়ার মারণাস্ত্র বিক্রয়ের যে বাজার বসিয়েছে ভারত-পাকিস্তানে উত্তেজনাকে যুদ্ধের পথে নিয়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক বেশী।চীন একাই তিন শত নিউক্লিয়ার বোমা বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতি বছর ৭টি করে উৎপাদন করতে তারা ইতিমধ্যেই বাজেট প্রস্তুত করেছে বলে চীন সরকার ঘোষণা দিয়েছে।নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটেছে গত আগষ্ট মাসে।যা চীনের মূল ভূখন্ডে ক্ষতি হয়েছে প্রচুর।এই ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিবেশী সমুদ্র এবং জনজীবনেওপাওয়া যাচ্ছে। নেপালে ইতিমধ্যে কয়েকবার ভূমিকম্প হয়েছে।সুনামীর আশংকা যেকোন মূহুর্তে।

তাই যতই ভারত-পাকিস্তান আলোচনাকে দ্বিধায় নেয়ার চেষ্টা হউক বাংলাদেশ কখনো চাইবেনা প্রতিবেশী বড় দুই পারমানবিক শক্তির দেশ পারস্পরিক শত্রুতায় থাকুক।পারমানবিক অস্ত্রের প্রতিযোগীতা উম্মুক্ত থাকুক।নরেন্দ্র মোদীর সরকার সহজেই তার দেশে আভ্যন্তরীণ স্যাবটেজ অতিক্রম করে ভারতকে প্রতিবেশীদের সাথে শান্তির বন্ধু গড়ার পথ রচনা করুক।পুরো অঞ্চলের উন্নয়নে দায়িত্বশীল অংশীদার থাকুক এবং পাকিস্তান- ভারতের  শান্তি আলোচনায় আপোষহীনতা বজায় রাখুক।ওটাই অঞ্চলের জন্যে মঙ্গল।
উল্লেখ্য,ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে নানা জাতির,নানা মতামতের অনেক অন্তর্ভূক্তি আছে।ভারতে অসন্তুষ্ট অনেক জাতি আছে যারা ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া করে।তাছাড়া আমেরিকার সাথে মোদীর সামরিক চুক্তি মেনে নিতে পারেনি এমন প্রচুর কর্মকর্তা আছেন।পাকিস্তানের কাছ থেকে ভারতকে নিরাপদ রাখতে দীর্ঘ সময় ধরে  অমূল্য জীবন দেয়া এবং বিকলাঙ্গ জীবনের উদাহরণ কম নয়।তাই অগণিত প্রতিশোধ প্রতিজ্ঞা তো থাকতেই পারে।

তাই,কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নে অভ্যস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের ভেতর পাকিস্তানের সাথে আপোষরফার চেয়ে যুদ্ধেই মীমাংসা খুঁজবার গ্রুপ নানা কারণে থাকতে পারে।এধরণের গ্রুপ নরেন্দ্র মোদীর কর্মকৌশলে ভিন্ন মতামত পোষণ করতে পারে।এমন কি গোপনে

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts