September 18, 2018

পাচার কালে ১ হাজার ৪২ বস্তা সরকারী চাল উদ্ধার, ২৪ ঘন্টায়ও মামলা হয়নি

এম লুৎফর রহমান
নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
ট্রাক ভর্তি করে বাইরে পাচারকালে লোকনাথ ভান্ডার নামে মনোহরদী শহরের একটি বেসরকারী গুদাম থেকে ১ হাজার ৪২ বস্তা সরকারী চাল উদ্ধার করা হয়েছে। যার ওজন ৫২টন ১০০ কেজি। গত মঙ্গলবার রাতে মনোহরদীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম কিবরিয়া ও মনোহরদী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব চাল উদ্ধার করে। চালের বস্তার গায়ে লেখা রয়েছে ‘সরকারী খাদ্য গুদাম’।

জানা গেছে, মনোহরদী শহরের লোকনাথ ভান্ডারের মালিক কৃষ্ণধন সাহা ও তার ভাই বিষ্ণু সাহা মনোহরদী শহরের একজন বিখ্যাত চাল ও মুদি ব্যবসায়ী। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম লোকনাথ ভান্ডার। গত মঙ্গলবার রাতে এই ভান্ডারে ট্রাক লাগিয়ে গুদাম থেকে সরকারী চালের বস্তা ট্রাকে উঠানোর সময় ঘটনাটি লোকজনের চোখে পড়ে। বস্তার গায়ে সরকারী খাদ্য গুদাম লেখা থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মনোহরদীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে মনোহরদী থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে লোকনাথ ভান্ডার রেইড করেন। তারা ভিতরে গিয়ে দেখতে পায় সেখানে সরকারী খাদ্য গুদাম লেখা সহশ্রাধিক বস্তা চাল রয়েছে। সেখান থেকে চালগুলো অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে ভর্তি করা হচ্ছে।ইউএনও শামীম কিবরিয়া তাৎক্ষনিকভাবে এ চালগুলো সিজ করেন।

পরে সেখান থেকে ট্রাকসহ মোট ১ হাজার ৪২ বস্তায় ৫২টন ১০০ কেজি চাল মনোহরদী থানায় নিয়ে রাখা হয়। লোকজনের ধারনা সরকারী গুদামের কর্তারা গোপনে গুদাম ঘাটতি দেখিয়ে এসব চাল উদ্বৃত্ত করে গোপনে লোকনাথ ভান্ডারের মালিকের নিকট বিক্রি করে থাকতে পারে। কিংবা গোডাউন থেকে গোপনে বস্তা বিক্রি করে পরে ঘাটতি দেখিয়ে চোরাই হিসেব মিলিয়ে সরকারী খাতা পুরণ করতে পারে।

এব্যাপারে লোকনাথ ভান্ডারের মালিক কৃষ্ণধন সাহার মোবাইল নাম্বারে ফোন করা হলে ফোনটি রিসিভ করেন তার ছোট ভাই বিষ্ণু সাহা। তিনি নিজেকে লোকনাথ ভান্ডারের মালিক পরিচয় দিয়ে বলেন চালগুলো টিআর এবং সোলারের চাল। তারা বিভিন্ন পার্টির কাছ থেকে চালগুলো ক্রয় করেছে। এ প্রসংগে নরসিংদীর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব চাল আমাদের নয়, সরকারী গুদামের চাল সারা দেশেই রয়েছে। লোকনাথ ভান্ডার কোথা থেকে চাল এনেছে তা তিনি জানেনা বলে জানান।

এব্যাপারে মনোহরদীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামীম কিবরিয়ার নাম্বারে ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি। মনোহরদী থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাল উদ্ধারের ব্যাপারে এখনো কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। কেন করা হয়নি এব্যাপারে এসিল্যান্ড সাহেব জানেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts