September 18, 2018

পাখির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন

218
বিশ্বে প্রথমবারের মতো দেশি-গাঙচষার গতিবিধি, আচরণ ও অবস্থান নিশ্চিত হতে পাখিটির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়েছে।

১ ফেব্রুয়ারি থেকে তরুণ পাখি গবেষক সামিউলের নেতৃত্বে একটি দেশি-বিদেশি পাখি বিশেষজ্ঞ দল নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ, দমার চর ও ভোলার চর শাহাজালাল, কুকরি মুকরিসহ উপকূলের বেশ কয়টি চরে এ স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন কাজ শুরু করে।

১০ ফেব্রুয়ারির শেষদিন পর্যন্ত দুটি দেশি-গাঙচষার পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করতে সক্ষম হয় এ বিশেষজ্ঞ দলটি।

Bhola Pic-02তরুণ এ বন্যপ্রাণী ও পাখি গবেষক সামিউল মোহসেনিন জানান, দেশি গাঙচষা পাখিটি নিয়ে বিশ্বে খুব কম গবেষণা হয়েছে। পৃথিবীতে এ পাখিটির সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি হবে না। তার মধ্যে বাংলাদেশের ভোলা ও নোয়াখালী জেলার নদী এলাকার নিঝুম দ্বীপ, দমার চর, চর শাহাজালাল, চর কুকরি মুকরিতে প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার থেকে ১২শ দেশি-গাঙচষার দেখা মিলে। এক সঙ্গে এতগুলো গাঙচষার দেখা মিলে না বিশ্বের কোথাও।

সামিউল আরও জানান, বহুদিন ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক পাখি গবেষক দেশি-গাঙচষার গতিপথ জানার চেষ্টা করে আসছিলেন। অবশেষে তিনি সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সফলভাবে দুটি দেশি-গাঙচষার পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করতে সক্ষম হন। ইতোমধ্যে সেই পাখি দুটি স্যাটেলাইট সিগ্নালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়া শুরু করেছে। এক একটি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারের মূল্য ৬ লাখ টাকা বলে জানান তিনি। আমেরিকার ‘নর্থ স্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি এ পাঁচ গ্রাম ওজনের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বাংলাদেশ বন বিভাগের এস.আর.সি.ডব্লিউপি প্রকল্পের অর্থায়নে সরবরাহ ও নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম) বাস্তবায়ন করে।

তরুণ এ পাখি গবেষক জানান, বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে দুই দিনের প্রচেষ্টায় তারা পাঁচটি দেশি-গাঙচষা ধরতে সক্ষম হন। তার মধ্যে ওজন কম থাকা ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার কারণে তিনটিকে ছেড়ে দিয়ে ২৫১ এবং ২৩০ গ্রাম ওজনের দুটি দেশি-গাঙচষার পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করেন।

Bhola Pic-03তিনি আরও জানান, গত দুই বছর চেষ্টা করে পাখিটি হস্তগত করতে পারেননি তিনি। কিন্তু এ বছর তার হাতে এসে ধরা দেয় পাঁচটি দেশি-গাঙচষা।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পাখি পর্যবেক্ষক ইনাম আল হক জানান, পাখির গতিবিধি ও অবস্থান জানতে বিশ্বে প্রথম ১৯৮৫ সালের ১৯ মার্চ আমেরিকায় একদল পাখি গবেষক পালকবিহীন একটি ঈগলের পিঠে ১৭০ গ্রাম ওজনের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করে। এরপর ২০০৮ সালের ৯ আগস্ট জার্মানের একদল পাখি গবেষক প্রথমবারের মতো সৌরশক্তিচালিত সবচেয়ে কম পাঁচ গ্রাম ওজনের একটি স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার ‘ইউরেশীয় টিকাশাহিন’ পাখির পিঠে সফলভাবে স্থাপন করে। এরপর থেকে পাখি নিয়ে গবেষণার কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যায়। ২০১০ সালে বাংলাদেশের হাকালুকি হাওরে প্রথম ১৬টি বিভিন্ন পাখির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়েছিল। তবে তরুণ পাখি গবেষক সামিউল এবছর প্রথম দেশি-গাঙচষার পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করেন। বিশ্বে এই প্রথম কোনো পাখি গবেষক এ পাখিটির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার স্থাপন করেছেন।

বন্যপ্রাণী ও পাখি গবেষক সামিউল মোহসেনিনের নেতৃত্বে গবেষক দলটিতে আরও রয়েছেন- ব্রিটিশ পাখি বিশেষজ্ঞ বিল উইলিয়াম জোন্স, স্টিফেন স্যামওরথ, টোন, শিবলী সাদিক, ওমর শাহাদাত, ইসরাত জাহান, জেনিন আজমিরি, হুমায়ারা, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, হাসান, তাইজুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts