November 15, 2018

পাকিস্তানে ‘ধর্মদ্রোহী’ কিলিং মিশনে বোরকাধারী তিন মহিলা

trgbইসলামের অবমাননার অভিযোগে এবার পাকিস্তানে এক শিয়া মুসলিমকে হত্যা করেছে বোরকা পরা তিন মহিলা। পুলিশকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিয়ালকোটে বৃহস্পতিবার এই হত্যাকান্ড ঘটেছে।

ফজল আব্বাস শিয়ালকোটের শিয়া মুসলিমদের নেতা। তিনি একজন আধ্যাত্মিক ধর্মীয় গুরু হিসেবেও পরিচিত।

নিহত ফজল আব্বাসের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে ইসলামের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এরপর তিনি পাকিস্তান ছেড়ে পালিয়ে ডেনমার্কে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি আবার পাকিস্তানে ফিরে আসেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বোরকা পরা তিন মহিলা ফজল আব্বাসের কাছে আসেন। তারা ফজল আব্বাসকে তাদের জন্য দোয়া করতে বলেন। এরপর একজন মহিলা পিস্তল বের করে সোজা তার বুকে গুলি চালান।

পুলিশ বলছে, তিন মহিলার একজন এই হত্যার জন্য অপর দুইজনকে প্ররোচিত করে। তাদের সঙ্গে কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীর কোন সম্পর্ক খুঁজে পায়নি বলে দাবি করছে পুলিশ।

কিন্তু ফজল আব্বাসের পরিবার অভিযোগ করেছেন, একটি কট্টরপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠী এই তিন মহিলাকে এই হত্যায় উস্কানি দিয়েছে। তাদের উস্কানিতেই এরা ফজল আব্বাসকে খুঁজে বের করে হত্যা করে।

নিহত ফজল আব্বাসের চাচাতো ভাই আজহার হোসেন পুলিশকে জানিয়েছেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্যই তিনি দেশে ফিরেছিলেন। স্থানীয় আদালত তাঁকে ধর্ম অবমাননার মামলায় জামিনও দিয়েছিল।

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এধরণের হত্যাকান্ড প্রায়ই ঘটে। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬৬ জনকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে বলে জানাচ্ছে সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ বলে একটি প্রতিষ্ঠান।

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে যে আইন আছে তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড।

মাত্র গতমাসেই মারদান শহরে মাশাল খান নামে এক ছাত্রকে একই অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করে জনতা। ব্লাসফেমি আইনের সংস্কারের কথা বলায় ২০১১ সালে পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্ণর সালমান তাসিরকে হত্যা করে তার দেহরক্ষী।

Related posts