September 20, 2018

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক অবনমন হচ্ছে

32

পাকিস্তানের সঙ্গে অব্যাহত টানাপড়েনের মধ্যে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক অবনমনের ইঙ্গিত মিলছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা অব্যাহতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সম্পর্ক পর্যালোচনা করছেন। পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক প্রত্যাহারের পর ইসলামাবাদে বাংলাদেশ মিশনে হাইকমিশনার পদের বাইরে একমাত্র কূটনীতিক পদটিও এখন ফাঁকা। বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একজনকে সেখানে যোগ দিতে বলা হয়েছে। তিনি সেখানে যোগ দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সোহরাব হোসেন ফিরে আসবেন। নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত তিনিই চালাবেন ইসলামাবাদ মিশন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক অবনমনের বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে
আনুষ্ঠানিকভাবে বলা না হলেও পরিস্থিতি এমনই। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করতে এসে পাকিস্তানি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের জঙ্গিবাদে উসকানি, পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়ন থেকে শুরু করে নানা অভিযোগ ওঠার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিরক্ত। এরই মধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও আদালতের রায় কার্যকরের মতো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের খবরদারি ও অতি প্রতিক্রিয়া এ দেশের জনগণ ও নীতিনির্ধারকদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

জানা গেছে, জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তান হাইকমিশন কর্মকর্তা মাজহার খান ও শেষের দিকে ফারিনা আরশাদকে বাংলাদেশের অনুরোধে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও মূল হোতারা এখনো রয়ে গেছেন। তাই বিষয়টি ঢাকার সতর্ক পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

অন্যদিকে গত ডিসেম্বরে ফারিনা আরশাদকে প্রত্যাহারের পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশি কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানায় ইসলামাবাদ। বাংলাদেশ ফারিনার অপকর্মের বিষয়ে জোরালো তথ্য-প্রমাণ দিলেও পাকিস্তান মৌসুমী রহমানের ব্যাপারে কোনো কারণই দেখাতে পারেনি। বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে আসার পর পাকিস্তান এবার সেখানে বাংলাদেশি কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের দোষ-ত্রুটি খোঁজার নামে রীতিমতো হয়রানি শুরু করেছে।

ঢাকার একটি সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে করাচিতে বাংলাদেশ মিশনের এক সদস্যের গাড়িকে সার্বক্ষণিক অনুসরণ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে বাংলাদেশ মিশনের ওই গাড়ি থেমে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণকারী গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় অনুসন্ধান করে জানতে পারেন তাঁরা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য। এর পরই বিষয়টি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে এর প্রতিবাদ জানায়। এরপর সাময়িকভাবে দৃশ্যমান নজরদারি কমলেও বাংলাদেশি কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের হয়রানির জোরালো আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতেও টানাপড়েনের প্রভাব পড়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে। আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যাসহ অতীতের অনিষ্পন্ন অনেক বিষয় ওঠে বিধায় নানা ছুতায় পাকিস্তান এ ধরনের বৈঠক এড়াতে চায়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts