September 19, 2018

পাওনা টাকা চাওয়ার অপরাধে খুন, তারপর লাশ গুম!

শামসুজ্জোহা পলাশ,
চুয়াডাঙ্গা থেকেঃ
চুয়াডাঙ্গায় পাওয়া টাকা চাওয়ার অপরাধে রশিদুল ইসলাম (৩৪) নামে এক ভ্যান চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত ২টার দিকে হত্যাকারী দুই আসামীর স্বীকারোক্তিতে পুলিশ সদর উপজেলার সরিষাডাঙ্গা গ্রামের জি কে ক্যানালের পাশ থেকে মাটি চাপা দিয়ে রাখা নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত রশিদুল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

নিহতের বড় ভাই আশাদুল জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে একজন ফোনে রশিদুলকে ডাকলে সে তার পাখি ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। ভাইয়ের সন্ধান চেয়ে মঙ্গলবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ জিডি করি।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার দশ মাইল বাজারে নিখোঁজ রশিদুলের ভ্যান বিক্রি করতে গেলে স্থানীয় জনতা আলমডাঙ্গা উপজেলার বলিয়ারপুর গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে শাহাবুল ও সোনাপুর গ্রামের আশাদুল মন্ডলের ছেলে রুহুলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তোজাম্মেল হক জানান, আটককৃত দুই জনকে সদর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তারা রশিদুলের হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে লাশের সন্ধান দেয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদর উপজেলার সরিষাডাঙ্গা গ্রামের জিকে ক্যানালের পাশ থেকে মাটিতে পুতে রাখা রশিদুলের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে ঘাতক শাহাবুল জানায়, গত চার মাস আগে নিহত রশিদুলের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিই।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় রশিদুল আমাকে অকথ্য গালাগালি করে। এরপরই তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিই। সোমবার রাত ৮টার দিকে তাকে ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিই। এরপর সে সরিষাডাঙ্গা গ্রামের জি কে ক্যানালের কাছে আসলে আমি ও রুহুল তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করি। হত্যার পর লাশ ক্যানালের পাশে মাটি খুঁড়ে পুতে রাখি।

রাতেই পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। বুধবার লাশের ময়না তদন্ত করা হবে। একই সাথে ঘাতক দুই জনকে আদালতে সোর্পদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Related posts