November 15, 2018

পাঁচ বছর বয়সেই কোরআনের হাফেজ হলেন মিয়ানমারের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী

বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারে জন্ম নেওয়া পাঁচ বছর বয়সী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক শিশু কোরআনে কারিমের হাফেজ হয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন। হোসাইন মুহাম্মদ তাহের নামের এই শিশু আরবি ভাষা না জানলেও পুরো কোরআন মুখস্থ করেছেন। মুহাম্মদ তাহের বর্তমানে সৌদি আরবের জেদ্দায় বাবা-মার সঙ্গে বসবাস করছেন। জেদ্দায় বসবাস করলেও মুহাম্মদ তাহের আরবি ভাষা বলতে পারেন না।

মসজিদের নববীর জিয়ারতকারীরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তাহেরের কোরআন তেলাওয়াত শুনে প্রশংসা করেছেন। মসজিদে নববীর কোরআন শিক্ষক আসলাম কোরেশি তার কোরআন মুখস্থের পরীক্ষা নিয়েছেন। পরীক্ষকের সামনে হোসাইন নির্ভুলভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে সক্ষম হয়।

মুহাম্মদ তাহেরের এই অনন্য কীর্তি প্রসঙ্গে তার পিতা বলেন, হোসাইন কোরআন মুখস্থের পাশাপাশি কিছু হাদিস ও প্রয়োজনীয় দোয়া মুখস্থ করছে। তার এই মুখস্থ করার পেছনে রেডিও কোরআনের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। সে রেডিও শুনে শুনে এগুলো মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে।

হোসাইনের পিতা আরও বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য পরিবার ছেড়ে আমি অনেক দূরে থাকি। হোসাইন জন্মান্ধ ও একটি আঙুল কম নিয়ে জন্ম নিয়েছে। তার জন্মের খবর আমাকে দেওয়ার সময় সবাই ভেবেছিলেন, এমন সন্তানের খবর শুনে আমি অসন্তুষ্ট হবো। বিশ্বাস করুন, আমি তখন শুধু বলেছিলাম, এটা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার এবং আল্লাহ আমাকে যে উপহার দান করেছেন, আমি তা ফিরিয়ে দিতে পারবো না। আমি নিজেকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে পুরোপুরি সমর্পণ করে দেই। তবে আমি সবসময় চাইতাম যে, হোসাইন কোরআনের হাফেজ হোক, ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করুক। এ জন্য একটি রেডিও ক্রয় করি এবং হোসাইনের শোনার জন্য সেটিকে কোরআনের চ্যানেল সেট করে দেই। এভাবেই শুরু হয় তার কোরআন মুখস্থের পালা। আল্লাহর কাছে আমার হাজার শোকরিয়া।

হোসাইনের এমন বিরল প্রতিভা দেখে তাকে মসজিদে নববী সংলগ্ন কোরআন শিক্ষাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ওই কোরআন শিক্ষাকেন্দ্রে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য নিয়মিত কোরআন চর্চার পাশাপাশি, আরবি ভাষা ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।

-অনইসলাম অবলম্বনে

Related posts