September 23, 2018

পাঁচদোনায় আ’লীগের এক গ্র“পকে হটিয়ে আরেক গ্র“পের চাঁদাবাজী!

এম লুৎফর রহমান
নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
নরসিংদীর অন্যতম গ্রোথ সেন্টার পাঁচদোনার মোড়ে গণপরিবহনে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজী শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের পুরনো গ্র“পকে হটিয়ে দিয়ে নতুন গ্র“প মোড় দখলে নিয়ে এখন অবাধে চাঁদাবাজী চালাচ্ছে। নেতৃত্বের হাত বদল হবার পর চাঁদাবাজদের খপ্পর থেকে কোন যানবাহনই রেহাই পাচ্ছে না। বাস, ট্রাক, সিএনজি, ইজিবাইক, মাইক্রোবাস ও হলারসহ সকল প্রকার যানবাহন থেকে প্রতিদিন জোরপূর্বক লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজরা ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। আর এই চাঁদাবাজীর ঘটনা নিয়ে পুরনো চাঁদাবাজ গ্র“প ও নতুন চাঁদাবাজদের চলছে মারাত্মক দ্বন্দ্ব। যখন তখনই ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের উষ্কানীমূলক ঘটনা।

জানা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনার মোড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এর আশেপাশে রয়েছে বিভিন্ন শিল্প কারখানা, পাঁচদোনা বাজার, স্কুল এবং ৪টি রাস্তার সংযোগস্থল মিলিয়ে এলাকাটি একটি বিশাল গ্রোথ সেন্টারে পরিনত হয়েছে। সিলেটসহ দেশের উত্তর পূর্বা লের প্রায় সকল গণপরিবনই পাঁচদোনা মোড় হয়ে গন্তব্যস্তলে যাতায়াত করতে হয়। পাঁচদোনার মোড় থেকে পাঁচদোনা-ঢাকা, পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল-ঢাকা ভায়া টঙ্গী, পাঁচদোনা-চরসিন্দুর এবং পাঁদোনা-নরসিংদী-শিবপুর, মনোহরদী, ভৈরব, ব্রাহ্মনবাড়ীয়া ও সিলেটসহ বহুসংখ্যক রুটে যাত্রীবাহী বাস থেকে শুরু করে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করে।

বিএনপি শাসন আমলে এখানকার কিছু রাজনৈতিক এবং শ্রমিক সংগঠণের নেতাকর্মী বিভিন্ন পরিবহনে সমিতির নামে চাঁদাবাজী করতো। বিএনপি সরকার চলে যাবার পর মোড়ে চাঁদাবাজী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পূনরায় চাঁদাবাজী শুরু হয়।

বর্তমান বছরের জুলাই মাসের পূর্বে মোড়ের কিছু অংশ শ্রমিক সংগঠন ৪৯৪’র সভাপতি শ্রমিকলীগ নেতা জাকির হোসেন, কিছু অংশ পাঁচদোনার পোশাকী লোক ও কিছু অংশ আওয়ামীলীগের সর্মথক আঃ অহিদ মিয়া এবং অপর শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী আলম সহ যৌথভাবে পরিবহন থেকে সীমিত আকারে চাঁদা আদায় করত বলে জানা যায়। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেহেরপাড়া ও পাঁচদোনা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা মনোনীত হলে মূল দল ও সহযোগেী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রমিকলীগসহ সকল সংগঠনকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করে মোড়কে তাদের নিয়ত্রনে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।

এরই অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই পাঁচদোনায় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্ধ একত্রিত হয়ে এক রুদ্বদার বৈঠকে মিলিত হয়। পরে গত ১৭ জুলাই আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে পূর্বের নিয়ন্ত্রনকারীদের হটিয়ে দিয়ে তারা নিয়ন্ত্রন গ্রহণ করে। ঐদিন থেকেই বেপরোয়া চাঁদাবাজী শুরু হয়। বর্তমানে চাঁদাবাজদের হাত থেকে অটোরিক্সা সহ কোন পরিবহনই রক্ষা পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন চাঁদা আদায়ের জন্য নতুন লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সন্ধার পর চাঁদাবাজীর সব টাকা স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ সভাপতির নিকট জমা করা হয়। পরে সেখান থেকে ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে যার যার পকেটে চলে যায়।

স্থানীয় আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতার প্রত্যক্ষ পরোক্ষ নির্দেশে এই বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারনে পরিবহন মালিকসহ স্থানীয় জনগনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের স ার হয়েছে। চাঁদাবাজীর ঘটনা নিয়ে যে কোন সময়ই পাঁচদোনার মোড়ে বড় ধরনের কোন অঘটন ঘটার আশংকা করছে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ।

এব্যাপারে পাঁচদোনা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান ও মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা পাঁচদোনা মোড়ের চাঁদাবাজীর সাথে তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন এবং প্রশ্ন করেন, চেয়ারম্যান হয়ে তারা কিভাবে চাঁদাবাজী করবে। পাঁচদোনা মোড়ে চাঁদাবাজী হয় কিনা প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, চাঁদাবাজী হয় না। তবে এখানকার শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের সংগঠনের স্বার্থে এখানে কাজ করে।

Related posts