September 24, 2018

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের ফল কার পক্ষে, মমতা না সূর্যকান্তের

দিল্লিঃ  আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপর অবসান প্রতীক্ষার। আজ বৃহস্পতিবার জানা যাবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গের মসনদ মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস? নাকি সি পি এম পরিচালিত বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটের দখলে থাকবে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে দুপুরের মধ্যেই। নির্ধারিত হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, কংগ্রেস নেতা মানস ভূইয়ার ভাগ্য। জনরায় পক্ষে আছে কি না জানতে পারবেন কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ও।

ভারতীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হবে গণনা। ৭ দফার নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৫ কোটি ৪২ লাখেরও বেশি ভোটার। যে দলই ক্ষমতায় আসুক কম-বেশি পেতে হবে আড়াই কোটি ভোট। তবেই ১৪৮ আসন পেয়ে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব। ভোট পরবর্তী অধিকাংশ সমীক্ষায় ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে এগিয়ে রাখলেও তাতে আমল দিতে রাজি নয় বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট। তাদের বক্তব্য শেষ কথা বলবেন মানুষই।

খুব যে নিশ্চিন্তে নেই তৃণমূল শিবির তা তাদের নেতাদের কথাবার্তাতে স্পষ্ট হচ্ছে। তৃণমূল শিবির বলছে, তারা অন্তত ১৫৭ আসন পাবেই, আর বামেরা ১৩০। পাল্টা বাম-কংগ্রেস জোট শিবির বলছে তারা ১৫০ পাবেই। তৃণমূল নেমে যাবে ১৩৫ আসনে। অন্যদিকে বি জে পি শিবির বলছে পরিস্থিতি এমন হতেই পারে যে তৃণমূল সরকার গড়তে শেষ পর্যন্ত তাদের দারস্থ হবে। তবে গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, তৃণমূল সর্বোচ্চ ১৫৫ আসন পেতে পারে। জোট থাকবে ১৩০ থেকে ১৩৫ আসনের আশপাশে। আর ভোট যদি জোটের পক্ষে ২ শতাংশ বেশি সুইং করে তাহলে তৃণমূল নেমে যাবে ১২০ আসনের আশপাশে।

২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল আর জাতীয় কংগ্রেসের জোট পেয়েছিল ২২৭ আসন। এর মধ্যে তৃণমূল একাই ১৮৪। যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংখ্যার চেয়ে যথেষ্টই বেশি। জাতীয় কংগ্রেস ৪২ আর আরেক জোট সঙ্গী এস ইউ সি ১টি আসন পেয়েছিল। বিরোধী বামফ্রন্ট জোট পেয়েছিল মাত্র ৬২ আসন।

এবার পরিস্থিতি বিপরীত। তৃণমূলের গতবারের জোট সঙ্গী জাতীয় কংগ্রেস এবার রয়েছে বামফ্রন্টের জোটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, এবার প্রবল মমতা হাওয়া নেই। নেই মোদি হাওয়াও। ২০১১ সালের বিধানসভা কিংবা ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই দুই প্রবল হাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে উড়ে গিয়েছিল সি পি এম পরিচালিত বামফ্রন্ট। ওই দু’বার যথাক্রমে ৪০ এবং ৩০ শতাংশ ভোট পেলেও মাত্র কয়েকটি আসন পেয়েই তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। এবার ভোট হয়েছে গত ৫ বছরে মমতার সাফল্য আর তার ব্যর্থতার খতিয়ানের প্রেক্ষিতে। সঙ্গে ছিল মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নও। সব মিলিয়ে বাংলার জনতা রায় দিলেন কোন দিকে। তা জানতে অপেক্ষা করতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৮ মে ২০১৬

Related posts