September 22, 2018

পলিথিনমুক্তির অনুষ্ঠানে পলিথিনে মোড়ানো তোড়া!

পলিথিনমুক্তির অনুষ্ঠানে পলিথিনে মোড়ানো তোড়া!
আগারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে পলিথিন ব্যবহার না করার অঙ্গীকার করে পলিথিন জমা দেন ব্যবসায়ীরা। একই মঞ্চে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয় নিষিদ্ধ পলিথিনে মোড়ানো ফুলের তোড়া।

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের একটু পাশে মমতা বহুমুখীর বাজার। সেখানে আগে থেকেই ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে, প্যান্ডেল সাজিয়ে, পাওয়াফুল সাউন্ড সিস্টেমের আওয়াজে গতকাল রবিবার বিকেলে শুরু হয় অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি এসে মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পেছনের ব্যানারে লেখা ‘পলিথিনমুক্ত বাজার ঘোষণা অনুষ্ঠান’। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছ উল আলম মণ্ডল। মহাপরিচালক থেকে শুরু করে মঞ্চের সবাইকেই দেওয়া হলো ফুলের তোড়া। প্রথমে স্থানীয় মমতা বহুমুখী বাজার কমিটির নেতারা ফুল

দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের। পরে মহাপরিচালকের ইশারায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একইভাবে ফুল তুলে দেন বাজার কমিটির নেতাদের হাতে। আর এসব ফুলের তোড়ার সবটাই মোড়ানো ছিল পলিথিনে, যা দেখে শ্রোতা-দর্শক হিসেবে উপস্থিত মমতা বহুমুখী বাজারের সাধারণ বিক্রেতারা শুরু করে দেয় কানাঘুষা। একই সময় মঞ্চের ঠিক পেছনেই একাধিক দোকানে পলিথিনের ব্যাগে ঝুলতে দেখা যায় নানা পণ্য।

অনুষ্ঠান চলাকালেই একজন বিক্রেতা পলিথিনে মোড়ানো ফুলের তোড়া দেখিয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই দেখেন কাণ্ড! পলিথিনমুক্ত করার অনুষ্ঠানে নিজেরাই মঞ্চে বসে পলিথিনে প্যাঁচানো ফুল নেওয়া- দেওয়া করে, আর পাবলিকরে সবক দেয়।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছ উল আলম মণ্ডল বলেন, এর আগেই একাধিকবার বিভিন্ন হাট-বাজারে পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে, পলিথিনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী সময় বিষয়টি সঠিকভাবে মনিটরিং না থাকার কারণে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের অসহযোগিতা ও বাধার ফলে ওই কার্যক্রম ভেস্তে যায়। এ জন্য আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। বিশেষ করে কেবল বিক্রেতাদের ওপর দোষ না চাপিয়ে ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হতে হবে। কারণ দুই দিকেরই একই দোষ।

তিনি বলেন, এই বাজারকে পলিথিনমুক্তকরণের ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে সব বাজারকেই এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। প্রথমে মনিটরিং, সচেতনতা ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ থাকবে। পরবর্তী সময় প্রয়োজনে অভিযান চালানো হবে। তাই সবার কাছে আহ্বান থাকল যাতে অন্ততপক্ষে পলিথিনমুক্ত বাজার ঘোষণার পর এই বাজারে আর কেউ পলিথিন ব্যবহার-সরবরাহ না করেন। এমনকি এখানকার ক্রেতারাও যেন পলিথিন ব্যাগ বহন না করে চটের ব্যাগ ব্যবহার শুরু করেন।

মমতা বহুমুখী বাজার কমিটির নিরীক্ষক আব্দুল খালেক ভূঁইয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, কেবল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; কিন্তু আমরা ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখি না। আমাদের আহ্বান দোকানদারদের পাশাপাশি কেউ পলিথিন ব্যাগে কোনো পণ্য বহন করলে পথেঘাটে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মহানগর) ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন একই অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) শাহাদাত হোসেন, আরেক পরিচালক তৌফিকুল আরিফ, মমতা বহুমুখী বাজার কমিটির সহসভাপতি মনির হোসেন মাস্টার, গ্রিন সেভার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসান রনি।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে কিছু পরিমাণ পলিথিন প্যাক পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের হাতে তুলে দিয়ে ওই বাজারে আর তাঁরা পলিথিনের ব্যাগ বিক্রি-বিতরণ না করার অঙ্গীকার করেন। এ সময় তাঁদের হাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পাটের ফ্রেমে তৈরি ঘড়ি উপহার দেওয়া হয়।

পলিথিনে মোড়ানো ফুলের তোড়া কেন নিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মহানগর) ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘এটা আসলে অসাবধানতাবশত হয়েছে। বিব্রতকর বিষয়টি এড়ানো যেত যদি আমরা আগে খেয়াল করতে পারতাম।’

Related posts