December 19, 2018

পলাশীতে যুদ্ধের নামে প্রহসন হয়েছিল

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া
যে জাতি ইতিহাস জানে না, তাদের মতো দুর্ভাগা আর কেউ আছে বলে মনে হয় না। আমরা সবাই বলি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে, অথচ কেউ আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না। আমাদের সবারই পলাশী থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত। পলাশীর ট্র্যাজেডির জন্য যতটা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি দায়ী ঠিক ততটাই নবাবের কাছের লোকেরাও দায়ী।

১৭৫৭ সালে মুর্শিদাবাদের পলাশীর প্রান্তরে কোনো যুদ্ধ হয়নি, হয়েছিল যুদ্ধের নামে প্রহসন। পলাশীতে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয়েছিল শুধুমাত্র যার যা দায়িত্ব তা পালন না করার কারণে। এবং সিরাজ-উদ-দৌলার মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সীমাহীন লোভ-দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের কারণে। সেদিন মীরজাফর নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু তার ওপর প্রদত্ত দায়িত্বও পালন করেননি। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা সবাই শাসক গোষ্ঠীর অংশ ছিল। পলাশীর বিপর্যয় তখনই ঘটেছিল যখন অর্থনীতির উপর থেকে তৎ্কালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে গিয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যের নামে এদেশে প্রবেশ করে অবশেষে দেশের স্বাধীনতা হরণ করেছিল। বাণিজ্যের নামে কেউ যেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে না পারে সে ব্যাপারে বর্তমান সরকারসহ সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সজাগ থাকতে হবে।

দিল্লির শেষ সম্রাট যেমন বাহাদুর শাহ্ জাফর, ঠিক তেমনই ভারতের প্রাণকেন্দ্র বঙ্গদেশের শেষ নবাব ছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলা। ১৭৫৭ সালে ইংরেজ ও তাদের দালালদের চক্রান্তে নবাবকে ধ্বংস করা হয়। সেই সঙ্গে তার জীবনের মহত্ব-নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা ও বীরত্বকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়। আর ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে নিজের দেহের সমস্ত রক্তবিন্দু দিয়ে যিনি বাংলার মাটিকে রক্তে রঞ্জিত করলেন তার ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র রক্ষার জন্য সামান্যতম চেষ্টার পরিবর্তে, অপচেষ্টা করা হয় অসামান্য। বাংলার স্বাধীনতার সূর্যকে পরাধীনতার গ্লানিতে কবর দেয়ার সব পরিকল্পনা যখন চূড়ান্ত প্রায় ঠিক সেই সময় ১৭৫৭ সালের ১৩ জুন রবার্ট ক্লাইভ মাত্র তিন হাজার দু’শত সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেন। ১৯ জুন নবাবের অধীনস্থ কাটোয়া ক্লাইভের দখলে চলে যায়। ২২ জুন গঙ্গা পার হয়ে ক্লাইভ মধ্য রাত্রিতে নদীয়া জেলার সীমান্তে পলাশীর প্রান্তরে পৌঁছান। নবাবের প্রচুর সুদক্ষ সেনা আগে থেকেই তৈরি ছিল। ক্লাইভের তবুও ভয় ছিল না, কারণ তিনি জানতেন এ যুদ্ধ-যুদ্ধ নয়, যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা পুতুল খেলার শামিল। আগে থেকেই পরিকল্পনা পাকাপাকি। মীরজাফর আলী খাঁ, উমিচাঁদ, রায়দুর্লভ, জগেশঠ প্রভৃতির সাজানো সেনাপতি আজ ভিতরে ভিতরে ক্লাইভের পক্ষে।

ক্লাইভের সৈন্য যেখানে মাত্র তিন হাজার দু’শত সেখানে নবাবের সৈন্য ছিল পঞ্চাশ হাজার। কিন্তু, মীরজাফর, রায় দুর্লভসহ অন্য সেনাপতিরা পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে ছিল, আর ইংরেজদের আক্রমণ ও গুলির আঘাতে নবাবের সৈন্যরা আত্মহত্যার মতো মরেছিল। ওই অবস্থায় অবশ্য নবাব, দেশ ও জাতির জন্য ক্ষুদ্র শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল মীর মদন, মোহন লাল আর সিনফ্রেককে সঙ্গে নিয়ে। বীর বিক্রমে যুদ্ধ করে সেদিন মাতৃভূমির জন্য শহীদ হয়েছিল মীর মদন। যুদ্ধ নামক নাটকের মাধ্যমে সেদিন পলাশীর প্রান্তরে সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয়ের পাশাপাশি বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। অন্যদিকে পরাজয়ের পর নবাবকে হত্যা করা হয়েছিল নির্মমভাবে। বাংলার বিশ্বাসঘাতক সন্তানরা এটা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল যে, পলাশীর প্রান্তরে সিরাজ-উদ-দৌলার পরাজয় শুধু মাত্র নবাবের পরাজয় নয়, পরাজয় বাংলার-পরাজয় সমগ্র ভারতের। আর ওই জয় ইংরেজ ও ইংল্যান্ডের।

পলাশীর যুদ্ধ সম্পর্কে ভারতের বিখ্যাত লেখক শ্রী নিখিনাথ রায় লিখেছেন, ‘অষ্টাদশ শতাব্দীর যে ভয়াবহ বিপ্লবে প্লাবিত হইয়া হতভাগা সিরাজ সামান্য তৃণের ন্যায় ভাসিয়া গিয়াছিল এবং মীর জাফর ও মীর কাশিম ঊর্ধ্বক্ষিপ্ত ও অধঃক্ষিপ্ত, কেউবা অন্তত নিদ্রায়-কেউবা ফকিরী অবলম্বনে নিষ্কৃতি লাভ করেন। জগৎ শেঠগণের ক্রোধ ঝটিকা সেই তুফানের সৃজনের মূল।’

ঐতিহাসিক শ্রীঘোষও তার ইতিহাসে লিখেছেন, ‘আজকের যে কোনো বালকও বুঝিতে পারে যে পলাশীর যুদ্ধ, শুধু যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার মতো অভিনয় ছাড়া কিছু নহে।’

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সম্পর্কিত ইতিহাস, সাহিত্য, নাটক, গ্রামোফোন রেকর্ড ও সিনেমা সবকিছুতেই কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই সব অপবাদ মিথ্যা হিসাবেই প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের দেশে সাম্রাজ্যবাদ-ব্রাহ্মণ্যবাদ আর আধিপত্যবাদের দালালির দলে যারা যোগ দিয়েছিলেন এবং বংশানুক্রমে এখনো সে দালালিতে লিপ্ত তারা আজও নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে ভারতের কিংবা বাংলার স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের সম্মানে ভূষিত করেননি এবং এখনও করতে চায় না। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সম্রাট আওরঙ্গজেবের ন্যায় ইসলামের পূর্ণ প্রতীকও যেমন ছিল না, তেমনই সম্রাট আকবরের মতো স্বধর্মের নিপাত সাধনে অগ্রগামী নায়কও ছিলেন না। বরং তাকে ধর্মভীরু বলার পথে কোনো বাধা নেই। কেননা যখন তিনি বন্দি তখন তার কক্ষে মহম্মদী বেগ তাকে হত্যা করতে এলে তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়ার সময় চেয়েছিলেন।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয় নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার ইতিহাসের ভিলেন শুধু যেন মনে হয় মুসলমান মীরজাফরের কথা, যেন প্রমাণ হয় মুসলমান জাতি মানেই বিশ্বাসঘাতক জাতি। তাই আজ মুর্শিদাবাদ জেলা ও মুসলমান জাতি পর্যন্ত বাংলার বাতাসে যেন কলঙ্ক, কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস এই কথাই বলে, ইংরেজদের বিরুদ্ধে যে স্বাধীনতার আকাশ ধোঁয়া অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হয়েছিল তা মুসলমানদের হাতেই। সিপাহি বিদ্রোহ তাঁর জ্বলন্ত প্রমাণ। আজ যেমন মীরজাফর ও ঘষেটি বেগমের কথা বারবার করে বলা হয়, তেমন জগৎ শেঠ, রায় দুর্লভ, উমিচাঁদদের কথা কেন বারবার বলা হয় না ? এ প্রশ্নটি আজ সবার মনে। ইংরেজরা যখন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পিঞ্জিরাবন্ধি পাখির মতো বন্দি করেছিল তখন সিরাজের সমস্ত চাকর-চাকরানী আর নবাবের ছিল না বরং ইচ্ছার বিরুদ্ধেও ক্লাইভ আর ওয়াটসেনর হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছিল।

এমতাবস্থায় ইতিহাসে মুসলিম চরিত্রকে কলঙ্কিত করার পরিকল্পিত বুদ্ধিতেই নবাবের সাহায্যপুষ্ট মোহাম্মদী বেগকেই আদেশ করা হয়েছিল নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে হত্যা করতে। মোহাম্মদী বেগ তাতে রাজি না হওয়ায় তারও প্রাণদন্ড দেয়া হবে বলে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল। তখন অনন্য উপায় নিরক্ষর-বোকা মোহাম্মদী বেগ অশ্রু সংবরণ করেও মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল। যদি মহম্মদী বেগ শিক্ষিত জ্ঞানী হতো তাহলে ইংরেজদের আদেশ প্রত্যাখ্যান করে নিজের প্রাণদন্ডকেই অমৃত জ্ঞানে বরণ করে মীর মদন আর মোহন লালের মতো ধন্য হতে পারত। নবাব যখন একটু অসহায়ের মতো বেঁচে থাকার আবেদন করেছিল তখন মহম্মদ বেগ একথা বলেনি যে, আমরা তা দেব না। বরং তার ভাষাতে হৃদয়ের অবধারিত প্রেমধারাই প্রবাহিত হয়েছিল, ‘না তাঁরা তা দেবে না’। এই তারা কারা?

যাই হোক, সেদিন নবাবকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার মৃতদেহকে একটি বস্তায় ভরে হাতীর পিঠে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। নবাবের স্ত্রী, মা এবং অনেক আত্মীয়রাও তখন ছিলেন বন্দি। তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তারা আলীবর্দি খাঁর বিখ্যাত আম খেতে চান কিনা। অশ্রুসজল নয়নে তারা ইঙ্গিতে সম্মতি দিয়েছিলেন। তারপর করুণার জীবন্ত ছবি ইংরেজ কর্মচারীর আদেশ অনুযায়ী অর্ধভর্তি আমের বস্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছিল। নবাব পরিবারের সমস্ত মহিলার পক্ষ থেকে একজন বস্তার মুখ খুলতেই দেখতে পেলেন ভেতরে আমও নেই বা অন্য কোনো খাদ্যবস্তুুও নেই, আছে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বীভৎস কাঁচা কাটা মাথা। নবাব যেন তার গর্ভধারিণী মার সঙ্গে শেষ দেখা করতে এসেছেন। নবাবের হতভাগী মা প্রিয় পুত্রের মুখের দিকে এক পলক তাকাতেই অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়লেন। সম্বিত্ ফিরে এলে মীর জাফরের অনুচর গোলাম হোসেনের আদেশে তাকে পুনরায় কারারুদ্ধ করা হয়। এদিকে জয়নাল আবেদিন নামক এক দরিদ্র নাগরিকের অনুরোধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার খন্ডিত দেহকে ভাগীরথী নদীর পাড়ে খোসবাগ নামক বাগানে নানাজান নবাব আলিবর্দী খাঁর কবরের পূর্বপার্শ্বে সমাধিস্থ করা হলো। আবার মৃত নানা ও নাতীর এক ঐতিহাসিক মিলন হয়েছিল মৃত্যুর পরেও। এ প্রসঙ্গে বর্ধমান জেলার এক কবির কিয়দংশ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরছিল ঃ-

‘আলিবর্দীর কবরের ছায়া সূর্যাস্তের সনে, ধীরে ধীরে পড়ে সিরাজের গোরে। দেখি ভাবি মনে

আজো বুঝি দাদু ভোলে নাই তারি স্নেহের দুলালটিরে, আজো বুঝি তারে দুটি বাহু দিয়ে রেখেছে সোহাগে ঘিরে।’

পলাশীর পর ইংরেজরা ক্লাইভকে নিয়ে গর্ব করত, কি বাহাদুরি আর বীরত্ব না তিনি দেখিয়েছিলেন পলাশীর প্রান্তরে। বিলেতি সাহেবদের বিলেতি বীরত্বের ইতিহাস বিলেতে চির স্মরণীয় করে রাখার জন্য পলাশীর আমবাগানে শেষ শুষ্ক আম গাছটির মূল উপড়ে নেয়া হয়েছিল ১৮৭৯ সালে। তারপর সগর্বে তা বহন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিলেতের মাটিতে। দেশবাসীর দেখার তৃপ্তি মিটে যাওয়ার পর ১৮৮৩ সালে শ্বেত মার্বেল পাথরে জয়স্তম্ভ¢ স্থাপন করা হয়েছিল। ক্লাইভ মিথ্যা সম্মানের যে বুদবুদ নির্মিত গগনচুম্বি অট্টালিকা তৈরি করেছিলেন কিছুদিন পরে সামান্য সূর্যালোকে তা শেষ হয়ে গেল। প্রকাশ হয়ে গেল ভিতরের তথ্য, নানা গুপ্ত দোষ হয়ে গেল প্রকাশিত। তাই হয়তো ক্লাইভের শেষ পরিণতি হলো রক্তাক্ত মৃত্যু। অর্থাৎ কাপুরুষের মতো নিজের কণ্ঠে কলুষিত হস্তে ধারালো ক্ষুর ধরে শ্বাসনালী কেটে আত্মহত্যার কলঙ্ক নিয়ে ইতিহাসের পাতায় আত্মগোপন করার চেষ্টা করলেন।

পলাশীর পতন ছিল একটি জাতিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ করার প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। পলাশীর আম্র কাননে বাংলার স্বাধীন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর বিদেশি ও দেশীয় বেনিয়াদের যোগসাজশে যে লুটপাটের রাজত্ব শুরু হয়, ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। পলাশীর যুদ্ধে সিরাজ-উদ-দৌলার পতন কোনো একক ব্যক্তির পতন ছিল না, এটি ছিল একটি স্বাধীন জাতির পতন। পলাশীর বিপর্যয় তখনই ঘটেছিল যখন অর্থনীতির উপর থেকে তৎ্কালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে গিয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যের নামে এদেশে সে দেশের আলো হাওয়ায় প্রতিপালিত একশ্রেণীর বেনিয়াদের গভীর চক্রান্তের ফসল। পলাশীর ইতিহাস ব্যর্থতার ইতিহাস, নিছক নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার নবাবী হারানোর ব্যর্থতা সেটা নয়। সেটি স্বাধীনতা রক্ষার ব্যর্থতা।

পলাশীর মতো আজও বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে চলছে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত। প্রতিবেশী রাষ্ট্র বন্ধুবেশে বাংলাদেশকে পরিণত করতে চাচ্ছে করদরাজ্যে। আর তাদের এদেশের এজেন্টরা দেশের ভেতর থেকে তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ মাথা সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি, ভারতের অব্যাহত আগ্রাসনের কারণে। ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিণত করেছে, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সিলেটসহ পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলকেও মরুভূমিতে পরিণত করতে চাচ্ছে। তিস্তার পানি পাচ্ছি না। প্রতিনিয়ত সীমান্তে হত্যা করছে আমাদের ভাই-বোনদের। ফেলানীরমত লাশ ঝুলিয়ে রাখেছে। আর তাদের চক্রান্ত সফল করতে সরকার ও সরকারের বাইরেও বিরোধী দলগুলোর ভিতরে লুকায়িত দালালরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যেমন সরকার নিজে এবং অন্যদিকে  বিরোধী দলের ভিতর লুকায়িত দালালরা যেমন কাজ করে যাচ্ছেন তেমনই এদেশের ভারতীয় পা-চাটা বুদ্ধিজীবীরাও কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে-নিভৃতে। লেখালেখি করে ভারতের স্বার্থের পক্ষে জনমত সৃষ্টিরও কাজ করছেন তারা।

শুধু পানি আগ্রাসনই নয়, বন্ধু রাষ্ট্র ভারত আমাদের উপর চালাচ্ছে আকাশ আগ্রাসন, সীমান্ত আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। তাদের এই অব্যাহত আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে না পারলে বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় ঐতিহাসিক পলাশীর ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, পতাকা-মানচিত্র, স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষায় সব দেশপ্রেমিক-গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যেবদ্ধ লাড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখতে হবে, বিভক্ত শক্তি যত দেশপ্রেমিকই হোক না কেন, তারা বিজয়ী হতে পারে না। আর বিজয়ী হতে ব্যর্থ হলে পরিণতি হবে পলাশীর পরবর্তী অবস্থার মতো।

(লেখক : রাজনীতিক ও কলামিস্ট, মহাসচিব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ)

Related posts