November 17, 2018

ইটভাটাগুলোতে অবাধে পোড়ানে হচ্ছে কাঠ : উজার হচ্ছে বনজ সম্পদ

zakir pic

তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার ইটভাটাগুলোতে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। উজাড় হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ সম্পদ। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। সরকারি ভাবে ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো সম্পূণ নিষিদ্ধ। ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯২-এর বিধান অনুযায়ী ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো আইন অমান্যকারীদের বিররুদ্ধে ১০ বছর জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডের বিধান থাকলেও তা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। পলাশবাড়ির ইটভাটার মালিকরা শর্ত অনুযায়ী দেড় একর জমিতে ইটভাটা স্থাপনের কথা থাকলেও ইটভাটার মালিকরা ৩ থেকে ৫ একর জমি ব্যবহার করছেন।

উপজেলার ৯ ইউনিয়ন সহ আশপাশ এলাকায় অসংখ্য ইটভাটা কৃষি জমির উপর গড়ে উঠেছে। কৃষি জমির উপরে ইটভাটা তৈরী বিধি নিষেধ থাকলেও কিভাবে এইসব ইটভাটা দিন দিন গড়ে ওঠছে তা প্রশ্নাতীত। লক্ষ্য করা গেছে এসব ভাটা গুলোতে ২৪ ঘন্টা কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছে। পরিবেশের ছাড়পত্রসহ রাজস্ব ও বিভিন্ন নিয়ম-কানুন রহরহ উপেক্ষিত হচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই! ইটভাটা গুলোতে প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানোর কারণে পরিবেশের উপর মারাত্বর্ক হুমকির সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয় এসব ভাটার কালো ধোয়ার কারণে ফলফলন্তির গাছ গুলোর উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে। আরো লক্ষ্য করা গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে ও বাসাবাড়ির কাছে এসব ইটভাটা তৈরী হয়েছে। ইট ভাটা তৈরীর পূর্বেই সরেজমিন তদন্ত পূর্বক ইটভাটা তৈরীর ছাড়পত্র মোতাবেক কোন ভাটাই তৈরী হয়নি। এমনকি আরোও খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দু’একটি বাদে অধিকাংশ ভাটার কোন লাইসেন্স নেই।

অন্যদিকে উপজেলার ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে ভ্যাট, ইনকাম ট্যাক্স ও ভূমি উন্নয়ন কর ফাঁকিরও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইটভাটার মালিক জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ ১৯৯২ সালে প্রণীত আইনের ২৮ মে (২) ৯৯২ স্মারকের বুনিয়াদে প্রকাশিত গেজেট কর্তৃক এ আইনের সর্বময় ক্ষমতা জেলা প্রশাসকদের অর্পণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে পলাশবাড়ি উপজেলার ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ইটভাটার মালিকদের খুঁটির জোর কোথায়?

Related posts