November 21, 2018

সুখ-দুঃখ আর গৌরবের ইতিহাস নিয়ে ঝালকাঠি জেলা ! (পর্ব-১)

অনুসন্ধানী লিখক সাংবাদিক নজরুল ইসলামঃ- মানুষের স্বাধীনচেতা মনোভাব, নিজস্ব সংস্কৃতির উজ্জ্বল ইতিহাস এবং অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ঝালকাঠী জেলা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও আড়িয়াল খাঁর কয়েকটি শাখা নদী এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে। ঝালকাঠী জেলা পদ্মা ও মেঘনার পলল ভূমি দ্বারা সৃষ্ট। জেলার নদী-খালে বেশির ভাগই মিঠা পানির প্রবাহ এবং রয়েছে প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটা। এ জেলায় বাংলার বাঘ একেএম শেরেই বাংলা ফজলুল হক,কবি কমিনি রায়,জীবনানন্দ দাস সহ রয়েছে শত শত ঞ্জানী ও গুনি মানুষের জন্মবিটা।

বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ, গাছ-গাছালি, নদী-নালা নিয়ে অপার সৌন্দর্য্যমণ্ডিত ছোট্ট একটি জেলা ঝালকাঠী। বহু সুখ-দুঃখ আর গৌরবের ইতিহাস এই ঝালকাঠী। কেননা, পর্তুগীজদের লুন্ঠন, হত্যাযজ্ঞ, বৃটিশদের অত্যাচার আর পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের গৌরবময় ইতিহাস বহন করছে ঝালকাঠি । একদিকে মানুষের স্বাধীনচেতা মনোভাব, নিজস্ব সংস্কৃতির উজ্জ্বল ইতিহাস এবং অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ঝালকাঠী জেলা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও আড়িয়াল খাঁর কয়েকটি শাখা নদী এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে। ঝালকাঠী জেলা পদ্মা ও মেঘনার পলল ভূমি দ্বারা সৃষ্ট। এ জেলার নদী-খালে বেশির ভাগই মিঠা পানির প্রবাহ এবং রয়েছে প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটা।

১৯৭১ সালের ১লা জুলাই’র পূর্ব পর্যন্ত ঝালকাঠি বরিশাল জেলার অন্তর্গত একটি থানা ছিল এবং ঐ তারিখ থেকেই ঝালকাঠী মহকুমায় রূপান্তরিত হলেও মহকুমার কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭২-এ। ঝালকাঠী জেলার মর্যাদা লাভ করে ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্র“য়ারি। জেলার উত্তরে বরিশাল, দক্ষিণে বরগুনা এবং পূর্বে বরিশাল ও পশ্চিমে পিরোজপুর জেলা অবস্থিত।

এ জেলার নাম ঝালকাঠি হবার পিছনে একটি প্রতিষ্ঠিত এবং বিশ্বাসযোগ্য জনশ্রতি রয়েছে। এ অঞ্চলে মানুষ কবে থেকে বসবাস শুরু করেছে তার সঠিক কোন তথ্য নাই। এ নিয়ে নানা জনের নানা মত রয়েছে। ঐতিহাসিক ও বাকেরগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বেভারেজ লিখেছেন, এ জেলার প্রায় সমগ্র দক্ষিণ অংশ সুগন্ধা বা সন্ধা নদীর চর দিয়ে গড়া। এক সময় সুগন্ধা বা সন্ধা নদীর দক্ষিণ তীরে ছিল বর্তমান ঝালকাঠির পোনাবালিয়া এবং উত্তরপাড়ে ছিল বর্তমান উজিরপুর। মাঝের এ বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুরোটাই ছিল নদী। এ নদীর চরে প্রাকৃতিক নিয়মে সৃষ্টি হয়েছিল গভীর জঙ্গল। আর তা ছিল সুন্দরবনেরই অংশ। নদীতে ভেসে ভেসে মাছ ধরতে গিয়ে মানুষ জীবনের প্রয়োজনে জঙ্গল কেটে তৈরি করে আবাসভূমি আর ফসলের মাঠ।

ঐ সময় সুগন্ধা নদীর দক্ষিণ পাড়ে একই গ্রামে বসবাস করত একদল কৈবর্ত জেলে। এক সময় গ্রামবাসীদের সাথে জেলেদের সংঘর্ষ বাঁধে। এর পর জেলেরা ঐ এলাকা ছেড়ে বর্তমান ঝালকাঠির বাসণ্ডা খালের (ধানহাটা খাল) পশ্চিম তীরে কাটাবাখারী জঙ্গল কেটে আবাদ করে এবং বসতি স্থাপন করে। সেই থেকে এ স্থানের নাম হয় জেলেকাঠী। সময় আর ভাষার বিবর্তনের ফলে বর্তমান নাম ঝালকাঠি ।

১৮৪৫ সালে সেই ঝালকাঠিতে থানার আদি ও প্রথম কর্মকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। এর পর ঝালকাঠি থানা কর্মকেন্দ্র মহারাজগঞ্জে অর্থাৎ বর্তমান ঝালকাঠিতে স্থানান্তরিত হয়। ঝালকাঠী জেলার আয়তন ৭৪৯ বর্গ কিলোমিটার, যা সমগ্র বাংলাদেশের আয়তনের ০.৫১%। এলাকার বিচারে এটি উপকূলীয় ১৯টি জেলার মধ্যে আয়তনে ১৯তম স্থানে ও বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬২ তম স্থানে এবং বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে। ৪টি উপজেলা, ২টি পৌরসভা, ৩২টি ইউনিয়ন, ৪৫১টি গ্রাম নিয়ে ঝালকাঠি জেলা। ঝালকাঠি সদর, নলসিটি, রাজাপুর আর কাঠালীয়া নিয়ে জেলার ৪টি উপজেলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে উপকূলীয় অঞ্চলের ভূমিভিত্তিক সীমানা নির্ধারণের জন্য তিনটি সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে জোয়ার-ভাটার প্রভাব, লোনা পানির অনুপ্রবেশ এবং ঘূর্ণিঝড়/জলোচ্ছ্বাস। এর ভিত্তিতে ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলাই অন্তর্বতী উপকূলীয় এলাকায় পড়েছে।
চলবে…।
লেখক সাংবাদিক নজরুল ইসলাম।

Related posts