September 23, 2018

পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় চাঁদপুরে দুই স্কুল ছাত্রীর আত্মহনন

 IPএ কে আজাদ, চাঁদপুর : জে এসসি পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ায় চাঁদপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে এবং বিষপান করে দুই স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা। এবং অপর দুই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত দুই স্কুল ছাত্রী হলেন, চাঁদপুর শহরের পীর মহসীন পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৫) ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইক পাড়া ইউ জি পি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ফেরদৌসী আক্তার (১৫)। ৩০ ডিসেম্বর রোববার বিকেলে চাঁদপুর শহরের প্রফেসর পাড়া ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফেরদৌসী আক্তার ফরিদগঞ্জ পাইকপাড়া গ্রামের মানিক সরদারের মেয়ে ও ফারজানা আক্তার প্রফেসর পাড়া গাজী বাড়ির দুলাল গাজীর মেয়ে। আহত দুই ছাত্রী হলেন, মতলব উত্তর ফরাজীকান্দি চরকালিয়া গ্রামের নসু মিয়ার মেয়ে নাছিমা (১৩) ও বাঘড়া বাজার এলাকার নাসরিন (১৬) ।
পাইক পাড়া ইউ জি পি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ফেরদৌসী আক্তারের স্বজনরা জানায়, রোববার দুপুরে জেএসসির পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলে ফেরদৌসী আক্তার তার পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য স্কুলে যায়। স্কুলে টানানো রেজাল্ট সীটে সে তার পরীক্ষার ফলাফল খারাপ জেনে বাড়িতে গিয়ে গলায় ফাঁসদিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে তারা ফারজানার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তারা আরো জানান, ফেরদৌসী আক্তার মুলত পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো করেছেন। সে মাত্র দুই বিষয়ে খারাপ করেছেন। কিন্তু সে ভালো ভাবে রেজাল্ট সীট না দেখে পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করেছে ভেবে আত্মহত্যা হরেছে।
অপরদিকে শহরের পীর মহসীন পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী ফারজানা আক্তারের পরিবারের লোকজন জানায়, ফারজানা আক্তার পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় সে নিজ বাড়িতে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তারপর তারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষনা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই চাত্রীর আত্মহননের বিষয়টি চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশকে অবগত করলে থানা পুলিশ লাশের সুরুতহাল তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নুরুল আলম জানায়, তাদের দু’জনকেই হাসপাতালে মৃত আনা হয়েছে। একছাত্রীর পরিবার বলেছে সে কি খেয়েছে তারা কিছুই বলতে পারবে না। এ কারনে মৃত হওয়ায় তাকে কোন ওয়াসকরা হয়নি। অপর ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছেন সে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। এখন পোষ্টমর্টেম রির্পোট ছাড়া আমরা নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারবোনা।

Related posts