September 26, 2018

পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটেই কোচিং ব্যবসার দাপুটে প্রচারণা!

ঢাকাঃ  রাজধানীসহ সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে জারি থাকে ১৪৪ ধারা। তবে কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষা শেষ হবার কিছুক্ষণ আগে থেকেই চলে কোচিং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপুটে প্রচারণা। এতে করে বিরক্ত হচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি কেন্দ্র সচিবের কাছে অভিযোগ করেও সুরাহা পাচ্ছেন না অনেকে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এইচএসসি পরীক্ষার প্রত্যেক দিনই রাজধানীর প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটে চলে কোচিং সেন্টারগুলোর লিফলেট বিতরণ। একেক দিন একেক কোচিং সেন্টারের লিফলেট, ব্রোশিয়ারসহ বিভিন্ন উপকরণ জোর করে বিতরণ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রলুব্ধ করেছে কিছু যুবক। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ইউসিসি, ওমেকা/ওমেগা, ইপিপি ও মেডিকো নামের তিনটি কোচিং সেন্টার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলিক্রস কলেজ কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থী জানান, লিফলেট না নিতে চাইলে কিছু ছেলে উত্ত্যক্তও করে, বাজে ইঙ্গিত করে।

ওই পরীক্ষার্থী জানান, ‘বিষয়টি আমি কেন্দ্র সচিবকেও জানিয়েছি। কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি।’

সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের গেটে মাহমুদুর রহমান নামের যুবক সাইফুরসের লিফলেট বিতরণ করছিলেন। তিনি জানান, কোচিংয়ের লিফলেট বিতরণ করতে বাধা দেয়নি কেউ। তিনি প্রতিদিনই বিভিন্ন কেন্দ্রে ৫ হাজার লিফলেট বিতরণ করে ৩০০ টাকা পান। অবশ্য অনেকেই লিফলেট ব্রোশিয়ার নিতে চান না। না চাইলে আমরা আমরাও জোর করি না।

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, হলিক্রস কলেজ, নটরডেম কলেজ প্রায় এক সপ্তাহ ঘুরে নিয়মিত একই চিত্র দেখা গেছে।

মতিঝিল আইডিয়াল কলেজের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা সোহান পারভেজ নামের এক অভিভাবক জানান, প্রতিদিনই এরকম কিছু যুবক থাকে। যারা কোচিংয়য়ের বিভিন্ন প্রলোভন সংবলিত লিফলেট বিতরণ করে। বিভিন্ন ছাড়, সুবিধার কথাও উল্লেখ থাকে এসবে। শিক্ষার্থীদের এভাবে প্রলুব্ধ করা উচিত নয় মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ কানিজ মাহমুদা আক্তার বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের পাশে এ ধরনের প্রচারণা অনৈতিক। বিষয়টি আমারও দৃষ্টিকটু লেগেছে। আমি কেন্দ্রসচিবের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে বলব।

তবে এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ঢাকা জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আল মামুন এই প্রতিবেদককে পালটা প্রশ্ন করেন, ‘পাবলিক ডিমান্ড থাকলে আমরা কী করব? পাবলিক নিজেই কোচিংয়ে যেতে চাইলে আমাদের করার কিছু নেই। আমার দেখার মূল বিষয় পরীক্ষা। অন্য সময় হলে দেখা যেত। এখন সময় নেই।’

শিক্ষার্থীদের অনেকেই বিরক্ত জানানো হলে তিনি বলেন, সবাই একইরকম হবে না। তবে অধিকাংশই কোচিংয়ে যেতে চায়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এরকম অভিযোগ শুনিনি এখনও।’ শিক্ষাসচিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এ বছর দেশের ৮টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষাবোর্ড থেকে মোট ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। দেশজুড়ে ৮ হাজার ৫৩৩টি প্রতিষ্ঠানের ২ হাজার ৪৫২টি কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে পরীক্ষা। এছাড়া বিদেশে সাতটি কেন্দ্রে ২৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৩০ এপ্রিল ২০১৬

Related posts