September 26, 2018

পরিক্ষায় উপস্হিত না থেকেও পাস-থেকেও অনেকে ফেল

12
মহিনুল ইসলাম সুজন,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ  যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল তাদের ফলাফল নেই। অথচ যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেনি তাদের ফলাফলে পাস দেখানো হয়েছে। নীলফামারী জেলার কিশোরীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উদাসিনতা ও কম্পিউটার অপারেটরের অদক্ষতার কারণে প্রায় শতাধিক প্রাথমিক ও এবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার্থীর এই ফলাফলের চিত্র ফাঁস হয়ে পড়েছে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে,নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় ২০১৫ সালে ১৭৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল ৫ হাজার ৯৯৯ জনের। অনুপস্থিত দেখানো হয় ২৩২জন। ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখানো হয় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩৭ জন। অকৃতকার্য্য হয়েছে বালক ৬০ ও বালিকা ৯০ জন সহ ১৫০ জন। অভিযোগে জানা গেছে অকৃতকার্য্য যাদের দেখানো হয়েছে তাদের মধ্যে ১০৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। অথচ তাদের ফেল দেখানো হয়।আর যারা পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করেনি এমন অনেকেই রয়েছেন পাসের তালিকায়।

এই উপজেলায় ইবতেদায়ীতে সর্বমোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩৫৯জন। পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ১০৮ জন। ফলাফলে দেখানো হয় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৮ জন। এখানে যে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল এমন বেশ কিছু পরীক্ষার্থী পাস করেছে।

একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ এবারের প্রাথমিক সমাপনী ও এবতেদায়ী পরীক্ষায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানের উদাসিনতা ও অদক্ষ কম্পিউটার অপারেটরের চরম ভুলের কারনে তাদের সন্তানদের ফলাফল আসেনি।

সুত্র মতে,পি এস সি পরীক্ষার্থীদের নাম রেজিষ্ট্রেশন করার সময় একজন ছাত্রের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর আরেকজন ছাত্রের রোল নম্বরের সাথে দিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলা হয়। এসব তালগোল পাকিয়ে ফেলা রোল নম্বর ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বরগুলো যাচাই-বাচাই না করে শিক্ষা কর্মকর্তা ফলাফল প্রকাশের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে রেজাল্টশীট পাঠিয়ে দেন।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী রোকসানা আক্তার।যার রোল নম্বর ৫৩৭১। পিতা গোলাম রব্বানী, নাজমিন আক্তার রোল নম্বর ৩৬৩৫, পিতা হাবিবুর রহমানসহ আরো অনেক অভিভাবক বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটরের ভুলের মাশুলের কারণে আমাদের কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের জীবন থেকে একটি বছর পিছিয়ে যেতে বসেছে ও তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে।আমরা উদাসিন শিক্ষা কর্মকর্তার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবী করছি।

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার সর্ত্বে বলেন, প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রছাত্রীদেরই এরকম অবস্থা হয়েছে-।শিক্ষা কর্মকর্তার যাচাই না করার জন্য।
অপরদিকে আরেক শিক্ষক বলেন,আমার নিজের ছেলের বিষয়ে একই অবস্থা হয়েছে।

এবতেদায়ী পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও অনেক ছাত্রছাত্রীর ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে।

এরকম পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করেও অনেকের পাসের তালিকায় স্হান পাওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- রাসেল ইসলাম রোল নম্বর ৩৪,হাবিবুল্লাহ রোল নম্বর ৩২০,লাকী আক্তার রোল নম্বর ম-২২৮,হনুফা আক্তার রোল নম্বর ম-৯০।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি উক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দায়সারা ভাবেই বলেন,তড়িঘড়ি করে কাজ করতে কিছুটা ভুল হয়েছে। এ ব্যাপারে ওই শিক্ষার্থীকে খাতা পুনরায় পর্যবেক্ষনের জন্য বোড চ্যালেন্স করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আগামীতে যেন আর ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল করা হবে বলে জানান তিনি।তবে চলমান ভুলের সংশোধনীর বিষয়ে তিনি নিজের কোনো পদক্ষেপের কথা জানাতে পারেনি, তাই ক্ষুদ্ধ অভিভাবকগন অনেকটা অসহায়ের মতই ভাবছেন শিক্ষা কর্মকর্তার ভুলের মাসুল দিতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরই।

উপজেলার শতশত শিক্ষক অভিযোগ করে  বলেন, উপজেলা প্রাথমিক এই শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করেন না। তার বাড়ি বগুড়া হওয়ায় তিনি বেশী সময় বগুড়াই থাকেন।তার বিরুদ্ধে অগনিত অভিযোগ রয়েছে।সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে তার বিচার সহ অপসারন দাবি করেছেন-শিক্ষক, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts