November 15, 2018

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্ররের ব্যয় নিয়ে টিআইবির প্রশ্ন?

রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ চুক্তি সম্পাদন সরকারের এক ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি একে ‘তুলনামূলকভাবে কম মাত্রার কার্বন নিঃসরণযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প’ বলে মন্তব্য করেছে। তবে এর ব্যয় হঠাৎ তিনগুণ বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মত দিয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুভাসকিং চুক্তিপত্রে সই করেন। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৬৫ কোটি ডলার বা ১ লাখ এক হাজার কোটি টাকা।

রবিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ ধরনের ‘উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ ও অতীব ব্যয়বহুল প্রকল্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এর কারিগরী ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশকে সরবরাহকারীর উপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করতে হবে বিধায় জনস্বার্থে উক্ত চুক্তির প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিশদ তথ্য প্রকাশ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ড. জামান বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন যে, রাশিয়ার পারমাণবিক চুল্লিগুলি ব্যাপকভাবে, এমনকি খ্যাতিসম্পন্ন রাশিয়ান বিশেষজ্ঞের মতেও অনিরাপদ ও অনির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত।’

বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি প্রতিষ্ঠান রোসাটম ও গ্যাসপ্রমব্যাংকের যৌথ মালিকানাধীন অ্যাটমসরয়এক্সপোর্ট কোনো দুর্ঘটনায় সরবরাহকারীর দায় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত নয়।

তিনি বলেন, সেজন্য আমরা সরকার ও বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশনকে জনগণের অবগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি, যেমন:

ক. জনগণের জীবন ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার উপর সম্ভাব্য ঝুঁকিসহ পরিবেশগত কোনো নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি ও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সরবরাহকারীর দায় নিশ্চিত করতে চুক্তিতে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা;

খ. অর্থায়নের শর্তাবলীসহ ব্যয়বহুল এই প্রকল্পের অর্থায়ন ব্যবস্থা;

গ. সরবরাহকারীর তুলনায় বাংলাদেশের জনগণের সম্ভাব্য লাভ এবং বোঝা/দায়ের বিবৃতি এবং

ঘ. বিশ্বব্যাপী লভ্য দক্ষতা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তার বিচারে এ চুক্তিটি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছে কিনা।

ড. জামান আরো বলেন, ‘এ বছরের সেপ্টেম্বরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী উক্ত দুইটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মোট ব্যয় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার উল্লেখিত হলেও মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে প্রকল্প ব্যয় তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার বিষয় নিয়ে পরে অনেক ধরনের প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, যেহেতু শেষ বিচারে বাংলাদেশের জনগণকেই এই প্রকল্পের বোঝা বইতে হবে সেহেতু এ ব্যাপারে সকল প্রাসঙ্গিক তথ্য জানার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের রয়েছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts