September 23, 2018

পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি জানিয়েছেন ইরান তার পারমাণবিক চুক্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রায় ১১ টন ইউরেনিয়াম রাশিয়াতে ফেরত পাঠিয়েছে। চলতি বছরের ১৪ জুলাই ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে হওয়া পরমাণু চুক্তির প্রতি সম্মান জানিয়েই সোমবার ইরান এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন তিনি।

চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনুযায়ী ইরান অঙ্গীকার করেছিল নিজেদের কাছে থাকা কম মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমিয়ে ৩০০ কেজির নিচে নিয়ে আসবে। ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যেই ওই চুক্তির পরিকল্পনা করা হয়।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, ইরান নিজ দেশ থেকে সব সমৃদ্ধ উপাদান (ইউরেনিয়াম) সরিয়ে নেওয়ার এবং ৩০০ কেজির বেশি কম মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম না রাখার যে অঙ্গীকার করেছিল তা পূরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনার পর চলতি বছরের পূর্ব নির্ধারিত সময়ে (৩০ জুনের মধ্যে) ব্যর্থ হলেও জুলাইয়ে ছয় বিশ্বশক্তি হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে ইরানের বহুল আলোচিত পরমাণু চুক্তি সই হয়। চুক্তির অনুযায়ী, আগামী অন্ততপক্ষে দশ বছরের জন্য ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ কমিয়ে আনবে। বিনিময়ে ধীরে ধীরে দেশটির উপর থেকে পরমাণু সংশ্লিষ্ট সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা, আটকে থাকা দেশটির তেল বাণিজ্যের শত শত কোটি ডলার ছাড় ও নিষেধাজ্ঞার কারণে জব্দ হয়ে থাকা অন্যান্য সম্পদ মুক্ত করার কথা রয়েছে।

এসব নিষেধাজ্ঞার কোনো কোনোটি ৩৫ বছর ধরে বলবত ছিল। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও ওই চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। শুরুতে আপত্তি জানালেও ইরানের স্বচ্ছ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খা-মেনিও ওই চুক্তি সমর্থন করেন। কম মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করা হয়। যেটি ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে। কিন্তু বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পরমাণু বোমা বানানোর কাজেও ব্যবহার হতে পারে। আর তা করাই ইরানের আসল লক্ষ্য বলে পশ্চিমা বিশ্ব আশঙ্কা করছিল।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদী/ডেরি

Related posts