September 23, 2018

পরপারে চলে গেলেন আরেক প্রবাসী মাকসুদা বেগম

Untitled-1

বাবু সাহা,লেবাননঃ মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি পেতে পারে না… কবি ও গানের কথায় বাস্তবে রূপ নিচ্ছে আমাদের সমাজের অনেক অবহেলিত মানুষের জীবনে। অসহায় মানুষের যন্ত্রনাগুলো আমাদের চোঁখের সামনে হয়তো ধরা পড়ছে হয়তো বা না। কিন্তু তার পরেও মাঝে মধ্যে যেসকল সংবাদ আমাদের মনুষ্যবোধকে জাগ্রত করে নাড়া দিয়ে উঠে তার মধ্যে একটি হচ্ছে পাকস্থলীতে টিউমার জনিত রোগে আক্রান্ত লেবানন প্রবাসী মাকসুদা বেগম।

দীর্ঘদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন  লেবানন প্রবাসী মাকসুদা বেগম(৩৪)। তার বাড়ী বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলায়। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মাকসুদা বেগম পেটের পাকস্থলীতে টিউমার জনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন।১৬ই জানুয়ারী সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৬ টায় লেবাননের হাজমিয়েতে এল.বি.সি.ইউ হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মরহুমের লাশ বর্তমানে এল.বি.সি.ইউ  হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, মাকসুদা বেগম ২০১২ সালে লেবাননে আসার পর অবৈধ ভাবে শুইফাত এলাকায় বাস করতেন।গত ছয় মাস আগে তিনি পেটের টিউমারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার খরচ চালাতে না পারায় গত ৬ মাস ধরে ঘরের বিছানায় মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল মাকসুদা বেগম।গত এক মাস আগে তার শরীরের একটি হাত ও একটি পা অচল হয়ে যায়। এমতাবস্থায়, প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘‘প্রবাসী ভাই-বোন সংগঠন” নামে সংগঠনটি দূতাবাসের মাধ্যমে মাকসুদাকে দেশে প্রেরন করার উদ্দ্যোগ নেয়।যেহেতু সে লেবাননে অবৈধ ছিল, সেহেতু তার ট্রাভেল ডকুমেন্ট তৈরী করতে দূতাবাসকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।১৩ই জানুয়ারী সকালে বাংলাদেশ দূতাবাস এয়ার আরাবিয়া বিমান যোগে মাকসুদাকে দেশে প্রেরনের উদ্দ্যোগ নেয়।কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিলো যে, বিমান কতৃপক্ষ তাকে বিমানে তুলতে অনীহা প্রকাশ করে।পরে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের নিজ দায়িত্বে মাকসুদাকে এল.বি.সি.ইউ হাসপাতালে ভর্তি করে।পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জনৈক প্রবাসী বাংলাদেশী অভিযোগ করেন, দূতাবাস যদি আরো আগে মাকসুদার চিকিৎসার দায়িত্বভার বহন করতো,তাহলে মাকসুদার আজ অকাল মৃত্যু বরন করতে হতো না।তিনি আরো বলেন, যে সকল প্রবাসী বাংলাদেশী বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বদেশে যাওয়ার জন্য দূতাবাসে নাম জমা দিয়েছেন, সেই সকল প্রবাসীদেরকে অতি শীঘ্রই দেশে প্রেরন করার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব খরচে মাকসুদা বেগমের মরদেহ অতি দ্রুত দেশে পাঠানো হবে বলে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র গ্লোবালনিউজকে নিশ্চিত করেছে।

Related posts