September 26, 2018

পরকীয়ার অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে জুতার মালা

images
পরকীয়ার অভিযোগে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় গ্রাম্য মাতব্বরদের বর্বরোচিত রায়ে এক মান্দি (মান্দাই) সম্প্রদায়ের দম্পতিকে মাথা ন্যাড়া ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই টাকা শোধ না করা পর্যন্ত ঘরের বাইরে তারা বের হতে পারবে না বলে শর্ত দেয়া হয়।

গত বুধবার রাতে কোচ সম্প্রদায়ের সালিশি-বৈঠক উপজেলার ৮নং রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের মিত্র মোহন বর্মণের বাড়িতে এমন রায় দেন মাতব্বররা।

এ সময় ওই সম্প্রদায়ের দেড় শতাধিক লোক উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীরা হচ্ছেন কয়েস চন্দ্র বর্মণ (৩৫) ও লক্ষ্মী রানী বর্মণ (৩০)। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রাঙামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালিনা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি ইউএনও এবং ওসির সঙ্গে কথা বলে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বলেছি। আমার ব্যক্তিগত খাত থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার সেকান্দর আলী বলেন, শুক্রবার আমি বিষয়টি শুনেছি, বিষয়টা অমানবিক। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বছরখানেক আগে বাক্কুর চালা গ্রামে ইবির আলীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কয়েস চন্দ্র বর্মণ এবং তার পরিবারের।

সেই সুবাদে প্রায়ই একে অন্যের বাড়িতে আসা যাওয়া করে। গত বুধবার দুপুরে লক্ষ্মী রানী বর্মণ ইবির আলীর বাড়িতে গেলে ক্ষেপে ওঠে কোচ সম্প্রদায়ের মাতব্বররা।

ওই রাতেই চন্দন বর্মণ, রূপচান, নরেন, পাইলট, পরেশ, কালি মহন বর্মণসহ আরও চারজন মাতব্বর মিত্র মোহন বর্মণের বাড়িতে সালিশ ডাকেন।

সালিশে লক্ষ্মী রানীর বিরুদ্ধে ইবির আলীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তোলা হয়। যদিও দীর্ঘ সালিশ শেষে পরকীয়ার কোনো প্রমাণ না পেলেও দেয়া হয় এমন অমানবিক রায়।

এ বিষয়ে লক্ষ্মী রানী বর্মণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইবির আলীর সঙ্গে কোনো ধরনের অবৈধ সম্পর্কে ছিল না লক্ষ্মী রানীর। শুধু বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল তাদের। অন্য ধর্মের একজনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠার কারণেই সমাজপতিদের সালিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ঘরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি না থাকায় অসুস্থ স্বামীকে চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যেতে পারছেন না তিনি।

সালিশের রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজপতি নবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, অভিযোগের সত্যতা থাকায় আমরা আমাদের ধর্মমতে বিচার করেছি।

এ বিষয়ে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিফাত খান রাজীব বলেন, এ ঘটনায় বাদী হয়ে লক্ষ্মী রানী বর্মণ রোববার বিকেলে একটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতার করতে ইতোমধ্যে পুলিশি অভিযান চলছে।

Related posts