November 13, 2018

পণ্য চুরি ঠেকাতে ৭০ সিসি ক্যামেরা

ঢাকাঃ  রাজধানী ঢাকার কাস্টমস হাউজে বেড়েই চলেছে পণ্যসামগ্রী চুরি। গড়ে উঠেছে একাধিক সিন্ডিকেট চক্র। এ চক্রের সদস্যরা উদ্ধার হওয়া চোরাইপণ্য বিক্রয় করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এসব ঘটনায় জড়িত কাস্টম হাউজের নিরাপত্তারক্ষী, কর্মচারীসহ কিছু অসাধু কর্মকর্তা। গুদামের পণ্য সামগ্রী চুরি ঠেকাতে ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষ একাধিক ম্যারাথন বৈঠক করেছে। কিন্তু কোনো বৈঠকই কাজে আসেনি এ পর্যন্ত। ফলে আরো ৭০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ঢাকা কাস্টম হাউজ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্ধারকৃত পণ্য সামগ্রী ঢাকা কাস্টম হাউজের গুদামে রাখা হয়। কাস্টম হাউজের রয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী। তারা ওই গুদামঘরটি রক্ষণাবেক্ষণ করে। গুদামের পণ্য সামগ্রীগুলো প্রতি সপ্তাহে অথবা ১৫ দিন পরপর নিলামে বিক্রয় করা হয়। সর্বোচ্চ মূল্য প্রদানকারীকে পণ্য হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু পণ্য হস্তান্তরের সময় তার সঙ্গে অতিরিক্ত পণ্য দিয়ে দেয় কাস্টম হাউজের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিনিময়ে ওইসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে থাকে। জানা গেছে, গুদামে কিছু দক্ষ ও সৎ কর্মচারীও রয়েছেন। তারা ছোট পণ্যগুলো খুব দেখেশুনে হস্তান্তর করেন। কিন্তু অনেক পণ্যের মধ্যে তারা চোরাইপণ্যগুলো শনাক্ত করতে পারেন না। আর এজন্য পণ্যসামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটে।

গুদামের নিরাপত্তারক্ষী আবদুস সাত্তার বলেন, কাস্টমসে নিলামে পণ্য বিক্রি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ একটি রশিদ দেয়। ক্রেতারা ওই রশিদ নিয়ে গুদাম ঘরে যান। রশিদ দেখে পণ্যগুলো তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়। তিনি আরো বলেন, ছোটখাটো পণ্যগুলোতে চুরি কম হয়ে থাকে। বেশি ও বড় পণ্যগুলোর মধ্যে দুর্বৃত্তরা বাড়তি মাল ভরে দেয়। সেগুলো পিকঅ্যাপ ভ্যানে বা ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন নিরাপত্তারক্ষীরা গুদামের অন্য পণ্যগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য খুব একটা তল্লাশি করতে পারেন না। এভবেই গুদাম থেকে পণ্যগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কাস্টমের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তারক্ষীরা জড়িত রয়েছেন। এমনকি কাস্টমসের এক সহকারী কমিশনারও জড়িত। তাকে ইতিমধ্যে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালীর সুপারিশে তিনি আবারও ওই পদে ফিরে এসেছেন। তিনি চোরাকারবারিদের চুরিতে মদত দিয়ে থাকেন।

নিলামে অংশগ্রহণকারী কিছু ব্যবসায়ী ওই চোরাই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। তারা অনেক দিন ধরে ওই ব্যবসা করে আসছেন। শূন্য থেকে তারা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। কাস্টমস কমিশনারের পক্ষ থেকে তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে। ওই নিলামে তাদেরকে আর অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। এছাড়াও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিমানবন্দরের শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন বলেও এই নিরাপত্তারক্ষী জানান। এদিকে চুরি ঠেকাতে যে ৭০টি সিসি ক্যামেরা কেনা হচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগ গুদামের ভেতরেই লাগানো হবে। যেন পুরো গুদাম এলাকা সিসি ক্যামেরার আওয়তায় আসে। কে কখন কিভাবে পণ্যসামগ্রী রাখছেন এবং হস্তান্তর করছেন তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। এছাড়াও গুদামের চারপাশ ও মূল রাস্তায়ও বেশ কিছু  ক্যামেরা লাগানো হবে। এসব ব্যাপারে জানতে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আসা অবৈধ পণ্যসামগ্রী গোয়েন্দারা আটক করে থাকেন। আর সার্বক্ষণিক নজরদারি তো আছেই। ঢাকা কাস্টমসের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীও আছে।

তবে শুল্ক গোয়েন্দারাও ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে যথাযথ তা মনিটরিং করেন। কিছু চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। তবে তারা প্রায় সময় কাস্টমের নিরাপত্তারক্ষী ও শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে থাকে। এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কাস্টম হাউজের গুদামঘরে পণ্যসামগ্রী রাখা হয়। সেখানে নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, চুরি ঠেকাতে পুরো গুদামঘর ও আশপাশের রাস্তায় আরো সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৫ মে ২০১৬

Related posts