November 20, 2018

পটুয়াখালীতে কয়েন অচল গুজব ও সংকট সমাধানে জেলা প্রশাসন-ডিসি

কয়েন অচল গুজব ও সংকট সমাধানে জেলা প্রশাসন-ডিসি

মোঃ জহিরুল ইসলাম,পটুয়াখালীঃ    পটুয়াখালীতে হাজার হাজার বড় ও ক্ষুদে ব্যাবসায়ীরা পাঁচ টাকা, দুই টাকা ও এক টাকার কয়েন নিয়ে পড়েছে বিপাকে। ব্যাবসায় মুনাফা তো দূরের কথা মূলধন এখন রাখতে হচ্ছে ট্রাংক ও ড্রামে। এ ছাড়াও কয়েন নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় ক্রেতা- বিক্রেতাদের মধ্যে ছোট খাট ঝগড়া বিবাধ লেগেই আছে। কয়েন ব্যাপারে নিরব তফসিলি ও বেসরকারী ব্যাংক গুলো। তবে ব্যবসায়ীদের এ সংকট সমাধানে পটুয়াখলী জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার বলেন, ব্যাবসায়ীদের পাশে আছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন, যদি কোন ব্যাবসায়ী অভিযোগ করে পটুয়াখালীর কোন ব্যাংক বা কর্মকর্তা কয়েন নিচ্ছে না তাহলে জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহন করবে।

পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থানে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,  ব্যাবসায়ীরা হাজার ও লক্ষ টাকার কয়েন নিয়ে এখন মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। কেউ কেউ আবার শতকরা ১০/২০% কমিশন দিয়ে বিক্রি করছেন কয়েন।  এতে তাদের মুনাফা তো দূরের কথা মূলধন আটকে আছে দোকানের পরিত্যাক্ত ট্রাংক বা ড্রামে। জেলার অন্যতম একটি বাজার বাউফল উপজেলার কাশিপুরে প্রায় ছোট বড় ৪টি বেকারী কারখানা অছে। সেখানের গাজী বেকারীর প্রোপাইটার আঃ হক জানান, তার বর্তমানে ৫০০০০ টাকার কয়েন জমা হয়ে আছে। কোন গ্রাহক তো দূরের কথা ব্যাংক এবং পাইকার ব্যাবসায়ীরা নিচ্ছে না কয়েন। কারন এগুলো নাকি চলছে না। লাভের আশা ছেড়ে এখন তাদের ব্যাবসার মূলধনই শেষ দিকে। একই বাজারের বিসমিল্লাহ বেকারীর মাহবুবুর রহমানের ৪০০০০ টাকার, নাসির বেকারীর ৩৫০০০ টাকার কয়েন জমা পড়ে আছে। জেলার বিভিন্ন শহরে ও গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ব্যাবসায়ীদেরে একই চিত্র।

তবে ব্যাবসায়ীদের দাবী ব্যাংক গুলো কয়েন নিচ্ছে না বলে এগুজব ছড়াচ্ছে। কেউ কেউ জানান, তারা কয়েনের ব্যাপারে তফসিলি এবং বেসরকারী ব্যাংকের একাধিক শাখায় যোগাযোগ করলে তারা কয়েন নিচ্ছে বলে জানান। এদিকে কয়েন অচলের গুজবে সর্তক আবস্থানে আছেন জেলার ভিক্ষুক সমাজ, তারাও এখন নিচ্ছেনা ১/২/৫ টাকার কয়েন।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক নিউটাউন শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহজাহান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকার এখন পর্যন্ত এক দুই ও পাঁচ টাকার কয়েন এর প্রচলন বন্ধ করেনি বা কোন ধরনের ঘোষনা দেননি সরকার। কয়েন চলছে এবং ঘোষনা না দেয়া পর্যন্ত চলবে।

পটুয়াখালীর এ গুজব ও সংকট থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা বা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের দ্রুত ব্যাখা বা ঘোষনা কামনা করছে ব্যাবসায়ী ও বিশিষ্টজনরা।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts