September 19, 2018

পছন্দের চরিত্র আমাকে কেউ দেয় না

20136483_859982037482475_1578915340_n

বর্তমান সময়ে টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয় মুখ কাজী উজ্জ্বল। অভিনয়ের সবগুলো মাধ্যমে সফল পদচারণা রয়েছে এই অভিনেতার। তবে বেশিরভাগ সময় তাকে ছোট পর্দায় ছেলের বা মেয়ের বাবা বা মামা চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। পেশাগত দিক থেকে কাজ করে গেলেও এখন পর্যন্ত নাকি নিজ পছন্দের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাননি এই অভিনেতা। সুস্ময় সুমন পরিচালিত একটি একক নাটকের শুটিং এর ফাঁকে এক সাক্ষাতকারে উঠে আসে কাজী উজ্জলের এরকম আরও অজানা কথা।

গ্লোবালনিউজ২৪:  কেমন আছেন?

কাজী উজ্জ্বল: খুব একটা ভালো নেই। চিকুনগুনিয়া জ্বরে ভুগছি। সমস্ত শরীর জুড়ে ব্যথা করছে। এর ভয়াবহতা এতোই কঠিন যে আমি আশা করবো অতি বড় কোন শত্রুরও যেন আল্লাহ তা’লা এই রোগ না দেন।

গ্লোবালনিউজ২৪: বর্তমানে কি নিয়ে ব্যস্ততা যাচ্ছে?

কাজী উজ্জ্বল: সবকিছুর একটা চেইঞ্জ আসছে। একটা সময় ছিল আমরা ছোট বেলা থেকে দেখেছি বাবা চরিত্রগুলো হাসান ইমামআবুল হায়াতসহ সিনিয়র অভিনেতারা করতেন। পরবর্তীতেঁ আস্তে আস্তে একটা সময়ে দেখা গেল ইয়াং জেনারেশন এই যেমন ধরুন আজ জোভানতউসিফএলেন শুভ্রটয়ামিথিলা এদের একটা নতুন স্পেফিক বাবা চরিত্রের দরকার ছিল। ওদের সাথে আমার ক্যামিস্ট্রিটা সবসময়ের জন্য ভালো। এই জেনারেশনের সবারই বাবা আমি। বাবামামা প্রাইভেট ইউনিভারসিটির টিচার।

গ্লোবালনিউজ২৪: আপনি কি এই ধরনের চরিত্রেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

কাজী উজ্জ্বল: নাসবচাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি যে চরিত্রে সেটা আমাকে কেউ দেয় না। কারণ আমার চেহারার মধ্যে একটা ইনোসেন্ট নাকি ভাব আছে। আমি সবচাইতে পছন্দ করি ক্রিমিনাল বা নেতিবাচক ক্যারেক্টার। যেটা আমার ইনোসেন্ট চেহারার কারণে আমি পাচ্ছি না।

গ্লোবালনিউজ২৪: ঈদের নাটক নিয়ে কিছু বলুন। এবারের ঈদে সিরিয়াস নাটকগুলোই দর্শক বেশী পছন্দ করেছে। আগে তো কমেডি নাটকগুলো পছন্দের তালিকায় ছিল দর্শকদের।

কাজী উজ্জ্বল: ঈদের নাটকের ব্যপারটা হচ্ছে মানুষ এখন টিভি নয়ইউটিউবে নাটক দেখে। বেসিক্যালি সত্যি কথা হচ্ছে একটা সময়ে যখন বিটিভি ছিল তখন চিঠি লিখতাম গ্রামে আজকে কিন্তু আমার নাটক যাবে বিটিভিতে। বন্ধুবান্ধবআত্মীয়স্বজনদের কাছে প্রচুর চিঠি লিখতাম। এখন তো সেই সময়টা নেই। এখন হচ্ছে ফেইসবুকের আপডেট। টাইমশিডিউল সব এই ফেইসবুকেই হয়। আর ঈদের সময়গুলোতে মানুষ একটু আনন্দ পেতে চায়হাঁসতে চায়। তাই কমেডি নাটকগুলোর ডিমান্ড বেশী থাকে। এর ভিতরেই কিছু এক্সেপশোনাল নাটক থাকেযেগুলো দেখার পরে মানুষকে একটু ভাবায়। সমাজের কিছু কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলোকে নাটকে তুলে ধরা হয়। যা মানুষকে আপ্লুত করে।

গ্লোবালনিউজ২৪: পত্রপত্রিকাগুলোতে দেখা গিয়েছে এবারের ঈদে আগের তুলনায় দর্শক বাংলা নাটক বেশী দেখেছে। অর্থাৎ টিভি নাটকে দর্শক সংখ্যা বাড়ছে। তাহলে কি আমাদের ইন্ডাস্ট্রি চেইঞ্জ হতে শুরু করেছে?

কাজী উজ্জ্বল: দেখুনএটা আমার মতে সম্পূর্ণ আপেক্ষিক একটা বিষয়। আসলে চেইঞ্জ হচ্ছে না। আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি সবার আগে আমাদের নীতির পরিবর্তন হওয়া দরকার। যেমনএকটা নাটক বানিয়ে আমাকে বিজ্ঞাপনদাতার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে কেনএটা আমার সৃজনশীলতা। আমার জীবনযৌবন সব আমি এই নাটকের পিছনে ঢেলে দিয়েছি। বিজ্ঞাপনদাতা আমার নাটকের উপর ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আমার সৃজনশীলতার উপর খবরদারি করছে। আমার ক্রিয়েটিভিটাকে কিনতে চায়। বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলো আমাকে বলে দিচ্ছে অমুক আর্টিস্ট নেন। আমার নাটকে যদি একটা ল্যাংড়া মফিজ লাগে তাহলে আমি তাকে নিয়েই কাজ করবো। কিন্তু তারা (বিজ্ঞাপন এজেন্সিবলছে না ল্যাংড়া মফিজ নাআমার পছন্দের একজনকে নিতে হবে। পুরো ইন্ডাস্ট্রিতেই এই সিন্ডিকেট অবস্থা চলছে।

গ্লোবালনিউজ২৪:  এই অবস্থা পরিবর্তনে আপনার মতামত কি?

কাজী উজ্জ্বল: এটা হচ্ছে কারণ তাদের (বিজ্ঞাপন এজেন্সিহাতে বিজ্ঞাপনতাদের হাতে পয়সা। আসলে আমাদের দেশে সিস্টেম নাই। সিস্টেমটা হওয়া উচিত পে চ্যানেল। একটা নাটক আমি বানালাম১০ লক্ষ ভিউয়ার্স যদি ৫০ পয়সা করেও দেয় তাতে পাঁচ লক্ষ টাকা পাবে। ঐ চ্যানেল পাঁচ লক্ষ টাকা পাবার জন্য ৭০ মিনিটের নাটকে ২২০ মিনিট বিজ্ঞাপন দেখায়। আমি বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে নই। বিজ্ঞাপন দেখাবে। কিন্তু তার তো একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কেন এই দেশে এখনো পে চ্যানেলটা হচ্ছে নাবছরে ১২০০ কোটি টাকা ডিস চ্যানেল কর্তৃপক্ষ নিয়ে যাচ্ছে। এটি কার কাজে আসেনির্মাতাঅভিনেতা কারোরই কিন্তু কাজে আসে না। বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলো এখানে কর্পোরেট অফিসের মত খবরদারি করছে আর দেশের শিল্পসাহিত্যসৃজনশীলতাকে গলা টিপে হত্যা করছে। পে চ্যানেল ছাড়া এই অবস্থার পরিবর্তন কোনভাবেই সম্ভব নয়।

গ্লোবালনিউজ২৪: গ্লোবালনিউজ২৪কে আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

কাজী উজ্জ্বল: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Related posts