September 24, 2018

ন্যূনতম মজুরি ঘন্টায় ১৫ ডলারসহ নিউইয়র্কে আরো সুবিধাঃ খুশী প্রবাসীরা

হাকিকুল ইসলাম, নিউইয়র্ক থেকে : অসুস্থ আত্মীয়-স্বজনকে দেখভাল করার জন্যে বেতনসহ ৩ মাসের ছুটির একটি বিধি হলো নিউইয়র্ক রাজ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের আর কোথায়ও এমন বিধি নেই। শুধু তাই নয়, ইমিগ্র্যান্টসহ কঠোর পরিশ্রমী মানুষদের ন্যূনতম মজুরি ঘন্টাও ১৫ ডলার করা হলো নিউইয়র্কে। ক্যালিফোর্নিয়াতেও ন্যূনতম মজুরি ঘন্টা ১৫ ডলারে বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে সর্বশেষ সংবাদে জানা গেছে। নিউইয়র্কের রাজ্য গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো সবেতন ছুটি এবং ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির বিলে গত ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার অপরাহ্নে স্বাক্ষর করেছেন। এ উপলক্ষে সিটির জ্যাকভ জেভিট সেন্টারে উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার সহস্রাধিক লোকের এ বিজয় সমাবেশে ডেমক্র্যাটিক পার্টি থেকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিলারি ক্লিন্টনও বক্তব্য রাখেন। কঠোর পরিশ্রমীদের জন্যে এমন একটি বিধির পক্ষে হিলারিও সোচ্চার ছিলেন। বাংলাদেশীরাও ছিলেন সরব এ বিজয় সমাবেশে। রাজ্য গভর্ণরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাঙালিরাও স্লোগান ধরেন।

নয়া এ বিধি অনুযায়ী, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় (সদ্যজাত সন্তান, স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা)দের সেবার প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত সবেতন ছুটি এবং ন্যূনতম মজুরি ২০১৮ সালের মধ্যে ১৫ ডলার করতে হবে। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের বাজেটে এ বিধি সন্নিবেশিত হয়েছে। বিলে স্বাক্ষরের সময় রাজ্য গভর্ণর ক্যুমো বলেন, অর্থনৈতিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম একটি অধ্যায় এবং নিউইয়র্ক তা করে অন্য সকলের জন্যে উদাহরণ হয়ে থাকলো। কারণ, অসুস্থ নিকটাত্মীয়ের সেবার জন্যে এত দীর্ঘ সময় বেতনসহ ছুটির বিধি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে নেই। এ বিধির পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প আয়ের লোকজনের সুবিধা হবে এবং তাদের নতুন জেনারেশনও এর সুফল পাবে। নতুন প্রজন্মের ভাগ্য প্রসন্নে অভূতপূর্ব অবদান রাখবে। এমন একটি বিধিতে স্বাক্ষর করতে পেরে আমিও গর্ববোধ করছি।

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির এ সুবিধা পাবে নিউইয়র্ক রাজ্যের বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীসহ ২৩ লাখ আমেরিকান।

বিজয় সমাবেশে রাজ্য সিনেটে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডেমক্র্যাটিক কনফারেন্সের লিডার জেফরী ক্লাইন বলেন, এ বছরটি সত্যিকার অর্থেই খেটে খাওয়া মানুষদের। ঘন্টায় নূ্যূনতম ১৫ ডলার মজুরি এবং সবেতন ছুটির বিধি তৈরীর দাবি অনেক পুরনো। খেটে খাওয়া মানুষদের উদ্যমী করতে এ বিধি মন্ত্রের মত কাজ করবে। আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি রাজ্য গভর্ণরের প্রতি। কারণ, এ ইস্যুকে তিনি জোরালোভাবে সর্বসাধারণের সামনে উপস্থাপন করেছেন।

রাজ্য সিনেটে ডেমক্র্যাট লিডার আন্দ্রে স্ট্যুয়ার্ট-কাজিন্স বলেন, সবসময়ই নিউইয়র্ক এমনকাজে অগ্রনী থেকেছে। এবং আমরা আবারো তার প্রমাণ দিলাম। আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি গভর্ণর ক্যুমো, স্পিকার হিস্টি এবং স্টেটে ডেমক্র্যাট সিনেটর-এ্যাসেম্বলীমেনদের। নিউইয়র্কের জনজীবনকে আরো সমৃদ্ধ করতে আমাদের এ সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

এ সময় স্টেট এ্যাসেম্বলী স্পিকার কার্ল হিস্টি বলেন, ন্যূনতম মজুরি ঘন্টা বৃদ্ধি এবং সবেতন ৩ মাসের ছুটির এ ঘটনা অবশ্যই একটি ঐতিহাসিক বিষয় এবং তা এই রাজ্যের কঠোর পরিশ্রমীদের আরো ভালো কাজে উৎসাহিত করবে।

কমপক্ষে ১১ জন কর্মচারি রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ১১ ডলার হতে হবে এ বছরের শেষ নাগাদ, ২০১৭ সালে ১৩ ডলার এবং ২০১৮ সালের মধ্যে ১৫ ডলার করতে হবে। এটি হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির প্রতিষ্ঠানের জন্যে।

এই সিটির যেসব প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১০ জন কর্মচারি রয়েছে, সেখানে এ বছরের মধ্যেই ন্যূনতম মজুরি ঘন্টা সাড়ে ১০ ডলার করতে হবে। এরপর ২০১৯ সালের মধ্যে ১৫ ডলারে উন্নীত করতে হবে বার্ষিক দেড় ডলার হারে বাড়িয়ে।

নাশাউ, সাফোক এবং ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টির মজুরি ঘন্টা ১০ ডলার করতে হবে এ বছরের মধ্যেই এবং ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ ডলারে বৃদ্ধি করতে হবে প্রতি বছর এক ডলার করে বাড়িয়ে। রাজ্যের অন্য অংশে এ বছরের মধ্যে ৯.৭০ ডলার করতে হবে। ২০২০ সালের মধ্যে ১২.৫০ ডলার করতে হবে প্রতি বছর ৭০ সেন্ট করে বাড়িয়ে। এরপর ঘন্টায় ১৫ ডলার করার জন্যে স্টেট লেবার ডিপার্টমেন্টে বাজেট বিষয়ক পরিচালকের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

এ বিধিতে আরো বলা হয়েছে যে, বাজেট পরিচালক সার্বিক অর্থনীতির ওপর দৃষ্টি রাখবেন।

যদি ব্যবসা-বানিজ্যে মন্দা দেখা দেয় তাহলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বেতন বৃদ্ধির এ ধারাক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে।

রাজ্য প্রশাসন ধারণা করছে, ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির ফলে ২৩ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। উল্লেখ্য যে, রাজ্য গভর্ণরের বিশেষ উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে এ অঞ্চলের ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টের কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি ঘন্টা ১৫ ডলার হয়েছে। সে বিধির আওতায় রয়েছেন পাবলিক সেক্টর এবং স্টেট ইউনিভার্সিটির কর্মচারিরা।

ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের অসুস্থতার জন্যে ৩ মাসের সবেতন ছুটির বিধি কার্যকর হবে ২০১৮ সালে এবং প্রতিষ্ঠানের অর্ধেক কর্মচারির সাপ্তাহিক গড় বেতনের সমান অংশ ব্যয় হবে এ খাতে। ২০২১ সালের মধ্যে এ বিধি পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। এজন্যে কর্মচারির সঞ্চয়ের ওপর কোন চাপ পড়বে না কিংবা চাকরি যাবার শংকা থাকবে না।

Related posts