November 13, 2018

‘নৌকা’ ফঁসকে যাওয়ার ভয়!

রফিকুল ইসলাম রফিক
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
‘নৌকা’ ফঁসকে যাওয়ার ভয়ে সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতে এখনো মাঠে নামেনি মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন। প্রত্যেক অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমানকে নিজের ‘শিষ্য’ আখ্যা দিলেও আজ সেই শিষ্যের বিপদে গাঁ ঢাকা দিয়ে আছেন স্বঘোষিত গুরু আনোয়ার হোসেন। যা নিয়ে খোদ ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই নানা সমালোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষককে কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনায় ইতিমধ্যেই আওয়ামীলীগের হাই কমান্ড সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় আনোয়ার হোসেন নিশ্চুপ রয়েছেন। কেননা তিনি হচ্ছেন মহানগর তথা জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমানে প্রধান কর্তা। তিনি যদি সেলিম ওসমানের পক্ষে এখন কোন ধরনের মন্তব্য করেন তাহলে দল তার প্রতি ক্ষুব্ধ হলে আসন্ন সিটি নির্বাচনে তার নৌকা প্রতীক পাওয়া ফঁসকে যেতে পারে। সেই স্বার্থেই সম্ভবত তিনি এক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করে চলছেন।

দেখাগেছে, গত ১৩ মে বন্দর পিয়ার আলী সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান ছাত্রকে মারধর ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে জনসম্মুখে কান ধরে উঠ-বস করানোর পর সারাদেশে এই সাংসদের বিচার দাবীতে তোলপাড় শুরু হয়।

এরপর থেকেই শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে দেশ বিদেশের মিডিয়ায় সংবাদ শিরোনামে পরিনত হন সেলিম ওসমান। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ সরকারের ৭জন মন্ত্রীসহ যুগ্ম সাধরন সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফও সেলিম ওসমানকে শিক্ষককে কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনায় জনগণ ও শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান। যার প্রেক্ষিতে পরিবেশ আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠে।

তারপর সাংসদ সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষককে কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনায় মিডিয়ার তার বিরুদ্ধে উথাপিত অভিযোগকে অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে নিজে লজ্জিত বোধ করেন। পাশাপাশি উক্ত ঘটনায় ক্ষমা না চাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করার অপরাধে শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে জনরোষের কবল থেকে বাঁচাতে শাস্তি দেয়ার কথা স্বীকার করেন।

তিনি এও বলেন, আল্লাহকে কটূক্তিকারী শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে শাস্তি দেয়ার যদি তার ফাঁসি হয় হউক। তবুও তিনি ক্ষমা চাইবেন না।

সেই সংবাদ সম্মেলনের পর নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের দাবীতে রাজপথে মানববন্ধন, অবরোধসহ বৃষ্টিতে ভিজে নানা কর্মসূচী পালন করলেও আজ অবদি মাঠে নামেনি আনোয়ার হোসেন। এমনকি সেলিম ওসমানের সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড. খোকন সাহাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকলেও তাকে দেখা যায়নি।

তাইতো আনোয়ার হোসেনের অনুপস্থিতিতে অনেক নেতা মন্তব্য করেন, শিষ্যর বিপদে আজ উধাও স্বঘোষিত গুরু! যেই গুরু কিনা আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার টিকেট পেতেই আইভীকে পল্টি দিয়ে এতদিন ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়কে নিজের শিষ্য আখ্যা দিয়ে নিজের কার্যসিদ্ধি করতে মরিয়া ছিলেন। কেননা বিপদেই চেনা যায় আপনজন। যার কিনা প্রমাণ মিলেছে সেলিম ওসমানের এই দু:সময়ে আনোয়ার হোসেনের অনুপস্থিতিতে।

তবে এব্যাপারে জানতে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে, আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আরো প্রায় ৬ মাস বাকী থাকলেও এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় ইতিমধ্যেই আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী ঠিক করে ফেলেছেন সাংসদ ভ্রাতৃদ্বয়। যার নাম ইতিপূর্বেই একটি জনসমাবেশে ঘোষণা করার কথা থাকলেও অনিবার্য কারনে পরবর্তীতে ঘোষণা করার কথা জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ও মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যকরী সদস্য একেএম শামীম ওসমান। যিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের ছোট ভাই।

আর আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে এখন যার নাম বেশী শোনা যাচ্ছে, তিনি হলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন।

যিনি অতীতে আইভী বলয়ে থাকাকালীন সময়ে এই ওসমান পরিবারকে নিয়েই বিদ্রুপ মন্তব্য করেছিলেন। আর এখন যেই অনুষ্ঠানেই যাচ্ছেন, সেখানেই বলে বেড়াচ্ছেন ওসমান ভ্রাতৃদ্বয় (সাংসদ সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান) নাকি তার রাজনৈতিক শিষ্য ছিলেন। তাইতো বাধ্য হয়েই আনোয়ার হোসেনের সম্মানার্থে তাকে ওসমান ভ্রাতৃদ্বয় তাদের রাজনৈতিক গুরু বলে সম্বোধন করছেন।

এদিকে, সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে ইতিমধ্যেই নিজের অভিব্যাক্তির কথা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে উথাপন করেছেন আনোয়ার হোসেন। যার প্রেক্ষিতে শামীম ওসমানও এখন দলীয় নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে ফেলেছেন। কিন্তু ঘোষণা হতে গিয়েও আর হয়নি।
নারায়ণগঞ্জের আরও কিছু খবর।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সোনারগাঁ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় ১০টি ইউনিয়নের নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পুরো উপজেলা। একদিকে সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের বাড়ি-ঘরে হামলা ভাংচুর লুটপাট। অন্যদিকে থানা পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সরকার দলীয় প্রার্থী সমর্থকরাই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে ১২ টি। এরই মধ্যে পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে নির্বাচনী সহিংসতার জন্য মজুদ রাখা রামদা, টেটা, বল্লমসহ বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এদিকে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্ঘন করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন অজ্ঞাত কারনে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাচন অফিসার আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সরজমিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে সনমান্দিতে সবচেয়ে বেশি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জাহিদ হাসান জিন্নাহর সমর্থক কর্তৃক বিদ্রোহী প্রার্থী সাহাবুদ্দিন সাবুর সমর্থক চরলাল গ্রামের সাদ্দাম, ইমানেরকান্দি নুরুল আলম ও মুক্তিযোদ্ধা সলিমুল্লাহর বাড়িঘরে একাধিকবার হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। জিন্নাহর সমর্থকদের কাছে থেকে খোদ পুলিশও বাদ পড়েনি। সোমবার রাতে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। হামলায় সোনারগাঁ থানায় ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ইউনিয়নে বিএনপির কোন প্রার্থী না থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জিন্নাহর সঙ্গে মিলিত হয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাবু সমর্থকদের অভিযোগ, জাহিদ হোসেন জিন্নাহ’র বড় ভাই এসএম জাহাঙ্গির হোসেন তার ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবুর সমর্থকদের হুমকী ধামকী দিয়ে আসছে। তবে জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার বলেন, আমার অস্ত্রটি বৈধ। এ অস্ত্রটি আমার ঢাকার বাসায় থাকে।
বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের প্রার্থী আল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী তার চাচাতো ভাই বর্তমান চেয়ারম্যান মাহবুব সরকার ও বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. আব্দুর রউফ অভিযোগ করে বলেন আল আমিন সরকার বহিরাগত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাছাড়া আল আমিন সরকারের সমর্থকরা মাহবুব সরকারের উপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন মাহবুব সরকার। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
এদিকে বারদী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জহিরুল হকের সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল হোসেন ও আমিনুল ইসলামের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বারদী ইউনিয়ন। অজানা আতংকে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় ভোটাররা। তাছাড়া চরাঞ্চল  নুনেরটেক গ্রামে জহিরুল সমর্থকরা কামাল ও আমিনুল সমর্থকদের পিটিয়ে আহত করছে।

অন্যদিকে মান্দারপাড়া গ্রামে আমিনুল ইসলামের সমর্থকদের পিটিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর চালায়।
নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী দেওয়ানউদ্দিন চুন্নুর সমর্থক ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইউসুফ দেওয়ানের সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় চুন্নুর নৌকা প্রতীক আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় ইউসুফ সমর্থকরা। পরে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউসুফ দেওয়ান ও তার লোকজনকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয় চুন্নু সমর্থকরা। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় একাধিক মামলা হয়েছে।

জামপুর ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির শাহ মো. হানিফের সমর্থকদের সাথে আওয়ামীলীগ প্রার্থী হামীম শিকদার শিপলু সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে তালতলা এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সামনের সাঁটানো একটি নৌকা প্রতীকে আগুন দেয় দূর্বৃত্তরা। এনিয়ে জামপুরে উত্তেজনা চলছে।

পিরোজপুর ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বিডিআর অভিযোগ করেন, আওয়ামীলীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমের সমর্থকরা তার সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় মহিলা সমর্থকদের বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। প্রচারণায় ব্যবহৃত মাইক ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম অস্বীকার করে বলেন তার জনপ্রিয়তায় ইর্ষার্ণিত হয়ে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
শম্ভুপুরা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের একমাত্র নারী প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরজাহান বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তফা হোসেনের বিরুদ্ধে তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা প্রদান করার অভিযোগ তুলেছেন। তাছাড়া তার উপর মোস্তফার সমর্থকরা ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানান। তাছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুর রউফসহ তার অপর দুই ভাই ড্যামি প্রার্থী হয়ে বিভিন্ন স্থানে নুরজাহানের প্রচারণায় বাঁধা প্রদান করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা তাকে সহযোগিতা না করে বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তফা হোসেনকে সহযোগিতা করছেন।

এদিকে কাঁচপুর ইউনিয়নে তেমন কোন সহিংসতা না হলেও আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোশারফ ওমর ও বিএনপি প্রার্থী ফজলুল হক সমর্থকদের মধ্যে উত্তোজনা চলছে বলে ভোটাররা দাবী করেছেন।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদের পিপিএম বলেন, বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা বাড়িঘর ভাংচুর ও পুলিশের উপর হামলা করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ১২টি মামলা গ্রহন করা হয়েছে। সনমান্দি থেকে ১১জনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা রির্টাণিং অফিসার হাবীবা আক্তার বলেন, সহিংসতা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া মাত্র সোনারগাঁ থানা পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। থানা পুলিশও আন্তরিক ভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

ভুলতায় মাদক সম্রাট রোমান বাহিনী বেপরোয়া  

রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জমজমাটভাবে চলছে মাদক ব্যবসা। এ ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩০ টি স্পটে হাত বাড়ালেই মিলছে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় মাদক দ্রব্য। থানা পুলিশ, ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ও ডিবি পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে এসব মাদক দ্রব্য নির্বিঘেœ বিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে কেনাবেচা চলছে মাদকের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভুলতা ইউনিয়নের লাভরাপাড়া এলাকার আমিনুদ্দিন প্রধানের পুত্র মাদক স¤্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমান, মৃত সজ্জত আলীর পুত্র আবু হানি, ইউনূছ ফকিরের পুত্র মেরাজ, বাবুলের পুত্র মিঠু, কোমর আলীর পুত্র কাইয়ুম, আতাউরের পুত্র কুত্তা সেলিম, আইছিলা মিয়ার পুত্র নুরে আলম, পাড়াগাঁও এলাকার  আনর আলীর পুত্র ইমন, লিয়াকত আলীর পুত্র শাহীন, ফজলুর পুত্র ফয়সাল, ইউসূফের পুত্র ফারুক, ঠাকুরবাড়িরটেক এলাকার আবতুর উদ্দিনের পুত্র সেলিম মেম্বার, আবতুর উদ্দিনের পুত্র আবু সানি, ইছব আলীর পুত্র মনির হোসেন, কাদিরের পুত্র মাহবুব, রফিক, ফকিরের দরগাঁ এলাকার শাহ আলমসহ কমপক্ষে আরো ৩০ টি স্পটে ফেনসিডিল, মদ, গাঁজা ও ইয়াবার ব্যবসা চলছে জমজমাটভাবে।

থানা পুলিশ, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ ও ডিবি পুলিশকে মাসিক চুক্তিতে তুষ্ট করে চলছে এসব ব্যবসা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি এ প্রতিনিধিকে জানান, ভুলতা ইউনিয়নের লাভরাপাড়া এলাকার আমিনুদ্দিন প্রধানের পুত্র মাদক স¤্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমানের মাদকের স্পটটি এখন নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে সব চাইতে বড় মাদকের স্পট। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, রূপগঞ্জ থানার একজন দারোগা এবং ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশের সোর্স পাচাইখাঁ এলাকার আবুল মাদক স¤্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমানের মাদক ব্যবসার শেল্টার দেয়ায় ভয়ে কেউ টু-শব্দটিও করার সাহস পাচ্ছে না। তাছাড়া এলাকার কেউ তার মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করলেই প্রতিবাদকারীকে কুপিয়ে অথবা পিটিয়ে জখম করে মাদক স¤্রাট রোমান ও তার সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ভুলতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের সয়লাব হলেও যেন দেখার কেউ নেই। মরণনেশা মাদকে দিন দিন এই এলাকার তরুণরা আসক্ত হচ্ছে।

মাদক সেবনকারীদের উৎপাতের কারণে এলাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড। পুলিশ ও র‌্যাব এ এলাকায় সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে কয়েকজন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করলেও বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এ এলাকায় মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনকারীর সংখ্যা। প্রতিনিয়ত যুবকরা এসে যোগ দিচ্ছে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায়। মাদক দ্রব্য সেবনের টাকা জোগাতে না পেরে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। এলাকাবাসী অবিলম্বে যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে ভুলতা ইউনিয়নের এসব এলাকার মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য র‌্যাব ও জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, মাদক বিক্রি বন্ধে আমরা সবাই চেষ্টা চালাচ্ছি। যারা মাদক বিক্রি করছে তাদের ধরে আনা হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জে জাসদ ছাত্রলীগ নেতা  হিরা গ্রেফতার
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাসদ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ভূইয়া হিরা (৩৩)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে নাসিক ১নং ওয়ার্ড হিরাঝিল এলাকা থেকে এস আই মনিরুজ্জামান মুন্সি তাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রলীগ নেতা হিরা হিরাঝিল এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। সে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মারামারী মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী সে।

এস আই মনিরুজ্জামান মন্সি জানান, হিরাঝিল এলাকায় একটি মারামারী মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হিরা। সে মামলার হওয়ার পর থেকে পালিয়ে ছিলে। সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত হিরা জাসদ ছাত্রলীগ থানার সাংগঠনিক সম্পাদক বলে সে জানায়।

শিক্ষক ইস্যুঃ  যে প্রশ্নের উত্তর রয়েছে গেছে অজানা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যান্দীতে পিয়ার সাত্তার লতিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কানে ধরে উঠ-বসের ঘটনায় যখন তোলাপাড় চলছে তখন একটি প্রশ্নের উত্তর এখনো রয়েছে অজানা। আর সে জানার চেষ্টাও করছে না অনেকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রশ্নের উত্তর পেলেই বেরিয়ে আসতো অনেক গোপন কথা। প্রকাশ হতো থলের বিড়াল। ধরাছোয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতারা। কারণ ঘটনার পরে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি অভিযোগ করেছিলেন তাকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সরাতেই ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, তার চাচাতো বোন সহকারী প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারী মতিউর রহমান মেজু, উপজেলা পরিষদের পিয়ন পদে কর্মরত মিজানুর রহমান ও মোবারক হোসেন জড়িত বলে গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেছিলেন শ্যামল কান্তি ভক্ত। এছাড়া নেপথ্যে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে কলাগাছিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান এবং এক জাপা নেতা ও তার পুত্রের নাম গণমাধ্যমের কাছে জানিয়েছিলেন এলাকাবাসী। এছাড়া স্কুলের পরিচালনা কমিটির নির্দেশে নাইটগার্ড মোস্তফার ছেলে সোহেলসহ কয়েকজন যুবক মাইকে ঘোষণা করেছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর কুমার সাহা জানান, তারা গত ১৮ মে থেকে তদন্ত শুরু করেছেন। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট দাখিল করার কথা রয়েছে। তারা মসজিদের ইমামসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন ঘটনার দিন যারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়েছিল তারা এলাকার কেউ নয়। তারা বহিরাগত ওইদিন স্থানীয় লোকজন বহিরাগতদের আটকাতে গিয়ে আহত হয়েছিল।
বন্দর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, আদালতের অনুমতিক্রমে তারা গত ১৯ মে থেকে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। তাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। আগামী ৫ জুনের মধ্যে আদালতে তাদের রিপোর্ট দাখিলের কথা রয়েছে। তবে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় কোন গ্রেফতার নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, সকাল সাড়ে ১০টায় স্কুলের সভা শুরুর পরেই মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় প্রধান শিক্ষক ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করেছে। এর পরেই মূলত আশেপাশের লোকজন এসে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধর করে লাঞ্ছিত করে একটি কক্ষে আটকে রাখে।
তাহলে প্রশ্ন উঠেছে, কারা লোকজনদের জড়ো করেছে, কারা মসজিদের মাইকে উস্কানি দিয়েছে তাদের স্বার্থই বা কী? সে প্রশ্নই এখন সর্বত্র।

৮ মে স্কুলের দশম শ্রেণীর বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র রিফাত হোসেন ক্লাশে দুষ্টুমি করায় তাকে প্রহার করেন প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। শুক্রবার সকালে উন্নয়ন নিয়ে স্কুল কমিটির আহবান করা সভায় রিফাতের অভিযোগ নিয়ে আলোচনায় উঠে। ওই সময়ে হঠাৎ করে এলাকাতে একটি গ্রুপ ছড়িয়ে দেয় যে প্রধান শিক্ষক ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করেছে। মসজিদের মাইকেও বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হলে আশেপাশের লোকজন এসে স্কুল ঘিরে ফেলে ও শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।

স্কুলের পাশেই অবস্থিত বায়তুল আতিক জামে মসজিদের ইমাম মাহমুদুল হাসান জানান, শুক্রবার জুমআর নামাজের দিন সকাল থেকেই মসজিদ খোলা ছিল। সকাল সাড়ে ১০টা কি ১১টার দিকে কয়েকজন যুবক আসে যাদের চেনা যায়নি তারা এসে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়।
বল্যান্দী গ্রাম প ায়েত কমিটির সহ সভাপতি শামসুল হক বলেন, ‘মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করেছে। এ কথা শুনেই আশেপাশের লোকজন এসে জড়ো হয়। তখন আমরাও যাই। গিয়ে দেখি শত শত লোকজন স্কুলের সামনে মিছিল করছে। পরে আস্তে আস্তে মানুষও বাড়তে থাকে। লোকজন মিছিল করে স্লোগান দিয়ে হেড মাস্টারের ফাঁসি দাবী করে। নামাজের সময়ে আমরা আবার চলে যাই। কিন্তু তখনও কয়েক হাজার মানুষ স্কুলের সামনেই ছিল।’

স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি মাওলানা বোরহান উদ্দিন বলেন, সকালে আমাদের সভা চলাকালে বাইরে হট্টগোল শুনতে পাই। তখন বাইরে গিয়ে দেখি হেড স্যারের বিরুদ্ধে মিছিল হতে থাকে। তখনই মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু কারা ঘোষণা দিল সেটা আমাদের অজানা ছিল। লোকজনদের উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় আমরাও ভীত ছিলাম। হঠাৎ সাড়ে ১১টার দিতে উশৃঙ্খল কিছু লোকজন আমাদের সভাকক্ষে ঢুকে হেড স্যারকে মারধর করতে থাকে।

আবারও প্রশ্নবিদ্ধ না’গঞ্জ হেফাজত ললাটে কলংক

আবারও আলোচনা সমালোচনায় চলে এসেছে হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি। গত কয়েক বছর ধরে ইসলামী ইস্যুতে আন্দোলন করে ব্যাপক আলোচনায় আসা হেফাজতের উপর এবার ললাটে এটে যেতে শুরু করেছে কলংকের তিলক। কারণ বন্দরে পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ইস্যুতে আন্দোলন করেই এ সমালোচনার সৃষ্টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালের মে এর শুরুতেই নারায়ণগঞ্জে বেশ আলোচিত হয়ে উঠে হেফাজতে ইসলাম। ওই সময়ে ঢাকা অভিমুখে লং মার্চ ও শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশে যোগ দেয়। এছাড়া শহরেও স্মরণকালের বৃহৎ সমাবেশ করে আলোচনায় আসে। ওই সময়ে শহরের চাষাঢ়ায় বাগে জান্নাত মসজিদেও ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক হয়।
এর পর থেকেই আলোচনায় ছিল হেফাজতে ইসলাম।

বিশেষ করে সরকারের পদচ্যুত মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুতেও নারায়ণগঞ্জ কাপিয়ে ছিল হেফাজত। এ অবস্থায় গত ২০ মে হেফাজতে ইসলাম শহরের ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলিম জনতার ব্যানারে হেফাজত মাঠে নামে। এ নিয়ে সংগঠনটিরে ভেতরে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। কারণ হেফাজতের মত একটি সংগঠন এমন এক ইস্যুতে মাঠে নেমেছে যেখানে এমপি সেলিম ওসমানের নামও জড়িত। তবে সেখানে হেফাজত বলছে, সেলিম ওসমান ইস্যুতে তারা কোন আন্দোলনে নামেনি। শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত ইসলাম ও ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করেছে সেটা নিয়েই আলোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে নাস্তিক উল্লেখ করে তার কঠোর শাস্তি সহ ফাঁসি দাবীতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হেফাজত নেতারা কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ওই আলটিমেটাম ঘোষণা দেওয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বন্দরের ঘটনায় সরকারকে পুনরায় তদন্তের আহবান জানানো হয়। সোমবার বিকেলে ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেওয়া হয়। এদিকে একই দিন জেলা হেফাজতের সমন্বয়ক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান জানান, আলটিমেটাম কিংবা এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি হেফাজতের কোন বার্তা বহন কিংবা দায়িত্ব গ্রহণ করবে না। কারণ আলটিমেটামের সমাবেশটি হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলিম জনতার ব্যানারে ও আবদুল আউয়াল সাহেবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিও ওই একই ব্যানার থেকে দেওয়া।

এর আগে গত শুক্রবার জুমআর নামাজের পর শহরের ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে ‘নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলিম জনতা’ এর ব্যানারে ওই সমাবেশ থেকে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। সভাপতির বক্তব্যে আবদুল আউয়াল বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষকের শাস্তি, সঙ্গে তার পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার সহ শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করেলও নারায়ণগঞ্জ থেকে হরতাল, অবরোধ সহ কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে। সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে, দেশকে অচল করে দেওয়া হবে।

এ অবস্থায় সোমবার বিকেলে আবদুল আউয়ালের সাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত শুক্রবার সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের তৌহদি জনতা আস্তে আস্তে ফুঁসে উঠে। নারায়ণগঞ্জের পরবর্তী অবস্থা কী হবে তা বলা বাহুল্য। ইতোপূর্বেও ধর্ম অবমাননা হয়েছে। তার প্রেক্ষিতে আল্লাহ রাসুল এবং ধর্ম নিয়ে অবমাননা করেই যাচ্ছে। তাই নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং মুসলমানদের ক্ষত বিক্ষত হৃদয় ঠান্ডা করতে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্যামল কান্তি ভক্তের আল্লাহ এবং মুসলমান সম্পর্কে কটুক্তির বিষয়টি পুনরায় তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের জনতার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

নিশ্চুপ না না’গঞ্জ বিএনপি

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই আওয়ামী লীগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এমন অভিযোগ অনেক আগে থেকেই সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জের শিক্ষককে কান ধরে ওঠ বস করানোর ঘটনা ও একই সঙ্গে ধর্মী অনুভুতিতে আঘাতের ইস্যু নিয়ে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস নিজেই সেলিম ওসমানের পক্ষে মাঠে নেমেছে।

এদিকে শিক্ষক ইস্যু নিয়ে যখন সারাদেশে তোলপাড় তখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি রয়েছে নিশ্চুপ। একজন শিক্ষককে কান ধরে ওঠ বস করানোর বিষয়টি নিয়ে যখন সারাদেশে তোলপাড় ও নিন্দার ঝড় তখন বিএনপির নেতারা মুখ খুলছেন না। আর একই ঘটনায় যখন ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ ওঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সে বিষয়েও বিএনপি চুপসে রয়েছে। যার পিছনে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালীদের সাথে বিএনপির ম্যানেজ প্রক্রিয়া।

জানা গেছে, গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জনতার সামনে কান ধনে ওঠ বস করান নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। এর আগে কয়েকদফা প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার বিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াতে ছড়িয়ে পরলে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। এক সপ্তাহ ধরে চলছে সারাদেশে আন্দোলন। এ ঘটনা নিয়ে নারায়ণগঞ্জেও চলছে পক্ষে বিপক্ষে আন্দোলন। এদিকে শিক্ষককে কান ধরে ওঠ বস করানোর বিষয়ে বিচার দাবিতে আন্দোলন করছে বাম পন্থী রাজনৈতিক দলগুলো সহ বিভিন্ন সংগঠন। অন্যদিকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন ধর্মীয় সংগঠনগুলো। কিন্তু এ দুটি বিষয় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনির কোন ধরনের বিবৃতিও দেননি। এদিকে ইসলাম ধর্মাবলম্ভীরা ডিআইটি বানিজ্যিক এলাকায় প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করেছে। এসব বিষয় নিয়ে নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালও কোন ধরনের বিবৃতি কিংবা প্রতিবাদ জানাচ্ছেনা। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কোন ধরনের বিবৃতি কিংবা প্রতিবাদ জানায়নি।

এর আগে নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের ঘটনায়ও নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কোন ধরনের প্রতিবাদ কিংবা আন্দোলনে যায়নি। যদিও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ওই সময় নিহত নজরুল ইসলামের বাড়িতে এসেছিলেন শান্তনা দিতে। কিন্ত পরবর্তীতে সাত খুন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতারা কোন ধরনের আন্দোলন কিংবা প্রতিবাদ জানায়নি। এর পিছনের কারন ছিল সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের সাথে বিএনপি নেতাদের আতাত ছিল। এদিকে শিক্ষককে কান ধরে ওঠ বসের ঘটনায় জরিত সেলিম ওসমানের সাথেও বিএনপি নেতাদের আতাত রয়েছে। সাত খুনের ঘটনা ও সেলিম ওসমানের দ্বারা কান ধরে শিক্ষক ওঠ বস করানোর ঘটনা দুটিতে একইভাবে নীরব নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতারা। নূর হোসেনের আপন ভাই মিয়া মোহাম্মদ নূর উদ্দীনকে ও নূর হোসেনের সহযোগী মনিরুল ইসলাম রবিকে করা হয়েছিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, নূর হোসেনের গানম্যান আনোয়ার হোসেন আশিককে করা হয়েছিল মহানগর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক, নুর হোসেনের সহযোগী ইকবাল হোসেনকে বিএনপির সদস্য, নূর হোসেনের কালেক্টর টিএইচ তোফাকে করা হয়েছিল জেলা তরুন দলের সভাপতি যে তোফাকে তৈমুর আলমের বাসায় গণসংবর্ধনা দেয়া হয়ছিল। আর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির বিশাল কার্যালয়টি দিয়েছিলেন নূর হোসেন।

নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে গেলে বিএনপি কার্যালয়ের ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় কার্যালয়েটি ভবন মালিক অনত্র ভাড়া দিয়ে দেন। এছাড়াও সাত খুনের পূর্বে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতারা নূর হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছিল। যে কারনে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে সাত খুনের পরে কোন আন্দোলনে যায়নি। উল্টো জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তৈমূর আলম খন্দকার নূর হোসেনের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছিলেন ‘নূর হোসেন হয়েছে বলির পাঠা। এ ঘটনায় রাঘোব বোয়াল জরিত।’ এছাড়াও সাত খুনের পুর্বে নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি দখলবাজি করলেও বিএনপি নেতারা এসব সুবিধার বিনিময়ে কখনও টু শব্দটাও করেনি। এছাড়াও নূর হোসেনের সাথে শামীম  ওসমানের মোবাইল ফোনে কথাপকথনের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পরেও বিএনপি নেতারা মুখ খুলেনি। কারন শামীম ওসমানের সাথেও জেলার শীর্ষ নেতাদের আতাত রয়েছে। এ বিষয়ে শহীদ মিনারে এক সমাবেশে শামীম ওসমান নিজেই বলেছিলেন ‘নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কিছু পাতি নেতা আছে যারা দিনের বেলা বড় বড় কথা বলেন আবার রাতের বেলায় আমাকে ফোন করে বলে, ভাই শামীম আমাকে একটু দেখিস; শামীম ভাই আমাকে একুট দেইখেন।’

এদিকে শিক্ষককে কান ধনে জনতার সামনে ওঠ বস করানোর কারনে খোদ সরকারি দল ও জাতীয় পার্টির এমপি মন্ত্রীও নিন্দা জানিয়ে সেলিম ওসমান সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েছে। কিন্তু সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে নিজেই আইন হাতে তুলে নেয়ার কারনে কোন কথা বলছে না বিএনপি। এর পিছনের কারন হিসেবে জানাগেছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এ এমপি সেলিম ওসমানকে জয়ী করার পিছনে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা ছিল বিএনপির নেতাদের। বন্দরে বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল সেলিম ওসমানের নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন। আতাউর রহমান মুকুলের লোকজন প্রকাশ্যে লাঙ্গলের বেজ লাগিয়ে ভোট চেয়েছিল। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সেলিম ওসমানের নির্বাচনী সভায় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম সম্পাদক শওকত হাশেম শকু ও সাইদুজ্জামান সাইদ সহ অনেকেই। এছাড়াও নগর বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন দেওয়ান প্রকাশ্যেই লাঙ্গলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করায় দল থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। নির্বাচনের আগের দিন রাতে একজন শিল্পপতির মাধ্যমে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের অর্থের মাধ্যমে ম্যানেজ করা হয়। যে কারনে নির্বাচনের দিনেও ভোট কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল বিএনপি নেতাদের লাঙ্গল প্রতীকের ব্যাজ লাগিয়ে ভোট দিতে।

নির্বাচনের অনেক আগেই তৈমুর আলম খন্দকার ও তার ভাই মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খোরশেদ দেশে ছেড়ে চলে যান। যার পিছনেও ছিল আতাত। এছাড়াও নির্বাচনের পর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের বিরুদ্ধেও আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ ওঠেছিল। ওই সময় থেকেই সেলিম ওসমানের কাছে ধরা খাওয়া বিএনপি নেতারা। যে কারনে কান ধরে শিক্ষককে ওঠ বস করালেও বিএনপি নেতারা কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে সম্প্রতি  ২৩ এপ্রিল শেষ হলে সদর উপজেলা পরিষদের ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে শুধুমাত্র এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদেই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনে ভোট গ্রহনের দিন পর্যন্ত ছিলেন। বাকী ৫টি পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে যায়। যার পিছনে কাজ করেছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  আবুল কালাম  আজাদ বিশ্বাস। আজাদ বিশ্বাসই সরকারি দলের এক এমপির দালালী করে প্রার্থীদের বসিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনকি ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও আজাদ বিশ্বাসের বহিস্কার দাবি করেছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ওই দাবির প্রেক্ষিতে তৈমুর আলম শাহআলমকে ও আজাদ বিশ্বাসকে শোকজ করেছিলেন এবং সদর উপজেলার ৫ জন প্রার্থী ও একজন বিএনপি নেতাকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। ওই সময়ের নির্বাচনটিও ছিল সরকারি দলের এমপিদের সাথে আতাত। নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য হলেন একেএম সেলিম ওসমান ও একেএম শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে ম্যানেজ করে এ দুজন সংসদ সদস্য মুঠোবন্দি করে ফেলেছে। যে কারনে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান তো দূরের কথা কোন কথাও বলছে না এখানকার বিএনপি নেতারা।

কাঠগড়ায় মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলেন নূর হোসেন

চা ঞ্চল্যকর সাত খুনের দুটি মামলায় একজন বিচারিক ম্যাজিষ্ট্রেটসহ ৫জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, সাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালে আদালতের কাঠগড়ায় হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান দুটি মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকালে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন ও র‌্যাবের প্রাক্তন তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৩ আসামীকে হাজির করা হয়। পরে সকাল  ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। আগামী ৩০ মে আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী এড. ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সাত খুর মামলায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি গ্রহণ করায় মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এইচ এম শফিকুল ইসলাম, হত্যাকান্ডের আলামত জব্দের সাক্ষী আজাদ শেখ, আব্দুল আউয়াল, রহিম ও হাসানের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে, সাক্ষ্য গ্রহণ কালে সকাল সাড়ে ১১ টায় আদালতের কাঠগড়ায় হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যান মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন। এসময় তাকে দ্রুত কাঠগড়া থেকে বের করে মাথায় পানি ঢেলে পাখার নীচে বসানো হয় বলে জানান আইনজীবীরা।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো: হাবিবুর রহমান জানান, সাক্ষ্য গ্রহণকালে নূর হোসেন মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলেও মাথায় পানি দেয়ার পর স্বাভাবিক হয়।
সাত খুনের দুটি মামলায় একটির বাদী নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও অপরটির বাদী নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় পাল। দুটি মামলায় অভিন্ন সাক্ষী রয়েছেন ১২৭ জন। এপর্যন্ত ৫৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।ঙ্গলবার বিকেল ৪ টায় বন্দরের সাবদী বাজার সংলগ্ন দিগলদী এলাকা থেকে অজ্ঞাত পাগল পুরুষ (৭০) এর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠায়। এ ব্যপারে বন্দর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নং ৭/১৬। নিহত পাগলের পড়নে ছিল চেক লুঙ্গী ও গেঞ্জী।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৪ মে ২০১৬

Related posts