September 22, 2018

নৌকা না জিতিয়ে বিপাকে রিটার্নিং অফিসার

269
সদ্য সমাপ্ত হওয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে জেতানোর ব্যবস্থা না গ্রহণ না করে বিপাকে রয়েছেন রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত পাল। ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার বাসায় বোমা হামলাসহ নানা ধরনের হুমিকর স্বীকার হচ্ছেন তিনি। এসব থেকে বাঁচতে জনপ্রশাসনের এই কর্মকর্তা মন্ত্রী পরিষদের সচিবের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবিহিত করেছেন। ময়মনসিংহ-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে উঠা ওই অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে ইসি। বুধবার এ সংক্রান্ত চিঠি প্রধানমন্ত্রীর ও স্পিকারের দপ্তরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে বিষয়টি তদন্তকরে সত্যতা পাওয়ার পর ওই এমপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের কাছে ইসির চিঠি দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত পালের ওই অভিযোগ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এসেছে। সেখান থেকেই তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলছে ইসি। ভোট শেষ হওয়ার পর এ নিয়ে কমিশনের তেমন কিছু করার নেই বলেও জানান তিনি। আবু হাফিজ বলেন, সরকারদলীয় প্রার্থীকে জয়যুক্ত করার বিষয়ে এমপি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সরাসরি হুকুম দিয়েছেন। নানাভাবে তাকে হুমকি দিয়েছেন। এটা তো বড়ধরণের থ্রেটের পর্যায়ে চলে গেছে।

এই সংসদ সদস্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা যথাযথ জায়গায় চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, আমরা ফুলপুরের বিষয়টি সিরিয়াসলি নিয়েছি। সংসদ সদস্যের পক্ষে কাজ না করায়, তার কথা না শোনায় হুমকি দিয়েছে। এটা বড় অন্যায়। ইসি কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনতে তার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও সংসদ সচিবের মাধ্যমে স্পিকারকে বুধবার বিকেলে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ওই পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপির আমিনুল হক ৪ হাজার ৮৩৭ ভোট পেয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের শশধর সেন পান ৩ হাজার ৮৯২ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তা সুব্রত পাল ওই রাতেই ফল ঘোষণা করেন। এছাড়া নির্বাচনের সময় এই রিটার্নিং কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে শোকজ নোটিস দিয়েছিলেন। ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময় ইউএনও সুব্রত পালের বাসার সামনে বোমা হামলার ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুব্রত পাল জানান, ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ফল ঘোষণার সময় আমার বাসায় বোমা হামলা হলো। আপনারা তো এ নিয়ে কোনো রিপোর্টও করলেন না!

ভোটের পর সার্বিক বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসককে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়। ইসি কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটানোর বিষয়টি বলা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে সরকারদলীয় প্রার্থীকে জেতাতে ওই সাংসদ ফোনে বারবার চাপ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য ভয়ভীতি ও হুমকিও দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

সুত্রঃ ইনকিলাব
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts