November 17, 2018

নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন শফিক চৌধুরী

received_578397359246223মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতিক নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে নিজ নির্বাচনী এলাকা সিলেটের ‘বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলা’ নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনের নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী। সর্বদা রাজনীতি নিয়ে ব্যস্থ থাকার কারণে তৃণমূল মানুষের কাছে তিনি ইতিমধ্যে ২৪ ঘন্টার রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। 

নিজের নির্বাচনী আসনে নৌকার বিজয়ের পাশাপাশি জেলায় থাকা অন্য আরো ৫টি আসনেও যাতে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত হয় সেজন্য জেলা আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিরলসভাবে রাজনৈতিক মাঠে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন শফিক চৌধুরী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও তাঁরই যোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশই হচ্ছে শফিক চৌধুরীর রাজনীতিক পথচলার প্রধান শক্তি। যে কারণে এলাকাবাসীর কাছে তিনি শতভাগ আশ্বাভাজন একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। এজন্যই তার প্রতি থাকা ভালবাসার টানেই এলাকার যেকোন কঠিন সমস্যার সঠিক সমাধানের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন ছুটে যান শফিক চৌধুরীর কাছে। সেখানে গেলে তৃণমূলের মানুষজন নিজেদের বিশ্বাসের সঠিক মূল্যায়নও পান।

সিলেট-২ আসনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য চিরাচরিত নিয়মের চেয়ে দলীয় কার্যক্রম গ্রহন করা হয়েছে অধিক হারে বেশি। বিগত কয়েক মাস ধরে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থানকে অতীতের চেয়ে আরোও শক্তিশালী করে তুলতে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়েও একাধিক কর্মীসভা ও বর্ধিত সভা এবং মতবিনিময় সভা করেছে আসছেন জনগণের প্রিয়নেতা আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী। এছাড়া নৌকার সমর্থনে দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল বিশাল জনসভা।

সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী যে কখনই দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করেন না সদ্য সমাপ্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনই হচ্ছে এর উৎকৃষ্ঠ প্রমান। কারণ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়ে শফিকুর রহমান চৌধুরী এলাকার যে উন্নয়ন করিয়ে ছিলেন, তাতে তিনি যদি ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীও হতেন তাহলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন বলে এখনও বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বরং তিনি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে ও নির্দেশে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়াকে বিজয়ী করতে নিরলসভাবে বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের গ্রামে-গঞ্জে দিনরাত পরিশ্রম করে তার বিজয় নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে।

নিজের ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতার কারণে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা না করেও এলাকার মানুষের মনে তিনিই এমপির আসনে অধিষ্ঠিত আছেন। আর এজন্যই এমপি না হয়ে বিগত ৫ বছরে তিনি ‘বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জ উপজেলা’ শতভাগ বিদ্যুতায়ন করার পাশাপাশি বাস্তবায়িত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫১ শয্যায় উন্নীত করণ, রামপাশা ইউপি কমপ্লেক্স নির্মাণ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ সরকারীকরণ ও ভবণ নির্মাণ’সহ এলাকার একাধিক উন্নয়ন কর্মকান্ড। আবার সাধারণ মানুষের অনেকেই এখনও বিশ্বাস করেন বিগত নির্বাচনে শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হলে এসময়ের মধ্যে বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর-বালাগঞ্জে গ্যাস সংযোগ সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি ‘বিশ্বনাথ ও বালাগঞ্জ’ পৌরসভায়ও উন্নীত হত।

8.11.18= 0বিগত কয়েকদিনে বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীর যোগদান করা অনুষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হল- গত ২৬ অক্টোবর শুক্রবার রাতে উপজেলা সদরের নতুন ও পুরাণ বাজার এলাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতিক নৌকায় ভোট চেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সরকারের বাস্তবায়নকৃত উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরে প্রস্তুত করা লিফলেট বিতরণ ও আনন্দ মিছিল, ২৯ অক্টোবর সোমবার রাতে ‘জেল হত্যা দিবস’ পালনের লক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রস্তুতি সভা, ২ নভেম্বর শুক্রবার রাতে ‘জেলহত্যা দিবস’ উপলক্ষে উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে সুযোগ পাওয়া উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের মাখরগাঁও গ্রামের হত-দরিদ্র কৃষক আবদুল খালিকের পুত্র সুমন মিয়ার পাশি দাঁড়িয়ে তাকে আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করা, ৩ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় ও রাতে ‘জেলহত্যা দিবস’ উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং দেওকলস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক বিশাল আলোচনা সভা, ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার রামপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভা, ২১ অক্টোবর রোববার রাতে উপজেলার দশঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মীসভায়’সহ এলাকার বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুবরণকারী বিভিন্ন জনের জানাযা, কুলখানী, বিয়ে-সাদী ও সামাজিক-পারিবারিক নানান অনুষ্ঠান।

বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব পংকি খান ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আমির আলী চেয়ারম্যান বলেন, সিলেট-২ আসনের উন্নয়নের জন্য নৌকার মাঝি হিসেবে আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীর কোন বিকল্প যেমন দলে নেই, তেমনি মহাজোটেও নেই। তিনি এমপি থাকাকালে বিশ্বনাথ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে গ্যাস সংযোগের কাজ শুরু হয়, কিন্তু তিনি বর্তমানে এমপি না হওয়ায় গ্যাস সংযোগের কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ওসমানীনগর থানা থেকে উপজেলায় এবং বিশ্বনাথে ২১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫১ শয্যায় উন্নীত হয়েছে ও নির্মিত হয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। তাই এলাকার উন্নয়নের জন্য উহার (শফিক চৌধুরী) মত যোগ্য নেতারই প্রয়োজন।

ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলু বলেন, বিগত ৫ বছর এঅঞ্চলে আওয়ামী লীগের এমপি না থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। এমনকি আমাদের দলীয় সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীর আমলে চলমান থাকা অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এই ৫ বছরে স্থবির হয়েছে পড়েছে। যে কারণে এলাকায় জনদূর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই দলের প্রয়োজনে ও মানুষের চাহিদা পূরণে আসন্ন নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে নৌকার মাঝি হিসেবে সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী আলহাজ্ব শফিকুর রহমার চৌধুরীকে দেখতে চাচ্ছেন। তিনি এমপি নির্বাচিত হলে যেমন দল আরোও শক্তিশালী হবে, তেমনি এলাকার জনগনও পাবেন নিজেদের প্রাপ্য কাঙ্খিত সেবা।

Related posts