September 22, 2018

নেত্রকোনা-ঢাকা রেলপথে আন্তনগর ট্রেনে আসন সংকট, দুর্ভোগ বাড়বে আসন্ন ঈদে

Pic-3

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও বড় রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেনে চাহিদার তুলনায় অনেক কম আসন বরাদ্দ করায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজারো যাত্রী। উপরন্তু এ দুটি স্টেশনে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হওয়ায় যাত্রীদের বেশি দাম দিয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক যাত্রী আগে গিয়েও টিকিট কিনতে পারেন না। আসন্ন ঈদে এ দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ট্রেনে বরাদ্দ আসনের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। এ সুযোগে স্থানীয় কিছু লোক টিকিট কালোবাজারি করছে। টিকিট কালোবাজারিতে স্টেশনমাস্টার ও টিকিট মাস্টাররা জড়িত রয়েছেন। তবে ওই কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা আরও জানান, আসন-সংকটের কারণে অধিকাংশ যাত্রীকে বগির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এভাবে চলাচল করতে বৃদ্ধ ও শিশুদের ভীষণ সমস্যা হচ্ছে।

নেত্রকোনা পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, আন্তনগর হাওর এক্সপ্রেসের একটি টিকিটের জন্য দুই দিন আগে স্টেশনে গিয়ে কোনো টিকিট পাইনি। ওই দিন স্টেশনমাস্টার নজরুল ইসলাম আমাকে জানিয়েছিলেন, আরও দুই দিন আগেই নাকি টিকিট শেষ হয়ে গেছে।

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই কেডিসি এলাকার মোহত মিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য গত সোম ও মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বড় স্টেশনে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

সাতপাই এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাউন্টারে টিকিট না থাকলেও কালোবাজারে ঠিকই পাওয়া যায়। আমি বেশ কয়েকবার ৫০-১০০ টাকা বেশি দিয়ে টিকিট কিনেছি। তিনি বেশ কয়েকজনকে দিয়ে এ ব্যবসা করে আসছেন। এতে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। যদি আসন বরাদ্দ বেশি থাকত তবে কালোবাজারি কিছুটা হলেও কমত।’

ট্রেনে আসন বৃদ্ধি ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধের দাবিতে ‘নেত্রকোনা উন্নয়নে নাগরিক আন্দোলন, সচেতন নেত্রকোনাবাসী, জনউদ্যোগসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন মানববন্ধন ও রেলমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা নেত্রকোনা বড় স্টেশনের টিকিট মাস্টার মো. নজরুল ইসলামের অনিয়ম, টিকিট কালোবাজারিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে নেত্রকোনা বড় স্টেশনের টিকিট মাস্টার বলেন, বেশ কয়েক মাস ধরে কালোবাজারিতে কোনো টিকিট বিক্রি হয় না। এটি মিথ্যা অভিযোগ। কেউ হয়তো কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিয়ে সেই টিকিট অতিরিক্ত দামে বিক্রি করতে পারেন। আর মাঝে মাঝে যারা ফেরত দেয় তা অনেকে কিনে বিক্রি করতে পারে।

রেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ-ঢাকা ২১০ কিলোমিটার রেলপথে হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস নামে দুটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। প্রতিটি ট্রেনেই ছয় শতাধিক করে আসন রয়েছে। মোহনগঞ্জ থেকে হাওর এক্সপ্রেসে ক্যাবিন ১২টি, শোভন চেয়ার ৪০টি, শোভন সাধারণ ১০৫টি এবং নেত্রকোনা বড় স্টেশন থেকে ক্যাবিন ৬টি, শোভন চেয়ার ২৫টি, শোভন সাধারণ ৫৫টিসহ ১০১টি আসন। মোহনগঞ্জ থেকে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) আসন ৩৩টি, ক্যাবিন ১০টি, শোভন চেয়ার ৭০টি, শোভন সাধারণ ১০১টিসহ মোট ১৬৮টি আসন। ওই ট্রেনে নেত্রকোনা বড় স্টেশন থেকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) ২৫টি, প্রথম শ্রেণি ৬টি, শোভন চেয়ার ৫০টি ও শোভন সাধারণ শ্রেণির ১০৫টিসহ ১৯৪টি আসন।

মোহনগঞ্জ স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘মোহনগঞ্জ থেকে ট্রেনে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। গত বৃহস্পতিবার শুধু হাওর এক্সপ্রেসেরই ৫২০টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে তাঁদের জন্য দুটি ট্রেনে ৩২০টির মতো আসন বরাদ্দ রয়েছে। এ কারণে অনেক সময় টিকিট দিতে ঝামেলা হয়। এ সমস্যা সমাধানে ট্রেন দুটিতে বেশি আসন বরাদ্দ চেয়ে বেশ কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা বড় স্টেশনের টিকিট মাস্টার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই স্টেশনে হাওর এক্সপ্রেসের জন্য ১০১টি ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ১৯৪টির মতো আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এ কারণে এখান থেকে সহজে আসন পাওয়া যায় না। আসন বিক্রি নিয়ে প্রতিদিন আমাদের রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে আমাদের বিবাদে জড়াতে হয়।’

এ বিষয়ে বড় স্টেশনের স্টেশনমাস্টার আসন-সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হাওর এক্সপ্রেসে তাঁদের স্টেশনের জন্য মাত্র ১০১টি আসন বরাদ্দ দিলেও প্রতিদিন গড়ে ২৫০টি টিকিট বিক্রি হয়। যাঁরা আসন পান না, তাঁদের স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, ট্রেনে টিকিট কালোবাজারি রোধ ও বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ বন্ধ করতে কিছুদিন পরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

Related posts