September 24, 2018

নেত্রকোনায় বন্যায় তলিয়ে গেছে ছয়শ কোটি টাকার ফসল

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলায় সপ্তাহের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় পাহাড়ী ঢলে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে উঠতি আধা-পাকা বোরো ধান। মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, মদন, কলমাকান্দা, আটপাড়া ও দূর্গাপুরের বিভিন্ন হাওর ও বিলে প্লাবনের পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ফসল।
জেলার সবচেয়ে বড় মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোPic-1তা হাওর। আগাম বন্যার পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমির ফসল। যার মূল্য প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। এ হাওর পাড়ে কৃষকরা করছে হাহাকার। একদিকে যেমন ফসল হারিয়ে সারাবছর চাল কিনে খেতে হবে, অপরদিকে আগামী বোরো মৌসুমে ধান চাষ করার মত টাকা বা পুঁজিও বন্যার জলে ভেসে গেছে।
কৃষকরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অনিয়ম, দুর্নীতিকে ফসল তলিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী করছেন।
কৃষক চান্দন ও ফজলু মিয়া জানান, বিশ একর করে জমিতে ধান চাষ করেছিলাম। এ বছর ফলনও হয়েছিল ভাল। কিন্তু আগাম বন্যায় সে স্বপ্ন বিলিন হয়ে গেল। সরকার যদি আর্থিক সুবিধা ও বিনা সুদে ঋণ না দেয়, না খেয়ে মরতে হবে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে। দুর্নীতিবাজ সরকারি লোকদের ভন্ডামী আর স্বার্থপর নেতাদের কারণে বন্যার বাঁধ না দেয়ায় সব তলিয়ে গেল। চৈত্র মাসে এইরকম আগাম বন্যা গত পঞ্চাশ বছরেও দেখিনি। এদিকে, আকস্মিক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে, নেত্রকোনা সীমান্ত উপজেলা কলমাকান্দার খারনৈই ইউনিয়নের একাধিক হাওর ও বিল।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান জানান, মাত্র দুইদিনের মধ্যে আমার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি হাওর ও বিল পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এখন প্রয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ত্রাণ ও নগদ আর্থিক ঋণসহ পরামর্শ দেওয়া।
মোহনগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম জানান, চর-হাইজদা বাঁধ ভেঙে ডিঙ্গাপোতা হাওরে প্রায় সাত হাজার পাঁচশত হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে প্রায় বিশ হাজার কৃষক। Picকৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলাশ চন্দ্র পাল জানান, আকস্মিক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার মদন উপজেলার একাধিক হাওর। আটপাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ বোরো এলাকাও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এ বছর জেলায় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৩শ ৮২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। এতে মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলায় আবাদ হয়েছিল ৪০ হাজার ৫শ হেক্টর জমি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তাহের দেওয়ান বলেন, আমরা বন্যার খবর পেয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গিয়ে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু বন্যা প্রবল হলে বাঁধ দিয়ে হাওরের ফসল রক্ষা করা কোনমতেই সম্ভব হয়নি। এ বছর বাঁধ নির্মাণের জন্য পৌনে ৯ কোটি টাকা বরাদ্ধ হয়। এরমধ্যে ঠিকাদারের মাধ্যমে ৬ কোটি টাকা এবং পিআইসির মাধ্যমে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার কাজ হয়েছে। আমাদের কাজে কোন ধরণের অবহেলা ছিল না।

Related posts