November 18, 2018

নেত্রকোনায় আগাম বন্যায় পানিদূষণে মাছের মড়কে হাওরবাসী আতঙ্ক

Pic (2)

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : অব্যাহত বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট অকাল বন্যায় নেত্রকোনা জেলায় সরকারি হিসাবে ক্ষতির পরিমান ৪৭ হাজার ৯ শত  ৯০ হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান। পানিতে তলিয়ে আধাপাকা ধানগাছ পচে পানিদূষণে বিভিন্ন হাওরে দেখা দিয়েছে মাছের মড়ক। এ নিয়ে হাওরবাসীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে।

জেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সময় মত সঠিক ভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ না করায় চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া অতি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বাঁধ ভেঙ্গে নেত্রকোনা জেলার ছোট বড় ১শত ৪০টি হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। আগাম বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলাগুলো হচ্ছে খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, আটপাড়া ও কেন্দুয়া। নেত্রকোনা চলতি বোরো মওসুমে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩ শত ২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়।

আগাম বন্যায় ডিঙ্গাপোতা হাওর, পাঙ্গাসিয়া হাওর, ছায়ার হাওর, চৌতারা হাওর, হালদা হাওর, নাজিরপুর হাওর, গনেশের হাওর, তলার হাওর, ধলার হাওর, কয়ার হাওর, গোড়াডোবাপা হাওর, মহিষাশুড়া হাওর, বড় হাওর, জালিয়ার হাওর ও শুনই হাওরে ৪৭ হাজার ৯ শত  ৯০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪ শত ৭০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সারা বছরের একমাত্র কৃষি ফসল বোরো ধান বিনষ্ট হওয়ার পর দ্বিতীয় সম্পদ হাওরের মাছও এখন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন।

ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান পচে গিয়ে এক ধরনের দুর্গন্ধ ও বিষক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় এবং অক্সিজেনের অভাবে  হাওরের মাছ মরে ভেসে উঠছে। হাওরের মরা মাছ খেয়ে বিভিন্ন ধরণের পাক-পাখালি ও হাঁস মরে যাচ্ছে। এ নিয়ে হাওরবাসীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে।

মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরপাড়ের গ্রাম তেতুলিয়ার কৃষক বাশির উদ্দিন বলেন, আমার পঞ্চাশ বছর বয়সে এ চৈত্রমাসে এইরকম আগাম বন্যা দেখি নাই।পানিতে ভাইস্যা ধান ডুইব্বা গেল। গরুর ঘাস নাই, বাজারে আধা দামে বেচতাছি। দূষিত পানিতে মাছ মইরা ভাসতাছে। অহন আমরা কি খাইয়াম !!

Pic (1)

উপজেলার মোহনগঞ্জ মৎস্য কর্মকর্তা দিলীপ সাহা জানান, অকাল বন্যায় পানি চলে আসায় ডিঙ্গাপোতা হাওরের সকল কাচা পাকা ফসল তলিয়ে গেছে। ফলে সেগুলো পানির নীচে পচন ধরে গেছে। এতে এক ধরনের গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছে। মৎস্য গবেষকরা পানির পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য নমুনা নিয়ে গেছে। তবে প্রাথমিক ভাবে পানির অক্সিজেন একেবারে মাত্রাতিরিক্ত কম পাওয়া গেছে। যে কারনে অক্সিজেনের অভাবে মাছ গুলো মরে যাচ্ছে। আর অক্সিজেনের অভাবে মরা মাছ খেলে ক্ষতি নেই বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন বিশাল হাওরে পানি শোধন করারও তেমন ব্যবস্থা নেই। তাদের নিয়ে আমরা হাওর পরিদর্শন করেছি। তারা পরবর্তীতে যে নির্দেশনা দিবেন আমরা সে মতে কাজ করবো।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ড. মোঃ মুশফিকুর রহমান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রনয়নের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ২১ লাখ টাকা এবং ২শত ১৫টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও হত দরিদ্রদের মাঝে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এলাকায় মাছের মড়ক আতংকিত না হতে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Related posts