September 23, 2018

নেত্রকোনায় প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

22222

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনায় শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও অফিস সহকারীর অভাব এবং অধিকাংশ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ২৭৭টি। অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদ ১ হাজার ১৩৫টি। সহকারী শিক্ষকের পদ ৫ হাজার ৩৫৭টি। এর মধ্যে ৩১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ ও ৪৫৮ জন সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। বর্তমানে ৩ লাখ ১ হাজার ৬০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৫ হাজার ৭১৬ জন। এ ছাড়া ১০টি উপজেলায় ২১টি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিইও) পদ ও ১৭ জন কম্পিউটার কাম অফিস সহকারীর পদও শূন্য রয়েছে।
সদর উপজেলায় দুজন এটিইও, ২০ জন প্রধান শিক্ষক, পূর্বধলায় একজন এটিইও, ৩৮ জন প্রধান শিক্ষক, কলমাকান্দায় তিনজন এটিইও, ৪৮ জন প্রধান শিক্ষক, কেন্দুয়ায় চারজন এটিইও ৬০ জন প্রধান শিক্ষক, বারহাট্টায় দুজন এটিইও, ২১ জন প্রধান শিক্ষক, মোহনগঞ্জে দুজন এটিইও, ১৪ জন প্রধান শিক্ষক, আটপাড়ায় দুজন এটিইও, ৩২ জন প্রধান শিক্ষক, দুর্গাপুরে তিনজন এটিইও, ২৭ জন প্রধান শিক্ষক, মদনে দুজন এটিইও, ৩৪ জন প্রধান শিক্ষক ও খালিয়াজুরিতে ২৪ জন প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য আছে।
কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের খলা ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক তারা মিয়া তালুকদার বলেন, ‘বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। মাঝে ছয় মাসের জন্য একজন প্রধান শিক্ষিকা দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে মাত্র দুজন শিক্ষক আছেন। এর মধ্যে একজনকে সব সময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থকতে হয়। এ অবস্থায় আমার ছেলে জিহাদ আসন্ন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেবে বুঝতে পারছি না।’ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিভূতিভূষণ নাগ বলেন, ‘পাঁচটি পদের মধ্যে আমরা দুজন শিক্ষক আছি। আমাকে দাপ্তরিক কাজে বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। এভাবে ২১৬ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে অনেকটাই হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
দুর্গাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মা বলেন, ‘এখানে ২৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। চারটি এটিইও পদের মধ্যে একজন মাত্র কর্মরত। অফিসে নেই কোনো কর্মসহায়ক (পিয়ন)। একদিকে এই অঞ্চলটি পাহাড়ি এলাকা, অন্যদিকে আমাদের জনবল-সংকট থাকায় খুবই সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন সরকারি হওয়া ৩৯টি বিদ্যালয়ের ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলোর কোনোটার ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, কোনোটার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছি।’ জেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, বিষয়টি বিভাগীয় উপপরিচালক, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

Related posts