December 18, 2018

নুর হোসেনকে রিমান্ডে নেওয়ার দাবি; প্রয়োজন হলে রাস্তায় নামবে আইনজীবীরা

৭ খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ    নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে জেলা আইনজীবী সমিতির একাংশ।

বুধবার দুপুরে আদালতপাড়ায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মামলার বাদী নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলামের আইনজীবী এডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন খান, সিনিয়র আইনজীবি মাহবুবুর রহমান মাসুম ছাড়াও অন্যান্য আইনজীবিরা।

নূর হোসেনকে রিমান্ডে নেয়ার সুযোগ নেই-জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি আনিছুর রহমান দীপুর এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবি ও জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন খান বলেন, আমরা বলতে চাই ওই নূর হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতা করলে চলবে না। নূর হোসেনকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে চলবে না। সাধারণ আইনজীবীরা আবার প্রয়োজন হলে আগের মতো আন্দোলনের রাস্তায় নামবে। নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আপনারা এই আইনজীবীদের কাতারে এসে দাড়াবেন, আইনজীবীর পক্ষে কথা বলবেন, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলবেন।

কোন সন্ত্রাসীদের রক্ষার চেষ্টা করবেন না। তিনি আরো বলেন, নূর হোসেনকে রিমান্ডে নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এ্যাটর্ণি জেনারেল মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহম্মেদ ও বিচারপিত আমিরুল ইসলাম, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তাহলে তারা কী ভূল বলেছেন? তারা কী আইনের ভূল ব্যাখা দিয়েছেন? আমরা বলতে চাই আপনারা সঠিক কথা বলছেন না। দেশের সকল প্রকার বুদ্ধিজীবীরাও নূর হোসেনকে রিমান্ডে এনে পুন: রায় তদন্তের জন্য বলছেন। আইনজীবী সমিতিকেও  আইনজীবীর স্বার্থে কথা বলতে হবে, আইনজীবীদের বিপক্ষে গেলে চলবে না। সঠিক পথে আসতে হবে, তাহলে আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।

সিনিয়র আইনজীবি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, জেলা আইনজীবী সমিতি সিনিয়র আইনজীবী বাবু চন্দন কুমার সরকারের লাশের উপর পাড়া দিয়ে তারা আজকে যে কথা বলতে চায়- তা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী। রিমান্ডে আনা যাবে না, এতো সুন্দর অভিযোগপত্র নাকী পৃথিবীর কোন দেশে আসে না। তারা সংবাদ সম্মেলনেও বলে আবার তাদের নেতা বাইরেও বলে। এমন অবস্থা পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে, বরেণ্য আইনজীবীরা বলেছে, নূর হোসেনকে রিমান্ডে নেয়া সম্ভব। আর তারা বলেন, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে আর রিমান্ডে নেয়ার সুযোগ নেই।

নূর হোসেন যে পালিয়ে গেল, মামলা কেন হলো না- পুলিশ প্রশাসনের কাছে জানতে চাই। জানতে চাই, ওই মামলায় কেন তাকে রিমান্ডে নেয়া যাচ্ছে না। সাপলিমেনটারী চার্জশীট বলে আইনে কথা আছে, নূর হোসেন কলকাতাতে যে পালিয়ে গিয়েছিল পুলিশ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারেনি। সরকার নিয়ে এসেছে তাকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু পাশাপাশি তার রিমান্ড কেন হবে না? কেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সংশ্লিষ্ট্রতা, তার নির্দেশদাতা কে, পরিকল্পনাকারী কে ছিল, কারা র‌্যাবকে টাকা দিয়েছিল সমস্ত বিষয়গুলো তদন্ত করে সাপ্লিমেনটারী অভিযোগপত্র দেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধ জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য : গত ১৩ নভেম্বর ভারতের কোলকাতা জেল থেকে নুর হোসেনকে বিএসএফ  বাংলাদেশের বর্ডারগাডের কাছে হস্তান্তর করে। পরে র‌্যাব-পুলিশ তাকে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে আসে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা নুর হোসেনকে রিমান্ডের আবেদন না করায় আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরন করে। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ওসামানী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র আইনজীবি চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরন করে। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts