December 18, 2018

নীলফামারীতে পল্লী বিদ্যুতের তারে দুইজন নিহতের ঘটনায় জিএমসহ বরখাস্ত-৩

ফাইল ছবি।

ক্রাইমরিপোর্টার নীলফামারীঃ নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের খামার গাড়াগ্রামে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিড়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যু ও ৯ জন আহত হবার ঘটনায় পল্লী বিদ্যৎ সমিতির পক্ষে পৃথক দুইটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। সেই সাথে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) ইনসের আলী ও টেপার হাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ ও লাইনম্যান রুবেল হোসেনকে চাকুরী হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বশীল একটি বিশ্বত্ব সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। অপর দিকে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ মহাব্যবস্থাপন মকছেমুল হাকিমকে প্রধান করে আরেকটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষে জানানো হয় নিহতদের দাফনে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপুরন দেয়া হবে। সেই সাথে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার সকল খরচ বহন করা হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ মহাব্যবস্থাপক মকছেমুল হাকিম বলেন, এ ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সেখানকার টেপার হাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ ও লাইনম্যান রুবেল হোসেনকে চাকুরী হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রংপুর অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিস্টেম অপারেশন) মাসুদ আলম জানান, ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের এক নির্দেশে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহা ব্যবস্থাপক (জিএম) ইনসের আলীকে চাকুরী হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত মহা ব্যবস্থাপক হিসাবে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ মহাব্যবস্থাপক মকছেমুল হাকিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

খামাড় গাড়াগ্রামের মাহফুজার রহমান (৩০) বলেন, রবিবার রাত সারে সাতটার দিকে গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের খামার গাড়াগ্রাম গ্রামের সাদাকাত হোসেনের ছেলে বিপ্লব হোসেনের ঘরের ওপর পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ লাইনের তার ছিড়ে পড়ে। এসময় বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী রাশিদা বেগম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘরের ভেতর মেঝেতে পড়ে যান। আশপাশে আগুন জ্বলতে থাকে। তার চিৎকারে আমি পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযোগ কেন্দ্রে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করি। এসময় বিপ্লব হোসেন বাড়িতে ছিলেন না। পরে তাকে খবর দেওয়া হলে তিনি একখানা পিকআপ নিয়ে বাড়িতে আসেন, এবং স্ত্রীকে ওই পিকআপে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়ে প্রতিবেশিদের নিয়ে আগুন নেভাতে ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন।

ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর আবারও কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান প্রতিবেশি একই গ্রামের রণচন্ডি-ইউনিয়রে জাবেদ আলীর ছেলে সাজেদুর রহমান বাবু (৩০)। আহত হন ১১জন। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান প্রতিবেশি রণচন্ডি ইউনিয়নের খামার গাড়াগ্রাম গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে তারিকুল ইসলাম (২৮)।

গ্রামের মানিক মিয়া (৩০) বলেন, নিহত সাজেদুর রহমান একটি মসজিদে ইমামতি করতেন এবং তারিকুল রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এমএ পাশ করার পর চাকুরী খুজছেন। তার তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

তারিকুল ইসলামের বাড়িতে তখন চলছিল শোকের মাতম। মা তহুরা বেগম (৬০) ও স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা (২২) জায়নামাজে বসে হাত তুলে দোয়া করছেন আর উচ্চস্বরে কাঁদছেন।

বাবা কফিল উদ্দিন (৭০) নির্বাক হয়ে গেছেন। এসময় কথা বললে কফিল উদ্দিন বলেন আমার তিন ছেলে পাঁচ মেয়ের মধ্যে তারিকুল চতুর্থ এবং ছেলেদের মধ্যে সবার বড়। তাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিলো, আজ থেকে সব শেষ হয়ে গেল। তিনি বলেন, যাদের গাফিলাতির কারণে এমনটি হলো আমি তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই। যাতে এভাবে আর কাউকে ছেলের লাশ কাধে নিতে না হয়।

তিনি জানান সোমবার উপজেলার খামার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তারিকুল ও মাজেদুর রহমানের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়েছে।

সেখানে কথা হয় নীলফামারী ৩ জলঢাকা কিশোরীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফার সঙ্গে। তিনি পল্লী বিদ্যুত সমিতির অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে কথা বললে, কিশোরীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত ) আশরাফুজ্জামান বলেন, দুই জনের মৃত্যুর ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। নিহত সাজেদুর রহমানের বাবা জাবেদ আলী বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেছেন।

তিনি জানান আহতদের মধ্যে ৯ জন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts