November 13, 2018

ত্বকীর বাবা রাব্বিকে কারাগারে প্রেরণের নেপথ্যে (ভিডিও)

রফিকুল ইসলাম রফিক: নারায়ণগঞ্জে সাংসদ শামীম ওসমানের মামা শ্বশুরের ৭০ লাখ টাকা চেক প্রত্যাখাত মামলায় নারায়ণগঞ্জে নিহত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর বাবা সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মে র আহ্বায়ক রফিউর রাব্বিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মিয়াজী শহীদুল আলম চৌধুরীর আদালতে আত্মসর্মপণ করলে তিনি এই আদেশ দেন।( নীচে ভিডিও সংযুক্ত )

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম জানান, চেকের মামলায় রফিউর রাব্বির সাজা হয়েছিল। এই সাজার বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপীল করেছিলেন। উচ্চ আদালত নি¤œ আদালতের রায় বহাল রেখেছিল। আজ রফিউর রাব্বি আত্মসর্মণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।

রফিউর রাব্বির আইনজীবী এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম জানান, এই মামলার বাদী শামীম ওসমানের মামা শ্বশুর। একটি জমি ক্রয় করা হয়েছিল, সেই জমি ফেরত দেবে মর্মে একজন আইনজীবীকে এই চেক দুটি দেয়া হয়েছিল। সেই আইনজীবীর যোগসাজশে এই মামলাটি হয়েছে। ত্বকী হত্যাকান্ডের পর ত্বকীর বাবা নারায়ণগঞ্জবাসীকে একত্রিত করে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ফলে রুষ্ট হয়ে শামীম ওসমানরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নীল নকশা বাস্তবায়ন করলো। এটা স্পষ্ট। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমরা উচ্চ আদালতে যাবো এবং ন্যায় বিচার পাবো বলে আশা করি।

উল্লেখ্য, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে রাফিউর রাব্বি ২০১২ সালের ৮ ও ১৫ ফেব্রুয়ারীতে মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মামা শ্বশুর জালাল উদ্দিন আহম্মেদকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংকের পৃথক দুটি চেকে ৭০ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ওই চেক দুটি ব্যাংকে প্রত্যাখাত হলে বাদী রফিউর রাব্বিকে বিবাদী করে ওই বছরের ২৫ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের জুন ২৪ জুন ওই মামলায় আদালত বিবাদী রফিউর রাব্বিকে এক বছরের কারাদন্ড ও দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মামলার বাদীকে এবং বাকী ৭০ লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

পরে রাব্বি ৩৫ লাখ টাকা জমা দিয়ে ওই আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করেন। উচ্চ আদালত নি¤œ আদালতের রায় বহাল রেখে নি¤œ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

ভিডিওঃঃ আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও এডঃ মাহবুবুর রহমান মাসুম, রফিউর রাব্বির আইনজীবীর বক্তব্য 

Related posts