November 21, 2018

নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর মুখও দেখতে চায় না তাঁর মা

ঢাকাঃ রাজধানী ঢাকার কল্যাণপুরে অপারেশন স্টর্ম-২৬ এ নিহত জঙ্গি মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ`র (২৮) মা মোসলেমা খাতুনের শখ ছিল ছেলে মাদরাসায় লেখাপড়া করে বড় আলেম হবে। সংসারের অভাব দূর করবে। কিন্তু মায়ের সে আশা পূরণ হয়নি। ছেলে হয়েছে জঙ্গি। তিনি এখন আর ছেলের মুখ দেখতে চান না।

বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৭ নং দাউদপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে আব্দুল্লাহ মায়ের সঙ্গে তাদের বাড়িতে কথা বলতে গেলে তিনি এ কথা জানান।

এদিকে, পুলিশ আব্দুল্লাহর বাবা সোহরাব আলী ও ভাই নুরুল ইসলামকে আটক করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকা নিয়ে এনেছেন।

আব্দুল্লাহর ভাই আবুল কালাম ও আব্দুস সালাম জানান, তাদের ভাই বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। এরপর দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি মাদরাসায় লেখাপড়া করতে করতে নওগাঁ আলাদিপুর হেফজ মাদরাসায় চলে যায়। সেখান থেকে রূপগঞ্জ ফাজিল মাদরাসায় ফাজিল ১ম বর্ষে পড়ত। গত এক বছর থেকে সে বাড়ির সঙ্গে শুধু মোবাইলে যোগাযোগ করতো।বাসায় আসেনি।

তারা আরো জনায়, গত ৫/৭ দিন আগে সে মোবাইলে তার বড় ভাই নুরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানায়, কুরবানির ঈদে বাসায় আসবে। মেরিনে সে চাকরির জন্য চেষ্টা করছে। এটাই ছিল তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের শেষ কথা।

তারা লাশ গ্রহণ করবে কিনা জানতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা এবং তার মা জানায়, তাদের বড় আশা ছিল ছেলে বড় আলেম হবে। কিন্তু ছেলে বড় আলেম না হয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে মৃত্যুকে বরণ করেছে। কাজেই তারা লাশ গ্রহণ তো করবেই না; তারা চায় লাশ যেন বাংলার মাটিতে দাফন করা না হয়।

প্রতিবেশী ফরিদুল ইসলাম বলেন, `ছোটবেলা থেকে মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ বেশ নম্র ও ভদ্র ছিল। কিন্তু কিভাবে সে জঙ্গি হয়ে উঠেছে তা আমাদের অবাক করেছে।`

মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ`র বড় চাচা সাইফুদ্দিন (৯০) বলেন, ছোটবেলা থেকেই সে ভাল ছাত্র ছিল। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সে ধর্মের নামে জঙ্গি হয়ে উঠবে এবং এভাবে তার মৃত্যু হবে তা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা তার লাশ গ্রহণ করতে চাই না।`

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহর পরিবারটি একটি ধর্ম ভীরু পরিবার। তার বাবা ও বড় ভাই নুরুল ইসলামকে ডিএনএন পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মোতালেব ওরফে আব্দুল্লাহ`র সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল কিনা প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তার সম্পর্কে আগাম কোনো তথ্য জানা ছিল না। তবে এ থানায় কয়েকজন জঙ্গি রয়েছে।এদের মধ্যে কয়েকজন জেলে রয়েছে। বাকীগুলোকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

লাশ নিয়ে আসা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিবারের লোকজনরা লাশ গ্রহণ করতে চান না। আপরদিকে, এলাকার লোকজন লাশ এলাকায় ঢুকতে দিবে না বরে জানিয়েছেন। তাই লাশ নিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।

Related posts