April 19, 2019

নিহত ছাত্রদল নেতার বাড়িতে মির্জা ফখরুল, কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন মা

380515_172দ্যা গ্লোবালনিউজ২৪ :: জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর মুখপাত্র ও বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ষোল কোটি মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সুহেলকে প্রাণ দিতে হয়েছে। সুহেল আজ একা নয়। সুহেলের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য আজ দেশের কোটি কোটি মানুষ এক কাতারে এসেছে। সুহেল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছে। গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কতটা দুর্বল ও দেউলিয়া তার প্রমাণ ৩০ তারিখ। পুলিশ, র‌্যাব ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় থেকেছে। আমরা ধিক্কার জানাই তাদের এই স্বৈরাচারী পন্থাকে। শেখ মুজিব গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছেন। আর আজ তার কন্যা গণতন্ত্র হত্যা করেছে। তাই দেশে যত রাজনৈতিক দল আছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে স্বৈরাচারের পতন করতে হবে।

তিনি আরোও বলেন, আ’লীগ ক্ষমতার জন্য বেসামাল হয়েছে। তারা নৌকায় ভোট না দেওয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মহিলাকে গণধর্ষণ করেছে। মানুষ আজ তাদের অত্যাচারে গুমরে কাঁদছে। নির্যাতিত প্রতিটি মানুষের চোখের পানির ফোঁটা স্বৈরাচারী আওয়ামী অবস্থান ভেঙ্গে খান খান করে দেবে।

তিনি বিএনপির সাবেক নেতা নিখোঁজ ইলিয়াছ আলীর কথা উল্লেখ করে বলেন, আ’লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে তাদের স্বৈরাচারী মনোভাব পাকাপোক্ত করতে এ অঞ্চলের জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াছ আলীকে গুম করেছে। ৩০ তারিখ তারা আবার ছাত্রদল নেতা সুহেলকে খুন করেছে। বালাগঞ্জের মানুষ প্রতিবাদ করতে জানে। দেশের সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদ সুহেলের ত্যাগকে কাজে লাগিয়ে সামনে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা আজ বালাগঞ্জে এসেছি।

তিনি সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের নলজুর গ্রামে বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (৩০ ডিসেম্বর ভোট কেন্দ্রে গুলিবিদ্ধ নিহত) সায়েম আহমদ সুহেলের বাড়ীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর কেন্দ্রীয় নেতা আ স ম আব্দুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেত্রীবৃন্দদের নিয়ে কবর জিয়ারত, সুহেলের পিতা মাতার সাথে সাক্ষাত পরবর্তি এক শোকসভায় বক্তব্য রাখেন।

বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার এর সভাপতিত্বে ও বিএনপি নেতা আব্দুল আহাদ জামালের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, এম ইলিয়াছ আলীর ছোট ভাই জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এম আছকির আলী, নিহত সুহেলের চাচাত ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী, কলিম উদ্দিন মিলন, চাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী, বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আব্দাল মিয়া, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতাহির আলী চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক এসটিএম ফখর উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরান রব্বানী চেয়ারম্যান প্রমুখ।

সভায় আ স ম আব্দুর রব বলেন, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সুহেল তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে সে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে শিখেনি। আপনারা যারা সুহেলের সাথী সঙ্গী এসেছেন, আগামী দিনে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে ষোল কোটি জনতাকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সুহেল তার কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি, আপনাদের তার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে হবে। নৌকায় ভোট না দেয়ায় সুবর্ণচরে গণধর্ষন হয়েছে। সকল অন্যায়ের জবাব দিতে আপনাদের প্রস্তুত হতে হবে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, সেল্ফি তুলে স্বৈরাচার হাসিনার সরকার হটানো যাবেনা। শুধুমাত্র সেল্ফি তুললে হাজার বছরেও অধিকার আদায় করতে পারবেন না। আ’লীগ ভোট কেন্দ্রে গুলি করে মানুষ মেরে ক্ষমতায় এসেছে। আপনারা যদি ধৈর্য্য ধরে জনগনকে সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন, তাহলে মুক্তি পাবেন। আমি আজ সন্তানহারা মা বাবার কাছে এসেছি। ইলিয়াছ আলীর মায়ের কাছেও গিয়েছিলাম। তিনি আমার জন্য দুয়া করেছেন। কি দোষ ছিল এই মায়েদের। আমার মা বাবা আজ বেঁচে নেই। তারা বেঁচে থাকলে ধৈর্য্য ধরতে পারতেন না। এই সভা থেকে বাড়িতে গিয়ে নিরবে চিন্তা করুন। যখন নিজেদের তৈরী করতে পরবেন তখন আর খালেদা জিয়াকে জেলে থাকতে হবেনা। এক মুহুর্তও স্বৈরাচার হাসিনা তখন ক্ষমতায় থাকতে পারবেনা।

নিহতের বড় ভাই সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান বলেন, এলাকায় সমাজসেবায় আমাদের পরিবারের অনেক অবদান রয়েছে। সমাজে আমাদের মোকাবেলা করতে না পেরে নির্বাচনী কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা গুলি করে আমার ছোট ভাই সায়েম আহমদ সুহেলকে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

নেত্রীবৃন্দ মরহুম সায়েম আহমদ সুহেলের কবর জিয়ারত করে তার বৃদ্ধ পিতা ফজলু মিয়া ও মাতা রুকিয়া বেগমকে দেখতে বাড়িতে গেলে নিহতের বৃদ্ধা মা রুকিয়া বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে বলেন, আমার ছেলেকে তারা কেন খুন করেছে? পাশেই বসা বৃদ্ধ পিতা ফজলু মিয়া ফেল ফেল করে কাঁদছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শান্তনা দেন।

এসময় মির্জা আলমগীর বলেন, আপনার ছেলে দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমরা তার জন্য দোয়া করতে এসেছি। এসময় মির্জা আলমগীর নিহত সুহেলের মা বাবাসহ উপস্থিত সকলকে নিয়ে নিজেই হাত উঠিয়ে উচ্চস্বরে কান্নারত অবস্থায় দোয়া করেন।

প্রসঙ্গত গত ৩০ ডিসেম্বর ২টায় জাতীয় নির্বাচনে আজিজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গুলিতে নিহত হন বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সায়েম আহমদ সুহেল। ঐদিন ভোট কেন্দ্রে ভোট নিতে গড়িমসি করলে সংঘর্ষ স্থানীয় লোকজনের বাঁধে। প্রশাসনের লোকজন তখন ব্যালট বাক্স নিয়ে যেতে চান। তখন স্থানীয় লোকজন এলাকার মাইকে ঘোষণা দিয়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে এগিয়ে আসে।

এসময় পুলিশ গুলি এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠে। নিহত সায়েমের বুকে তিনটি গুলি লাগে। ঐদিন ভোট কেন্দ্রে কোন মানুষ মারা গেছে এমন কথা অস্বীকার করেন স্থানীয় বালাগঞ্জ থানার ওসি। সুহেলের মৃত্যু হয়েছে, জানাজা হয়েছে, দাফনও হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সুহেলকে গুলি করলো কে? পুলিশ গুলি করলে তো পায়ের নীচে করতো, সুহেলের বুকে গুলি করলো কে?

Related posts