November 15, 2018

নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যাবহারে চাঁদপুরের মুক্ত জলাশয় মৎস্যশূন্য হয়ে পড়েছে

chandpur-pic

এ কে আজাদ,চাঁদপুর : চাঁদপুরের নদ-নদী খাল-বিল সব জায়গাতেই চলছে নিশিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার উৎসব। জেলার মতলব উত্তর-দক্ষিন উপজেলা,হাইমচর উপজেলা,চাঁদপুর সদর উপজেলা সর্বত্রই ব্যবহার হচ্ছে নিশিদ্ধ কারেন্ট জাল। মেঘনা ও ধনাগোদা নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের ছোট বড় মাছ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল, নদী-নালা মৎস্য সম্পদে ভরপুর ছিল। কিন্তু কারেন্ট জালের অবাধ ব্যাবহারের ফলে দিন দিন মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল, নদী-নালা মৎস্যশূন্য হয়ে পড়ার কারণে সর্বত্র যেন মাছের আকাল। অতি ক্ষুদ্র ফাঁসের এ জালের ফাঁদ দিয়ে মৎস্য প্রজাতির কোন পোনাই যেনো রক্ষা পাচ্ছেনা। দিনের পর দিন এ নিষিদ্ধ জাল দিয়ে অসাধু জেলেরা ছেট ছোট মাছ ধরছে অবলিলায়।

চাঁদপুর মেঘনা নদী অঞ্চলটি ইলিশ প্রজননের অন্যতম একটিকেন্দ্র । তাই ডিমওয়ালা ইলিশ ও ছেটইলিশ জাটকার পাশা পাশি রয়েছে মিঠা পানির দেশীয় জাতের, পাঙ্গাস, টেংরা, মাগুর, ভেটকি, কাইন, বাইলা, চেনা, পোয়া, চিনা, ঢেলা ছাড়াও রয়েছে এখানে হরেক প্রজাতির দেশীয় মাছ। মৎস্য আইন অমান্য করে অবৈধভাবে নির্বিচারে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে বিভিন্ন জাতের ডিমওয়ালা মাছ নিধন চলছে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। মৎস্য আইনে কারেন্ট জাল, বাধাজাল, চটজালসহ ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে পোন ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন নিষিদ্ধ থাকলেও আইনকে তোয়াক্কা না করে পোনা মাছসহ ডিমওয়ালা মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়। অসাধু মৎস্যজীবীরা এ সব পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি করছে। সে কারণে মাছের বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে না। অপরদিকে দিন দিন মাছের উৎপাদন অশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

২০০৫ সালে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে আদালত কারেন্ট জাল উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করেন। অথচ চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় এর ব্যবহার হচ্ছে প্রকাশ্যে। চারদিকে নদীঘেরা চাঁদপুরের কয়েকটি উপজেলা এর মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা ও ধনাগোদা নদী, হাইমচওে মেঘনা নদী,মতলব দক্ষিন,চাঁদপুর সদর উপজেলার বেশিরভাগ জেলে কারেন্ট জাল ব্যবহার করেই মাছ শিকার করছে। সুতার জালের চেয়ে কারেন্ট জালের দাম অনেক কম হওয়ায় এর ব্যবহারে বেশি আগ্রহী জেলেরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানায়, এক পাউন্ড কারেন্ট জাল মাত্র ৮শ থেকে ১ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। অথচ সুতার জালের দাম তার দ্বিগুণ। এ জন্য কারেন্টজাল দিয়েই আমরা মাছ ধরি। তাছারা হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় কারেন্ট জাল। বিশেষ করে চাঁদপুর পুরান বাজার থেকে বেশী সংগ্রহ করাযায় কারেন্ট জাল। তাছাড়া উপজেলাগুলোর চরদিকেই যেহেতু নদী তাই চারদিকের বাজারগুলোতেও খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে নিশিদ্ধ এই কারেন্ট জাল।

প্রতি বছরই কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্ধে আইনশৃখœলা বাহীনি বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে থাকেন । কিন্তু জেলেরা দাম কম ও হাতের নাগালে পায় বলেই এই কারেন্ট জালের ব্যাবহার বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিমত সাধরিন মানুষের।

Related posts