November 16, 2018

নিশ্চুপ বিএনপি নেতা নোমান, আপাতত কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না

ঢাকাঃ সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের পদত্যাগের গুঞ্জন শুরু হলেও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ রয়েছেন তিনি। তার পদত্যাগের ব্যাপারে কোন কিছুই বলতে চাচ্ছেন আবদুল্লাহ আল নোমান। এ বিষয়ে তার ঘনিষ্টরা বলছেন, পদত্যাগের ব্যাপারে তিনি আপাতত কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।

জানা যায়, কাউন্সিলের চারমাস ১৬ দিন পর গত ৬ আগস্ট শনিবার বিএনপির ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘোষিত কমিটিতে চট্টগ্রামের ১৪ জন নেতা স্থান পেয়েছেন। এরমধ্যে চট্টগ্রামের আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আল নোমানকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করার কথা থাকলেও শুধুমাত্র আমির খসরুকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। আবদুল্লাহ আল নোমানকে স্থায়ী কমিটির সদস্য না করায় তিনি এ কমিটির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও গত ২/৩ দিন ধরে নিশ্চুপ রয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হলে তার মোবাইল নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে তার ঘনিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পদত্যাগের ব্যাপারে নিশ্চুপ রয়েছেন আবদুল্লাহ আল নোমান। আপাতত এ বিষয়টি নিয়ে তিনি কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। দলের কারো সাথে তিনি যোগাযোগও করছেন না বলে জানা যায়। এমনকি নেত্রীর সাথেও এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি নন তিনি। তার পদত্যাগের বিষয় নিয়ে সারাদেশে গুঞ্জন শুরু হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন মন্ত্রব্য করতে রাজি নন। তিনি নিশ্চুপ থাকলেও তার অনুসারী চট্টগ্রামে মাঠ পর্যায়ে সরব রয়েছে। এমনকি অনেকে মিছিল সমাবেশও করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবদুল্লাহ আল নোমানকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করে যোগ্য সম্মান দেয়ার দাবি জানান।

চট্টগ্রামে নোমান অনুসারীদের দাবি, চট্টগ্রামের বিএনপির ইতিহাসে নোমানের ভূমিকার সবার চেয়ে বেশি। তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে সব সময় মাঠে ময়দানের সরব ছিলেন। কমিটিতে নোমানকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি, চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে নোমানকে যোগ্যপদে আসীন করে চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিকে আরো গতিশীল করার উদ্যোগ নেয়া হোক।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগর বিএনপি নগর কমিটিও ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির তিন সদস্যের কমিটি ঘোষনা করেন তিনি। এ কমিটির সহ সভাপতি আবু সুফিয়ানও পদত্যাগের হুমকি দিয়ে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রামের ব্যাপারে বেগম খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বেশি কাছের মানুষ ছিল আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল্লাহ আল নোমান। চট্টগ্রামের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত আসলে এ দুই নেতার পরামর্শের মাধ্যমে হতো । কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির নগর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুলের একক সিদ্ধান্তে। এ বিষয়টি মানতে পারেনি আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি নিজের ব্যাপারে যতটুকু হতাশ হয়েছেন তার চেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন নগর কমিটি নিয়ে। এরআগে ২০১০ সালে ৭ জন বিশিষ্ট নগর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে ২০১১ সালে দস্তগীর চৌধুরী মারা গেলে ৬ জনের কমিটি দিয়ে ৭ বছর পার হয়। এবারের ৩ জনের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি ভুল করেছে বলে দাবি করেন আবদুল্লাহ আল নোমান।

Related posts