November 21, 2018

নিশ্চিত জয় চায় আওয়ামী লীগ

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে ছক কষে কাজ শুরু করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সাংগঠনিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রচারণা কৌশল চূড়ান্ত করে কাজ শুরু করা হয়েছে। বিভিন্ন পৌরসভার কোথায় কী সমস্যা, নির্বাচনে কার কী ভূমিকা, কোন প্রার্থীর কেমন অবস্থা- এসব চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করতে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রের সাত টিম। এছাড়া কেন্দ্রের মনিটরিং টিমের মাধ্যমেও বিদ্রোহীসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ চালানো হচ্ছে শাসক দলের পক্ষ থেকে। বিদ্রোহীদের পক্ষে অবস্থানকারীদের হুশিয়ার করে দলীয় প্রধানের সতর্ক বার্তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে প্রচারে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে সহযোগীদের পাশাপাশি শরিক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও মাঠে নামানো হয়েছে। সব মিলিয়ে পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করা হয়েছে নৌকা মার্কার প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করার জন্য।

দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাংগঠনিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রচারণা কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। কোন কোন জায়গায় কী ধরনের সমস্যা তা এরই মধ্যে চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কাজ শুরু করা হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্রোহীদের দমাতে ও দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সবার সমর্থন আদায় করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত টিমগুলো কাজ করছে। একই সঙ্গে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেবেন কেন্দ্রের টিমের সদস্যরা। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রী-এমপি নন, কেন্দ্রের এমন নেতাদের নিয়ে সাতটি টিম গঠন করা হয়েছে। অধিকাংশ টিমই এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য বলেন, এরই মধ্যে তৃণমূলের ওপর একটি রিপোর্ট নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। মূলত কোন পৌরসভায় কী ধরনের সমস্যা, নির্বাচনে কার কী ভূমিকা, কোথায় কোন প্রার্থীর কী অবস্থা- সবকিছু চিহ্নিত করেই সে অনুযায়ী কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি জানান, আমাদের হিসেব মতে সারা দেশে ৭৬ পৌরসভায় কমপক্ষে ৮৫ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে সবাইকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। দলের পদে আছেন এমন ৫৯ জনকে স্থায়ীভাবে কেন বহিষ্কার করা হবে না, তা জানাতে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় যারা বিদ্রোহীদের সঙ্গে রয়েছেন, কেন্দ্র থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেত্রীর সতর্ক বার্তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এমপিদের বিষয়েও একই কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রচারের বিষয়ে দুই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া এবং বিএনপির বিগত দিনের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের কথা জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সচেতন করা।

জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনের কাজ তদারকি ও প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণার জন্য মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু ও অসিম কুমার উকিল সোনারগাঁও-নরসিংদীসহ বিভিন্ন পৌরসভায় যান। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, রাজশাহী ও নাটোরে সংগঠনটির সভাপতি নাজমা আক্তার এবং সিলেটে হাবিবুর রহমান সিরাজ যান। আর ফরিদুন্নাহার লাইলীর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন পৌরসভায় মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু করেছেন টিমের অন্য সদস্যরা।

প্রায় প্রতিদিনই দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মনিটরিং কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান ওবায়দুল কাদের, মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপসহ সরকারি দায়িত্বে আছেন এমন নেতারা সারা দেশের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর ও সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন, আচরণবিধির মধ্যে থেকে যতটুকু দায়িত্ব পালন করা যায় আমরা ততটুকুই করছি। যেমন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আমার যা দায়িত্ব আমি তা পালন করছি, তবে সংসদ সদস্য হিসেবে যেটা করা যাবে না সেটা মাথায় রেখেই করছি। এই নির্বাচনে বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ বেশি সংগঠিত ছিল। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অর্জন আছে। অন্যদিকে আন্দোলনের নামে বিএনপি নানা রকম ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের জন্য পৌরভায় মেজরিটি মেয়র পদ আওয়ামী লীগ পাবে বলে আশা করেন তিনি। সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এবার দল খুবই কঠোর অবস্থানে আছে। নির্বাচনে কার কী অবস্থান, বিভিন্ন সোর্স থেকে সবার আমলনামা নেত্রীর কাছে যাচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম টিমের প্রধান ফরিদুন্নাহার লাইলি বলেন, আমরা এরই মধ্যে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, হাতিয়াসহ চট্টগ্রামের কিছু কিছু জায়গার কাজ শেষ করে ফেলেছি। প্রচারণার শেষ দিন পর্যন্ত আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জন্য ভোট চাওয়ার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে কাজ করব।

আর ১৪ দলের শরিকদের নিয়ে গঠিত টিম আজ সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন পৌরসভায় প্রচারণায় অংশ নেবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে টিমের সমন্বয়ক, সাবেক মন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এরই মধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। আজ বুধবার সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন পৌরসভায় প্রচারণায় অংশ নেব। আমাদের এই টিমে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহদাৎ হোসেন, বাসদ এক অংশের নেতা রেজাউর রশিদ খান রয়েছেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে এরই মাধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন সহযোগী সংগঠনের নেতারা। প্রচারণার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে ৩০টি টিম গঠন করেছে যুবলীগ। সংগঠনের ২৪১ জন কেন্দ্রীয় নেতা এই ৩০ টিমে বিভক্ত হয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। এসব কাজ মনিটরিং করার জন্য যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে প্রধান করে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে যে যার মতো করে।

উআলোকিত বাংলাদেশ
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts