November 18, 2018

নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র ‘দি আমেরিকান ড্রিম’

হাকিকুল ইসলাম খোকন
বিশেষ সংবাদদাতাঃ
প্রবাসী আমেরিকান জসীম উদ্দীনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র ‘দি আমেরিকান ড্রিম’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা ও একটি  কন্ট্রোলিং চরিত্রে জসীম উদ্দীন নিজেই অভিনয় করছেন। পরিচালক জানান, ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে বিএফডিসিতে মহরতের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ যাত্রা শুরু হয়। এদিন প্রধান অতিথি থেকে চলচ্চিত্রটির শুভ উদ্বোধন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যন্সেলর ড. মিজানুর রহমান।

পরিচালক বলেন, আমার লেখা উপন্যাস ‘দ্য আমেরিকান ড্রিম’ বাংলা ও ইংরেজীতে বাংলাদেশ ও আমেরিকায় প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি আমেরিকান পাবলিশার্স কোম্পানি এভলিকিস্ ইংরেজীতে প্রকাশ করেছে। বানস এ্যান্ড লেবেলসহ পৃথিবীর সেরা অনলাইন আমাজান বিক্রি করছে এ উপন্যাসটি। চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য, সংলাপ ও গান আমারই লেখা। এটি নির্মিত হচ্ছে সারা বিশ্বে মুক্তির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ইংরেজী ভাষায় আমেরিকান ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। চলচ্চিত্রটির শূটিং চলছে। চলচ্চিত্রটির ঢাকা অংশের বিশ শতাংশ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এ বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে নিউইয়র্ক সিটিতে চলচ্চিত্রের বাকি চিত্রায়ন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মহসিন হল থেকে শুরু করে প্রতিটি ফ্যাকাল্টি ও স্থাপনায় শূটিং শেষ হয়েছে। ঢাকার আশপাশে বিশেষ করে গাজীপুরে চলচ্চিত্রটির চিত্রায়ন চলছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র্স অফিসের এন্টারটেইনমেন্ট ও ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতায় ‘দি আমেরিকান ড্রিম’ চলচ্চিত্রটি হবে মেইড ইন নিউইয়র্ক লোগো সংবলিত। ইংরেজীর পাশাপাশি বাংলায়ও ডাবিং করা হবে। এতে বাংলাদেশ থেকে অভিনয় করছেন সাইমন সাদিক, আইরিন সুলতানা, সানজিদা তন্ময়, রযাম্প মডেল সূচনা আজাদ, রেহানা জলি, লুৎফুন নাহার লতা, শিরিন বকুল, ইরা খান, জয়া বিবি, বনি হাসান, আব্র্রাহাম, দীপক, এম সালাম, সাদেক বাচ্চুসহ আরও অনেকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হলিউড ও নিউইয়র্ক থেকেও অনেকে অভিনয় করবেন বলে জানা গেছে।

এম. জসীম উদ্দিন এর পরিচিতি

এম.জসীম উদ্দিন ১৯৬৯ সালের ১৫ই জুন, কুমিল্লার শহরতলী সীমান্তবর্তী গ্রাম হরিপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পিতা মরহুম মাষ্টার এমএ বারী এবং মাতা কাজী রুছিয়া খাতুনের মেধাবী ও কৃতি সন্তান তিনি। তার পিতামহ ছিলেন বিশিষ্ট দানবীর মরহুম সৈয়দ আকরাম আলী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের- লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেন।

শিক্ষাকালীন সময়ে তিনি ছিলেন একজন তুখোড় ছাত্র নেতা এবং বর্তমানে একজন সএিয় রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ১৯৯০ এর পর থেকে তিনি স্থায়ী ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন।

শৈশব থেকেই রাজনীতির পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতি মনা প্রতিভাবান এই লেখক সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। তার লেখা ছোটগল্প, নাটক, উপন্যাস, কবিতা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষন ধর্মী ফিচার দেশ ও বিদেশের বিভিনন পত্র পত্রিকায়, জার্নালে এবং ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হওয়ায় অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বর্তমানে তার লেখা উপন্যাস হিসেবে ডজন খানেক পান্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় প্রস্তুত।

তার লেখনিতে প্রকাশ পায়- সমাজের নিষ্পেষিত মানুষের অধীকারের কথা, দেশের কথা, চলমান রাজনীতির কথা। পৃথিবীর উল্টো প্রান্তে বসবাস করেও বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সাহিত্য চর্চা ও রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক। অর্থনীতি, সমাজনীতি, এবং রাজনীতি সবই একই সূত্রে গাঁথা। সবই মানুষের কথা বলে, মানুষের কল্যানের কথা বলে। যখন মানুষের কল্যানে, সমাজের নিপিড়িত মানুষগুলোর চিত্র পাঠকের চোখের সামনে উঠে আসবে তখনই সার্থক হবে তার লেখনি।

পাঠকের চাওয়া পাওয়া পরিপূর্ণতায় ভরিয়ে দিতে লেখকের তিনটি ছোটগল্প “রুপালি ইলিশ” “প্রেমের সীমান্তে” এবং “দি আমেরিকান ড্রীম”পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

Related posts