September 25, 2018

নির্বাহী কমিটিতে জায়গা পাচ্ছেন ৪০ জন সাবেক ছাত্রদল নেতা

ঢাকাঃ অবশেষে চুড়ান্ত হচ্ছে বিএনপির নির্বাহী ও স্থায়ী কমিটি। দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দেয়া নেতাদের মতামত ও নানামুখী বিচার-বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপে তিনি নিজেই কমিটি চূড়ান্ত করার বিষয়টি জানিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই সে ঘোষণা আসতে পারে।

কমিটিতে নতুন মুখ কারা আসছেন, কারা বাদ পড়ছেন- এ নিয়ে চলছে আলোচনা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে নতুন মুখ আসছে পাঁচজন। ব্যাপক পরিবর্তন আসছে কেন্দ্রীয় দফতরেও। বিগত সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখায় গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পদেও নতুন মুখ আসতে পারে। পাশাপাশি সম্পাদক, সহসম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যপদে জায়গা পাচ্ছেন অন্তত চল্লিশজন ছাত্রদলের সাবেক নেতা। স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির বাদ পড়া সিনিয়র নেতাদের জায়গা হচ্ছে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে। এ ছাড়া তিন দফায় ঘোষিত নির্বাহী কমিটির ৪১ পদের কয়েকটিতে পরিবর্তন আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

বিএনপির কয়েকটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এ বছর পবিত্র হজ পালন করতে যাওয়ার কথা রয়েছে খালেদা জিয়ার। তার আগেই তিনি কমিটির বিষয়টি সম্পন্ন করতে চান। ইতিমধ্যে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপে তিনি নিজেই কমিটি চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা একসঙ্গে, না দফায় দফায় দেয়া হবে সেটা নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ।

দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, চেয়ারপারসন কমিটি চূড়ান্ত করার বিষয়টি জানালেও এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো কথা বলেননি। নেতাদের পদায়ন-পদোন্নতি নিয়েও তিনি কোনো কথা বলেননি। ফলে নেতাদের কাকে কোন পদে দেখা যেতে পারে সেটা পরিষ্কার নয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কমিটি গঠন একটি সাধারণ কাজ নয়। শুধু বললেই কমিটি হয়ে যায় না। এ জন্য অনেকের পরামর্শ নিতে হয়। নানা বিষয় চিন্তা করতে হয়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে গিয়ে একটু সময় লাগছে। আর চার মাস তো এত বেশি সময়ও নয়।

তিনি বলেন, চেয়ারপারসন কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন। দ্রুত সময়েই তিনি তা ঘোষণা করতে পারেন। যোগ্য, ত্যাগী এবং আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন তারাই নতুন কমিটিতে জায়গা পাবেন।

সূত্র জানায়, ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা জোর তদবির চালাচ্ছেন। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ড. আর গনি ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মারা যাওয়ায় তিনটি পদ শূন্য হয়। এম শামসুল ইসলাম, বেগম সরোয়ারী রহমান দীর্ঘদিন অসুস্থ। এ কারণে এই দু’জন বাদ পড়ছেন। সব মিলিয়ে স্থায়ী কমিটিতে নতুন মুখ আসছে পাঁচজন। এদের মধ্যে নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি চারটি পদের বিপরীতে প্রায় এক ডজন নেতা দৌড়ঝাঁপ করছেন। চার পদের বিপরীতে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিনের নাম প্রায় চূড়ান্ত। তবে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেতে শেষ মুহূর্তে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান।

দলের একটি সূত্র জানায়, খোকার জায়গায় নোমানকে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা দিতে দলের শক্তিশালী একটি গ্রুপ লবিং করে যাচ্ছে। যুক্তি হিসেবে তারা দেখাচ্ছে, খোকা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন। সুস্থ হওয়ার পরও তার দেশে ফেরা অনিশ্চিত। ফিরলেও কারাগারে যেতে হতে পারে। তাই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এমন একটি পদে সক্রিয় কাউকে আনাই ভালো। তবে খোকার পক্ষেও রয়েছে শক্ত লবিং।

এদিকে দলের কয়েক নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা স্থায়ী কমিটির পদসংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। যাতে যোগ্যরা নীতিনির্ধারণী ফোরামে জায়গা পান। তবে এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা গেছে, দলের গুরুত্বপূর্ণ দফতরেও পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘদিন দফতরের দায়িত্ব পালন করে আসছেন রিজভী আহমেদ। বর্তমানে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। দফতরে পদবিন্যাসেও কিছুটা পরিবর্তন আসছে। যুগ্ম মহাসচিব পদমর্যাদায় একজনকে দফতর সম্পাদক করা হবে। এ ক্ষেত্রে তালিকার শীর্ষে আছেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপনের নামও রয়েছে ওই পদে। এই দু’জনের একজনকে এ পদে আনা হচ্ছে এটা নিশ্চিত। এর বাইরে একজন দফতর ও তিনজন সহদফতর সম্পাদক করা হবে। দফতর সম্পাদক হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন ও সহদফতর সম্পাদক পদে তাইফুল ইসলাম টিপু, রিয়াজউদ্দিন নসু, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের নাম শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়া হাসান মামুন, বেলাল আহমেদ ও আমিরুজ্জামান খান শিমুলের নামও রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়।

সূত্র জানায়, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পদ ছাত্রবিষয়কের দায়িত্ব পাচ্ছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল। সহসম্পাদক হচ্ছেন বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ। আইন সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার আর উপজাতীয় সম্পাদক দীপেন দেওয়ান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে কবি আবদুল হাই শিকদারের নাম শোনা যাচ্ছে। ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের নাম আছে মুক্তিযোদ্ধা সম্পাদক পদে।

সূত্র জানায়, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনুকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হচ্ছে। মোহাম্মাদ শাহজাহান স্থায়ী কমিটি থেকে বাদ পড়লে তার জায়গা হতে পারে ভাইস চেয়ারম্যান পদে। আর রিপন দফতর না পেলে পাবেন ভাইস চেয়ারম্যানের পদ। এ ছাড়া সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, জয়নুল আবদিন ফারুক, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদীন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, আবদুস সালাম, খালেদা রাব্বানী, ফজলুল হক আছফিয়া ভাইস চেয়ারম্যান হচ্ছেন। বর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যানদের অনেকেই থাকবেন একই পদে।

স্থায়ী কমিটি থেকে বাদ পড়া এম শামসুল ইসলাম ও বেগম সরোয়ারি রহমানের জায়গা হচ্ছে উপদেষ্টা পরিষদে। এ ছাড়া বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের অনেকেই একই পদে থাকবেন। তরুণ দু’জন মহিলা নেত্রীকেও উপদেষ্টা পরিষদে দেখা যেতে পারে। নির্বাহী কমিটিতে সহসম্পাদক ও সদস্যপদে নতুন মুখ হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে প্রায় চল্লিশজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এছাড়া দেশের অর্ধেক নাগরিক নারী হলেও এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে সংগঠিত নয় নারীরা। আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে নারী সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টিও অনুঘটকের কাজ করছে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে নারীর পদায়নের সিদ্ধান্তে। পদোন্নতির আলোচনায় আসা নারী নেত্রীরা হলেন- মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান, রেহেনা আক্তার রানু, নিলুফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এর মধ্যে শিরিন সুলতানা ও সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে এবং অন্যরা বিভিন্ন সম্পাদক পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। সূত্রঃ যুগান্তর ও মানবজমিন।

Related posts