November 17, 2018

নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে সরকার


রফিকুল ইসলাম রফিক             
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার। নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কা ন এলাকায় শনিবার বিকেলে জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল উপলক্ষ্যে  আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তৈমুর আলম খন্দকার আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিএনপিসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্যাতন, মামলা, হামলা, নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। ইউপি নির্বাচনে জোর করে কেন্দ্র দখল ও সিল মেরে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারের জুলুম অত্যাচার আর বেশি দিন টিকবেনা। শীগ্রই জনগন এর সঠিক জবাব দিবে।

দলের  সাথে বিশ্বস্থ্যতা রেখে রাজনীতি করতে হবে। সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী দলের সঙ্গে কখনও বেআইমানি করেননি। সব সময় তিনি দলের জন্য কাজ করে গেছেন কিন্তু বর্তমানে কিছু অবিশ্বস্থ্য নেতাদের কারনে দলে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। দল যাদের হাতে নিরাপদ তাদের হাতেই দলের দায়িত্ব দিতে হবে। আর এ জন্য বিশ্বস্থ্য ও অবিশ্বস্থ্য নেতা চিহ্নিত করতে হবে। নির্ভয়ে সকল নেতাকর্মীকে দলের আন্দোলন সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার আহবান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবলদল সভাপতি মোশারফ হোসেন ভুইয়া, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক মাহাবুবুর রহমান , আব্দুল কাইয়ুম প্রধান, ফতুল্লা থানা যুবদল সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, যুগ্ন সম্পাদক ইসমাইল খাঁন, কা ন পৌর ছাত্র দলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম বিপুল, রূপগঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আমির হোসেন, সাধারন সম্পাদক ইদ্রিস আলী, ইব্রাহিম, বাদল সরকার, খালেকুজ্জামান, আমজাদ হোসেন, রুবেল, সালাম প্রমুখ। আলোচনা সভা, মিলাদ ও  দোয়া মাহফিল শেষে দুস্থ্যদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের আরো কিছু খবর………।।

প্রতারণা মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বড় ভাইয়ের জমি ছোট ভাই প্রতারণা ও জাল দলিল করে আতœসাত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার ব্যপারে গ্রাম্য শালিশ বসায় উল্টো জমি আত্নসাতকারী ছোট ভাই বাদী হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ্য বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ্য মজিবুর রহমান জানান, আপন ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও জাল দলিল করে মজিবুর রহমানের নামে থাকা ১০ শতাংশ জমি আতসাত করে। এ ব্যপারে মজিবুর রহমান গ্রাম্য শালিস ডাকেন। শালিসে ১০ শতাংশ জমি হতে ৩ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে ফেরত দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত দেন মাতব্বররা। এদিকে, শালিসের সিদ্ধান্ত মতে ৩ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি করে না দিয়ে ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম উধাও হয়ে যায়। এরপর নারায়ণগঞ্জ আদালদে মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন আমিনুল ইসলাম। শুধু তাই নয় আমিনুল ইসলাম তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে মজিবুর রহমানকে হত্যা ও গুমের হুমকি দিয়ে আসছে। এ ব্যপারে রূপগঞ্জ থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে।

রূপগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৮

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পৃথক স্থানে দু’পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। এসময় এক পক্ষ আরেক পক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় ও সকালে পিতলগঞ্জ এলাকায় ঘটে এ সংঘর্ষের  ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিমুলিয়া  এলাকায় বসতবাড়ির ২ শতাংশ জমি নিয়ে জবল সরকারদের সঙ্গে পার্শবর্তী গিয়াস উদ্দিনদের বিরোধ চলে আসছিলো। ওই বিরোধের জের ধরে শনিবার বেলা ৩টার দিকে দু’পক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, গিয়াস উদ্দিন, রবিউল ইসলাম, কাকলি আক্তার, জবল সরকার, ইমরান হোসেন, নেয়ামুল হক, সুমি আক্তার, রাবেয়া আক্তার। এদের মধ্যে সুমি আক্তার ও জবল সরকার কে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এসময় এক পক্ষের লোকজন আরেক পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট চালিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মাঝে ফের উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবারো সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। অপর দিকে, সাড়ে ১৮ শতাংশ জমি নিয়ে পিতলগঞ্জ এলাকার জামাল চন্দ্র দাসের সঙ্গে একই এলাকার নিবাস চন্দ্র দাসদের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। সকালে জামাল চন্দ্র দাসসহ তার লোকজন ওই জমিতে বাড়ি নির্মান করতে গেলে নিবাস চন্দ্র দাস বাঁধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে জামাল চন্দ্র দাস, অর্চনা রানি, রিনা রানী, শিমুল চন্দ্র দাস, নিবাস চন্দ্র দাস, অতুল চন্দ্র দাসসহ অন্তত ৮ জন আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনার সংবাদ পেয়ে পৃথক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রূপগঞ্জে যুবকের হাতের রগ কর্তন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লোকজন সোহেব হোসেন (২৯) নামে এক যুবকের হাতের রগ কর্তন করে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শক্রবার রাতে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। সোহেব হোসেন ওই এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে। আহত সোহেব হোসেন জানান, একটি দোকান ভাড়া বাবদ নোয়াপাড়া এলাকার হযরত আলীকে বায়না বাবদ ৩ হাজার টাকা প্রদান করেন সোহেব হোসেন। পরে কথা মতো দোকানঘরটি আর বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। এ নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই সোহেব হোসেনের সঙ্গে হযরত আলীর বিরোধ চলে আসছিলো। শুক্রবার রাতে বায়না বাবদ দেয়া ৩ হাজার টাকা ফেরত চান হযরত আলীর কাছে। এসময় হযরত আলী ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেব হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায়ে হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতের রগ কর্তন করে ফেলে। পরে স্থানীয় লোকজন সোহেবকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্শ কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘটনার একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তৈমূর বলয়ে ফিরতে যাচ্ছেন কামাল

এক সময়ে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বলয় থেকে যে সব নেতারা সরে গিয়েছিলেন ওই সব নেতারা অচিরেই তৈমুর আলম বলয়ে ফিরে আসতে যাচ্ছেন। এ নিয়ে তাদের মাঝে গোপন সমযোতার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানা গেছে। একত্রিত হওয়ার পর জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি এখান থেকেই খসড়া তৈরি করা হবে বলেও জানা গেছে। এর মধ্যে সম্প্রতি তৈমূরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠা নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু অন্যতম যাদেরকে অচিরেই তৈমূর আলম খন্দকারের পাশে আবারো দেখা যেতে পারে।
তবে এর আগে এসব নেতাদের সাথে আরো বেশকজন নেতা রয়েছেন যারা তৈমূরের নানা অরাজনৈতিক কর্মকান্ডের সমালোচনা করেছিলেন। তবে এর পিছনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছেন এদের মধ্যেই ক’জন নেতা।

তবে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার তৈমূর আলম খন্দকারের কাছে তাদের চাওয়া পাওয়া ও দাবির বিষয়টি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তৈমুর আলম অনেকটা সম্মতিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তৈমুর আলম এটিএম কামালকে তার বলয়ে নিতে নারাজ। মূলত অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার চাচ্ছেন এটিএম কামালকে দুরে সরিয়েই অন্যদের কাছে টেনে নিতে। কারন এতদিন এটিএম কামালকে সাথে রাখার কারনেই নুরুল ইসলাম সর্দার, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, আবু আল ইউসুফ খান টিপু, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের তৈমুর আলমের দুরুত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি তৈমুর আলমের ঘনিষ্ঠ সহচর নগর বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ্জামানও এ বিষয়ে তৈমুর আলমের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন।
তবে মধ্যস্থতাকারীরা চাচ্ছেন এটিএম কামাল সহ অন্যদেরও তৈমূর বলয়ে ভীড়াতে। তবে সম্প্রতি জানা গেছে তৈমূর আলম খন্দকার এসব নেতাদের তার সাথেই রাখতে চান। কারন হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকার বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীদের কাছে বলেছেন, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের সাথে তৈমুর আলম বিএনপির রাজনীতি থেকেই রয়েছেন। আর অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে এক সময় নারায়ণগঞ্জ আদালতে তৈমুুর আলমের ওপিঠ হিসেবেই চিনতেন সবাই। তাদের প্রতি তৈমুর আলমের দুর্বলতাও রয়েছে। আর এসব নেতারাও কিছু কিছু বিষয়ে বি ত হয়ে তৈমূর বলয় ত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে এটিএম কামাল ছিলেন তৈমূর আলমের অন্যতম সেনাপতি। তার আগে আবু আল ইউসুফ খান টিপু ছিলেন তৈমুর আলমের আরেক সেনাপতি। পরবর্তীতে বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান ও টিপুর সাথে দুরুত্ব সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে গত বছর ৮ মাস কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান এটিএম কামাল। জামিনে মুক্তি পেয়েই এটিএম কামাল বিএনপির সকল পন্থীদের এক করার ঘোষণা দিয়ে তৈমুর বিরোধীদের নিয়ে সভা সমাবেশ সহ দলীয় কর্মসূচিগুলো পালন করতে থাকেন। এতে চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তৈমুর আলম। কারন ওই সব সভা সমাবেশে মুলত তৈমূর আলমের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সকল পন্থী নেতাদের এক করার জন্য তৈমূর আলমের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়। ওই ঘটনা থেকেই তৈমুর আলম ও এটিএম কামালের মধ্যে দুরুত্ব সৃষ্টি হয়।
এর আগে শহর বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে নুরুল ইসলাম সর্দার, সাখাওয়াত হোসেন খান ও টিপুর সাথে তৈমুর আলমের দুরত্ব সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সাখাওয়াত হোসেন খান তৈমুর বলয়ে আবারো ভীড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সাখাওয়াত হোসেন খান সভাপতি প্রার্থী হলে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। সাখাওয়াত হোসেন খান স্বতন্ত্র নির্বাচন করেই সভাপতি নির্বাচিত হন যা আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে প্রথম যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সেই থেকে আবারো বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এদিকে গত আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের সাথে দুরত্ব সৃষ্টি হয়। ওই নির্বাচনে তৈমুর আলম ও তার বলয়ের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় সাখাওয়াত হোসেন খান প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করায় সাখাওয়াত হোসেন খানকে কোনঠাসা করতে সরকারি দলের সাথে আতাত করেছিল। এ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল।
এদিকে সামনের নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবীরাও চাচ্ছেন ঐক্যবদ্ধ হতে। এসব নেতাদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের চাহিদা পুরনে তৈমুর আলম সম্মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে শর্ত আছে যে, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দীন ও সাবেক এমপি আবুল কালামের সাথে সখ্যতা রাখা যাবে না। এসব বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্ততাকারীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাদের মধ্যেও পরিবেশটা শিথিল হয়েছে বলেও জানা গেছে। ফলে যে কোন সময় এসব নেতারা তৈমুর আলম খন্দকারের বলয়ে ভীড়তে যাচ্ছেন। আর এদিকে এক  সময় তৈমুর আলমের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনাকারী জান্নাতুল ফেরদৌস তৈমুর আলমের সাথে দুরুত্ব কমিয়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি বেশকটি অনুষ্ঠানে জান্নাতুল ফেরদৌসকে তৈমুর আলমের সাথে দেখা গেছে।

৮৫ বছর বয়সে ভোট দিলেন আব্দুল আওয়াল

বয়স ৮৫। এখন ভালো ভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। ঘর থেকে বের হতে হলে একজন সঙ্গী প্রয়োজন। তবে এমন অবস্থায়ও আত্মীয়কে নিয়ে ভোট দিলেন বন্দরের আব্দুল আওয়াল। ভোট কেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকায় এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হওয়ার কারণে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।

আব্দুল আওয়াল জানান,‘ভোট দেওয়া আমার অধিকার ও দায়িত্ব। তাই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে এসেছি। আবার কবে নির্বাচন হবে আর সেই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবো কিনা জানিনা। তাই ভাতিজার সঙ্গে চলে এসেছি।’
শনিবার দুপুরে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সালসারদী এলাকার ভোট কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।

এদিকে শনিবার সকাল ৮ থেকে শুরু হওয়া ভোগ গ্রহণ শেষ হয় বিকাল ৪টায়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের কোন কেন্দ্রে কোন বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। প্রার্থীদের দাবী শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।
সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখের পরার মতো। ভোটারা হাতে পানির বোতল, ছাতা মাথায় নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। গরমের ক্লান্তি থাকলে ভালো ভাবে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত ভোটাররা। তবে কেন্দ্র গুলোতে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। সবমিলে পুরুষ ভোটের দৌড়ে নারীরা এগিয়ে রয়েছেন।

বন্দরে ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ

নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিয়ন পরিষদে ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচন কোন সহিংসতা বা নাশকতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এছাড়াও বিগত তৃতীয় ও প ম ধাপে নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাই, হামলা, সহিংসতা ও বিএনিপ প্রার্থীর ভোট বর্জন করলেও ষষ্ঠ ধাপে এমন কোন অভিযোগ কিংবা খবর পাওয়া যায়নি। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচনের ৫৪টি ভোট কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ। ৫ টি ইউনিয়নে ৫৪টি ভোট কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদে ২৮ জন ও মেম্বার পদে তিন শতাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বন্দরের ৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার ৬শ’ ৭৬ জন।  ৫৬ টি ভোট কেন্দ্রে ৫৬ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ২৯১ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার,৫শ’৮৪ জন পোলিং অফিসার এবং ৯শ’ ৩০ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো চোখের পরার মতো। ভোটারা হাতে পানির বোতল, ছাতা মাথায় নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। গরমের ক্লান্তি থাকলে ভালো ভাবে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত ভোটাররা। তবে কেন্দ্র গুলোতে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। সবমিলে পুরুষ ভোটের দৌড়ে নারীরা এগিয়ে রয়েছেন।

বন্দরে আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থীরা হলেন মদনপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, বন্দর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর, মুছাপুর ইউনিয়নে আব্দুল কাদির, ধামগড় ইউনিয়নে মাসুম আহম্মেদ।
বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীরা হলেন, মদনপুর ইউনিয়নে মাজাহারুল ইসলাম ভূইয়া হিরন, বন্দর ইউনিয়নে পারভেজ খান, ধামগড় ইউনিয়নে মাসুদ রানা, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন শিশির।
জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের প্রার্থীরা কলাগাছিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, বন্দর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নে সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান আয়নাল হকের ছেলে কামাল।

না’গঞ্জে মে মাসে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৪৫

গত মে মাসে সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় ৪৫জন নিহত হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬৬জন। নারীর উপর যৌতুক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১২জন। শনিবার (৪ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কলেজ রোড এলাকায় অধিকারের নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের মাসিক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

অধিকার নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের সমন্বয়ক সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় উপস্থিত ছিলেন, অধিকারের কর্মী ও শিক্ষাবিদ এম কবীর উদ্দিন চৌধুরী, অধিকারেরকমী ও সাংবাদিক এনামুল হক প্রিন্স, অধিকারকর্মী ও শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক ও অধিকারকর্মী আবুল কালাম আজাদ, আলমগীর আজিজ ইমন, অধিকারকর্মী তৌফিকুল ইসলাম দিপু, শান্ত ইসলাম, সুমাইয়া হক, রাকিবুল ইসলাম ও ছেফায়েত উল্লাহ প্রমুখ।
সভায় জানানো হয়, মে মাসে মোট ৬৬ জন নারী ও মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জন নারী এবং ৫১ জন মেয়ে শিশু এবং ১ জনের বয়স জানা যায়নি। ওই ১৪ জন নারীর মধ্যে ৫ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ২ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ৫১ জন মেয়ে শিশুর মধ্যে ৬ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ২ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে ১৪ জন নারী ও শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে মে মাসে ১২ জন নারী যৌতুক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ৭ জন নারীকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে এবং ৪ জন বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এইসময় একজন নারী যৌতুক সহিংসতা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও পৌরসভার বাগমুছা এলাকায় নাজনিন আক্তার নাজুনামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৬ বছর আগে সোনারগাঁও পৌরসভার বাগমুছা গ্রামের আনিসুর রহমানের সঙ্গে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার নাজনিন আক্তারের বিয়ে হয়। আনুষা নামে তাঁদের ৪ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামীর যৌতুকের নামে বিভন্ন সময় টাকা চাওয়ার কারণে তাঁদের দুজনের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। যৌতুক চাওয়ার ব্যাপারে নাজনিন আক্তার তাঁর স্বামী আনিসুর রহমান ও দেবর আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। গত ১ মে নাজনীনকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া গেলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়ার পর পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। এই ব্যাপারে নাজনীনের বাবা জিয়াউল হক নান্নু জানান, যৌতুকের জন্য তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই ঘটনায় নিহতের ননদ বেবীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নাজনিন আক্তার নাজুর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা ব্যাপকভাবে ঘটছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতে থাকায় বেশীরভাগ নারী তাদের ওপর সংঘঠিত সহিংসতার বিচার পাচ্ছেন না।
বক্তারা আরো বলেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু হয়েছে বলে কমিশনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন।

নিজের ঘোষণা নিজেই ভাঙ্গলেন সেলিম ওসমান

নিজের ঘোষনা নিজেই ভাঙ্গলেন সেলিম ওসমান। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এমপি হিসেবে কোন কাজ করবেন না বললেও শনিবার এমপি হিসেবেই দুইটি স্কুলের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। অনুদান দেন সেখানে। বন্দরে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটি এখনো পুলিশের তদন্তাধীন। আগামী ৮ জুন পুলিশ এ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে উচ্চাদালতে। ৯ জুন এ ব্যাপারে আদেশ দেয়া হবে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় ও সাড়ে ১১টায় আলীরটেক ইউনিয়নের কুড়েরপার শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন স্কুলের কাজের জন্য চেক বিতরন ও মত বিনিময় সভায় যোগ দেন তিনি।
এসব অনুষ্ঠানের সভায় তিনি বলেন, কোন অপশক্তিই তোর উন্নয়নকে আটকে রাখতে পারবে না। সেই সাথে এলাকার মানুষকে ধৈর্য্য ধারন করে শান্তি বজায় রেখে সবাইকে সাথে নিয়ে সম্মিলিত ভাবে উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানান তিনি।

এসময় বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং কুড়েরপাড় শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মান কাজের জন্য ৩৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।
এখন পর্যন্ত সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ এবং শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য মোট ১ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হলো। তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নির্মানাধীন ৭টি স্কুলে মোট ১৬ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি কোন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করি নাই। আল্লাহকে নিয়ে ইসলামকে নিয়ে কটুক্তি করায় আমি একজন নাস্তিককে শাস্তি দিয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে সব প্রমানিত হয়ে যাবে। আপনারা সবাই ধৈর্য্য ধরুন। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আপনারা শান্তি বজায় রাখুন।

পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে চেক বিতরন ও মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলী আকবর এবং আলীরটেকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের চেক বিতরন ও মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি।

মত বিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সালাউদ্দিন, ব্যবসায়ী ফজর আলী, গোগনগর ইউনিয়ন জাতীয়

আমি কোন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করি নাই, ধৈর্য্য ধরুন

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, কোন অপশক্তিই আমার উন্নয়নকে রুখে রাখতে পারবে না। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি কোন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করি নাই। আল্লাহকে নিয়ে ইসলামকে নিয়ে কটুক্তি করায় আমি একজন নাস্তিককে শাস্তি দিয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে সব প্রমানিত হয়ে যাবে। আপনারা সবাই ধৈর্য্য ধরুন। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আপনারা শান্তি বজায় রাখুন। শিক্ষক আল্লাহকে নিয়ে যে কটুক্তি করেছে তার শাস্তি সে পেয়েছে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। আপনারা এলাকার উন্নয়নে মনযোগী হোন। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়নের কাজ করুন।

শনিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় ও সাড়ে ১১টায় আলীরটেক ইউনিয়নের কুড়েরপার শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মানাধীন স্কুলে চেক বিতরন ও মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৩ মে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার পর শনিবারই প্রথম সেলিম ওসমান কোন সভায় যোগ দেন। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং সেলিম ওসমানকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মত বিনিময় সভায় উপস্থিত এলাকার লোকজন বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। এ সময় তারা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকে।

তখন সেলিম ওসমান বিক্ষুদ্ধদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা শান্ত হোন। এলাকার শান্তি বজায় রাখুন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি কোন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করি নাই। আল্লাহকে নিয়ে ইসলামকে নিয়ে কটুক্তি করায় আমি একজন নাস্তিককে শাস্তি দিয়েছি। তদন্তের মাধ্যমে সব প্রমানিত হয়ে যাবে। আপনারা সবাই ধৈর্য্য ধরুন। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আপনারা শান্তি বজায় রাখুন। শিক্ষক আল্লাহকে নিয়ে যে কটুক্তি করেছে তার শাস্তি সে পেয়েছে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। আপনারা এলাকার উন্নয়নে মনযোগী হোন। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়নের কাজ করুন। এলাকার মুরুব্বিদের সাথে নিয়ে কাজ করবেন। সম্মানীদের সম্মান দিবেন তাহলে দেখবেন অনেক কঠিন কাজই সহজে হয়ে যাবে সম্মানী ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার কারনে।
এদিন দু’টি স্কুলের শিক্ষার্থী এবং পরিচালনা পর্ষদের নেতৃবৃন্দের হাতে বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং কুড়েরপাড় শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মান কাজের জন্য ৩৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।

এখন পর্যন্ত সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ এবং শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য মোট ১ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হলো। তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নির্মানাধীন ৭টি স্কুলে মোট ১৬ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে চেক বিতরন ও মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলী আকবর এবং আলীরটেকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের চেক বিতরন ও মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি।
মত বিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সালাউদ্দিন, ব্যবসায়ী ফজর আলী, গোগনগর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী মোক্তার হোসেন, সহ দুটি ইউনিয়নে ওয়ার্ডের মেম্বার সহ স্থানীয় মুরুব্বি ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা।

২০০ শিক্ষার্থীর মায়েদের সেলাই মেশিন দেয়ার ঘোষণা সেলিম ওসমানের

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, স্কুলের কোন শিক্ষার্থী যেন ঝরে না পড়ে এবং কোন ছাত্রী যেন বাল্য বিয়ের শিকার না হয় এ বিষয় গুলো শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হবে। স্কুলের যে সকল শিক্ষার্থীরা মেধাবী এবং তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা দুর্বল সেই শিক্ষার্থীর মায়েদের সাবলম্বী এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর জন্য দু’টি স্কুল থেকে ১’শ জন করে মোট ২’শ জন মাকে ১টি করে সেলাই মেশিন ও নগদ ১০ হাজার টাকা করে চলতি মূলধন প্রদান করা হবে। যাতে করে ওই সকল মায়েরা তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করতে পারেন। প্রয়োজনে স্কুলের ক্লাস শেষে তাদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় ও সাড়ে ১১টায় আলীরটেক ইউনিয়নের কুড়েরপার শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মানাধীন স্কুলে চেক বিতরন ও মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৩ মে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার পর শনিবারই প্রথম সেলিম ওসমান কোন সভায় যোগ দেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদেরকে সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে করতে হবে। নয়তো কোন কাজেই সফলতা আসবে না। তোমাদেরকে শুধু মুখস্ত বিদ্যা নয় মেধা তৈরি করতে হবে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে মুখস্ত নয় ভোরে উঠে লেখাপড়া করবে। তাহলে তোমাদের মেধা তৈরি হবে অন্যান্য কাজের জন্য দিনটিও বড় হবে। শুধু জিপিএ-৫ পেলেই চলবে না। তোমাদেরকে আউট নলেজ অর্জন করতে হবে। শিক্ষকদের প্রতি আমি আহবান রাখবো আপনারা শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর জীবনী, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনা করবেন। তাদেরকে এসব বিষয় জানাতে হবে। আমরা এই বিষয় গুলোর উপর রচনা প্রতিযোগীতার আয়োজন করবো তাতে করে তাদের আউট নলেজ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, আলীরটেকের মত এতো সুন্দর জায়গা আমি আর কোথাও দেখি নাই। আপনারা সবাই সহযোগীতা করেন যাতে করে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে একটি ইউনির্ভাসিটি অথবা একটি মার্কেট সহ মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করা যায়। আলীরটেকের শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে একটু বিনোদন করতে পারে মন খুলে হাসতে পারে।

শনিবার দু’টি স্কুলের শিক্ষার্থী এবং পরিচালনা পর্ষদের নেতৃবৃন্দের হাতে বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং কুড়েরপাড় শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মান কাজের জন্য ৩৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়।
এখন পর্যন্ত সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য ২ কোটি ৩৫ লাখ এবং শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য মোট ১ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হলো। তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নির্মানাধীন ৭টি স্কুলে মোট ১৬ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে চেক বিতরন ও মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলী আকবর এবং আলীরটেকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের চেক বিতরন ও মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি।
মত বিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সালাউদ্দিন, ব্যবসায়ী ফজর আলী, গোগনগর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী মোক্তার হোসেন, সহ দুটি ইউনিয়নে ওয়ার্ডের মেম্বার সহ স্থানীয় মুরুব্বি ও গন্যমান্য ব্যক্তিরা।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৫ মে ২০১৬

Related posts