November 15, 2018

নির্বাচন কমিশনে এ কেমন আচরণ!

২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুর পৗনে ১টা, আগারগাঁও ভোটার আইডি কার্ড প্রকল্প অফিস-ইসলামি সেন্টারের সপ্তম তলায় তখন দীর্ঘ লাইন। অন্তত পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়ে। কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য, কেউবা ছোট খাটো তথ্য জানার জন্য। সবাই যখন ঠিকঠাক লাইনে দাঁড়িয়ে ঠিক তখন কাউন্টার থেকে মাইকে ভেসে আসা কিছু শব্দ উপস্থিত সবাইকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়। বারবার ভেসে আসা কিছু কুৎসিত শব্দে বেশ কয়েকজনকে ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্দ হতে দেখা যায়।কিন্তু সবাই চুপচাপ, মনে হচ্ছিল লাইনে দঁড়ানো সবাই যেন কথা হারিয়ে ফেলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাইকে ভেসে আসা কুৎসিত শব্দগুলো যিনি অবলিলায় বলে যাচ্ছিলেন তিনি হচ্ছেন-এনআইডি প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর শফিউল্লাহ। মাইকে তিনি উচ্চারণ করছিলেন- “কেউ যদি লাইনের বাইরে থেকে আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেন তাহলে গালিগালাজ শুনতে হবে। এমনকি চড় থাপ্পড়ও খেতে পারেন। আমার কাছ থেকে এর বেশি ভাল ব্যবহার আশা করতে পারবেন না। কারন মানুষের ধর্য্যরে একটা সীমা আছে।”

হঠাৎ শফিউল্লাহর এমন বক্তব্যে সবাই হতবাগ। সবাই যে কথা হারিয়ে ফেলেছেন। কথা হয় লাইনে দাঁড়ানো আবু বক্কর সিদ্দিক সুমন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করেন।

আবু বক্কর সিদ্দিক আক্ষেপ করে বলেন, ভাই সরকারি অফিসে কোনো কাজে গেলে হয়রাণির কোনো শেষ থাকে না। একেক জায়গায় কাজের পরিবেশ এক এক রকম, অসহ্য। মানুষের করের টাকায় এদের বেতন হয়। অথচ দেখেন তাদের ব্যবহার! সরকারি চাকরিতে যোগদানের পরই তারা জমিদার বনে যায়! তারা যে পাবলিক সার্ভেন্ট সে কথাটি বেমালুম ভুলে যায়।

এমন কুৎসিত আচরণের কারণ জানতে চাইলে শফিউল্লাহ কোনো মন্তব্য না করে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তথ্য কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান। এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের সহকারি পরিচালক মো. জাহাঙ্গির হোসেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি। তবে কোন সরকারি চাকুরের এমন আচারণের সুযোগ নেই।”

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আরজু বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা এমন আচারণ করতে পারেন না। বিষয়টি আমি সিনিয়রদের নজরে আনবো।ঢাকাটাইমস

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts