November 13, 2018

নির্বাচন কমিশনের মোবাইল বার্তায় কৌতূহল

বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতিপ্রিয়। গ্রামের চায়ের দোকান থেকে ঢাকার আট নাম্বার বাস। কোথায় নেই রাজনীতি। আলোচনা-সমালোচনা। কখনও কখনও যা রূপ নেয় কলহে। তবে সে দৃশ্যের বিরাট পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলেই দৃশ্যমান। পাবলিক বাসে এখন কান পাতলে রাজনীতি নিয়ে তেমন কোন আলোচনা শোনা যায় না। গ্রামের চায়ের দোকানের দৃশ্যও তাই।

এর পেছনের কারণ কি তা বলা অবশ্য কষ্টসাধ্য। ভোগবাদী সমাজ ক্রমশ রাষ্ট্রচিন্তা থেকে নিজেকে দূর সরিয়ে নেয়। ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে বহু। ঢর-ভয় তো আছেই। আর কেউ কেউ সহজ-সরল পথে এগুতে না পেরে বেছে নেয় বক্র পথ। যার পরিণতি কারও জন্যই ভালো হয় না।

বুধবারই বাংলাদেশে আরেকটি বড় ভোট। যদিও এ ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের যে একক নিয়ন্ত্রণ তাতেও কোন হেরফের হবে না। তবুও পৌরসভার এ ভোটকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে সংঘাত-সহিংসতা-আতঙ্ক। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও হামলার ঘটনা ঘটছে। বলা বাহুল্য, এসব হামলার প্রায় সব কটিরই শিকার বিরোধীরা। আগে সাধারণত ভোটের আগের রাত থেকে বল প্রয়োগের দৃশ্য পরিষ্কার হতো। এবার কয়েকদিন আগ থেকেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপনের ভাষায় বলতে গেলে সেইরাম পরিষ্কার। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এরইমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ৯টার মধ্যেই ভোট শেষ হয়ে যাবে।

দুনিয়ার নানা দেশে নানান কিসিমের গণতন্ত্র দেখা যায়। আরব শেখরা গণতন্ত্র ভালো না বাসলেও পশ্চিমারা তাদের ঠিকই ভালোবাসেন। কারণ আর কিছুই নয় মানুষ মাত্রই রাজনৈতিক। মিশরে স্বৈরশাসনের সঙ্গে হাত মেলাতেও পশ্চিমা দুনিয়ার কোন সমস্যা হয় না। জ্যা পল সার্ত্র লিখেছেন, ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্র একই। প্রত্যেকেই স্বার্থপর।

পৌরসভা নির্বাচনের দিন বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং রাজনীতি ফের পরীক্ষার টেবিলে বসছে। এ পরীক্ষায় মুমূর্ষু গণতন্ত্র পাস করতে পারে কিনা সে দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও সেরকম কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

এরইমধ্যে রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে অপ্রোয়জনীয় বিতর্ক। রাজনীতিবিদ এবং ইতিহাসবিদের কাজ যে আলাদা তা অনেক রাজনীতিবিদেরই হয়তো মনে থাকে না। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান চরিত্র জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়ার এ মন্তব্য করা উচিত হয়নি বলে পর্যবেক্ষকরা একমত। এরইমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্য আগুনে ঘি ঢেলেছে। যদিও তিনি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা।

শেষ কথা: বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত দুই ধরনের ভোটের সাক্ষী। ভোটের উৎসব এবং গায়েবি ভোট। পৌরসভা ভোট কেমন হবে সে আলামত এরইমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ভোট আপনার অধিকার- রকিব কমিশনের এ ধরনের মোবাইল বার্তা ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts