September 25, 2018

নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জামায়াত!

আসন্ন পৌর নির্বাচনে বগুড়ার ৯টি পৌরসভায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের ভোটের লড়াই চলছে। এই লড়াইয়ে অধিকাংশ পৌরসভায় নৌকাকে পেছনে ফেলে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ধানের শীষ। তবে, বিএনপি-আওয়ামী লীগের মর্যাদার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নিবন্ধন হারানো জামায়াত। জামায়াতের ভোট আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তাই এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে উভয় দলের প্রার্থী সমর্থক ও কর্মীরা।

বগুড়া জেলার ৯টি পৌরসভায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে বগুড়া পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র অ্যাড. একেএম মাহবুর রহমানের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাড. রেজাউল করিম মন্টুর। বিএনপি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ সংকট থাকলেও ধানের শীষের কল্যাণে ভোটের লড়াইয়ে তিনিই এগিয়ে আছেন। ইসলামী ঐক্যজোটের ইঞ্জিনিয়ার সামছুল হক প্রার্থী হলেও তিনি এখনো কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।

শেরপুর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র স্বাধীন কুমার কুণ্ডু জনমতে এগিয়ে রয়েছেন। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে বিএনপির সব পক্ষ একসঙ্গে কাজ করায় এখানে ধানের শীষের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া জামায়াতের বিশাল ভোট ব্যাংক ধানের শীষের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আব্দুস সাত্তার অবিরাম প্রচারণা চালালেও দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সুবিধা করতে পারছেন না তিনি।

কাহালু পৌরসভার নির্বাচন বেশ জমে উঠেছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র হেলাল উদ্দিন কবিরাজের সঙ্গে সমান তালে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন বিএনপির আব্দুল মান্নান ওরফে ভাটা মান্নান। তবে, এই পৌরসভায় জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম বাদশার কারণে অনেকটাই বিপাকে পড়েছে বিএনপি। বিগত উপজেলা নির্বাচনের সময় বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কের যে ফাটল ধরে তা আজো স্বাভাবিক হয়নি। ফলে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী এই পৌরসভায় মেয়র পদে জয়-পরাজয়ের মূল ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, জামায়াত শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকলে আওয়ামী লীগের বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, শেষ মুহূর্তে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হলে ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।

শিবগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির বিজয়ের পথে অন্তরায় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। ইতোমধ্যেই বিএনপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত তৌহিদুর রহমান মানিকের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। মীর শাহে আলমের ইশারাতেই বিএনপি প্রার্থী মতিয়ার রহমানের বিপক্ষে তাইজুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এমন কথা চাউর হয়ে পড়েছে সর্বত্র। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো সম্ভব না হলে এই পৌরসভায় মেয়র পদ হারাতে পারে বিএনপি। এখানেও জামায়াতের ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।

নন্দীগ্রাম পৌরসভায় বিএনপির সঙ্গে বিদ্রোহী বিএনপির তুমুল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি প্রার্থী বর্তমান মেয়র সুশান্ত কুমার শান্তর সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র কামরুল হাসান জুয়েলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অবস্থান খুব একটা ভালো না হলে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর কারণে শেষ পর্যন্ত ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। তবে জামায়াতের বিপুল সংখ্যক রিজার্ভ ভোট মেয়র পদে জয়-পরাজয়ের বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

ধুনট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগ নিতে পারে বিএনপি। বর্তমান মেয়র জিএম বাদশার পরিবর্তে শরিফুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়ায় জিএম বাদশা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এই পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক মেয়র আলীমুদ্দিন হারুন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিএম বাদশার সঙ্গে বিএনপির আলীমুদ্দিন হারুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে এখানে।

সারিয়াকান্দি পৌরসভায় ফাঁকা মাঠে গোল দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর শাহী সুমন। বাছাইয়ে বিএনপি প্রার্থীসহ শক্তিশালী ৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এজন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুমনকেই দায়ী করা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট করে সবাই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ভোটের হিসাব পুরোটাই পাল্টে গেছে। এখানে বর্তমান মেয়র, বিএনপি প্রার্থী টিপু সুলতানের জয়ের প্রবল সম্ভাবনার কথা বলছেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর শাহী সুমনের সঙ্গেই তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গাবতলী পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র সাইফুল ইসলাম সাইফের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মোমিনুল হক শিলু। এখানে ভোটের লড়াইয়ে ধানের শীষের জয়ের পাল্লাই ভারি। সান্তাহারে বিএনপি মনোনীত বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টো এবং আওয়ামী লীগের রাশেদুল ইসলাম রাজার মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নিশ্চিত হতে পারে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।

জেলার যে ৯টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেসব এলাকায় বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের ভোট ব্যাংক রয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে জামায়াতের ভোট কে পাবে সেটা দেখার বিষয়। সরকারের জুলুম-নিপীড়ন এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে জামায়াতের ভোট বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

বিশেষ করে ৯টি পৌরসভার কোনোটিতেই মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে জামায়াতকে ছাড় দেয়নি বিএনপি। এ কারণে বিএনপির প্রতি চরম ক্ষুব্ধ জামায়াত। বিএনপি-জামায়াতের বিরোধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগ জামায়াতের ভোট টানার চেষ্টা করছে। এই চেষ্টায় আওয়ামী লীগ সফল হলে বেশ কয়েকটি পৌরসভায় বিএনপির নিশ্চিত বিজয় হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts