November 17, 2018

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, উদ্বেগ-উত্তেজনা ততই বাড়ছে

Photo
তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বিদের মাঝে বাড়ছে নানা মূখী সহিংসতা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে উদ্বেগ-উত্তেজনা ততই বাড়ছে। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে প্রতি নিয়ত ঘটছে- হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা।

সাদুল্যাপুর উপজেলার বিশেষ করে দামোদরপুর ও জামালপুর ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন দলের ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং সমর্থকদের মধ্যে সব সময়ে বিরাজ করছে থমথম উত্তেজনা। অব্যহত চলছে হুমকি-ধামকি ও ভোটকেন্দ্র দখলের অপপ্রচার। সেই সাথে প্রশাসনের নিকট পাল্টা-পাল্টি মামলা ও বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের করছেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীগণ।

এ কারণে চরম আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচনী আচরণ বিধি মানছে না প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। সম্প্রতি নির্বাচনী পূর্ব সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে গতকাল সোমবার জামালপুর ইউনিয়নের ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মুচলেকা নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এরা হলেন, নৌকা প্রতীক প্রার্থী নুরুজ্জামান মন্ডল, ধানের শীষ প্রতীকের নুরুল ইসলাম মন্ডল ও লাঙ্গল প্রতীকের রেজাউল করিম রেজা। পরবর্তীতে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করবে না মর্মে লিখিত অঙ্গিকার নামা দেন তারা।

সর্বসাকুল্যে সাদুল্যাপুর উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক ভোটারে মাঝে নানা প্রশ্নের ঘোরপাক বইছে। অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু- শান্তিপূর্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা, এনিয়ে ভোটারদের মধ্যে নানা সংশয় দেখা দিয়েছে। আদৌ কি তারা নিরাপদে ভোট প্রয়োগ করতে পারবে? এবিষয়ে উপজেলার সর্বত্রই বইছে আলোচনা-সমালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষন। শুধু ভোটাররা নন, প্রার্থীদের মাঝেও এমন সংশয় বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটারেরা যাতে নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, এবিষয়ে একাধিক প্রার্থী কর্তৃক প্রশাসনের নিকট আবেদনও করেছেন বলে বিশেষ সুত্রে জানা গেছে।

এর পরও থেমে নেই কেউই। উপজেলার ১১ ইউনিয়নের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। মর্যাদার লড়াইয়ে বিরাহীন গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ। তাদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে ভোরে সূর্য উঠার সাথে সাথেই বেড়িয়ে পড়ছেন ভোট প্রার্থনায়। দিন শেষে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট ভিক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। প্রার্থীরা উঠান বৈঠকসহ বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অবাধ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাশীল দলের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও ভোটারেরা।

সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস সত্রে জানা যায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে ৬শ ৬৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থী ৫৯ জন, সংরক্ষিত মহিলা প্রার্থী ১শ ৪৯ জন ও সাধারণ সদস্য প্রার্থী ৪শ ৫৬ জন।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ফেরদৌস আলম বলেন, চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফশিল অনুযায়ী আগামী ৭ মে উপজেলার ১১ ইউনিয়নে সকাল ৮ টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলা মোট ভোটার সংখ্যা ২লক্ষ ১৯ হাজার ১ শ ৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লক্ষ ৭ হাজার ২শ ১২ জন ও মহিলা ১ লক্ষ ১১ হাজার ৯শ ৩৪ জন। সুষ্ঠ ও শান্তিপুর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু রায়হান দোলন বলেন, ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের যাতে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না হয় সে বিষয়ে প্রশাসনিক সর্তকতা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

Related posts