November 21, 2018

নিরাপত্তা সামগ্রীর বিক্রি বেড়েছে, ক্যামেরা বিক্রি হচ্ছে ৫০০০ থেকে ৬৫০০ টাকায়

ঢাকাঃ গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা, কল্যাণপুরের আস্তানায় অভিযান- এই তিন ঘটনার পর রাজধানীবাসী নিজ নিজ উদ্যোগে নিজেদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে লাগানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এ কারণে কিছু দিন ধরে সিসি ক্যামেরা বিক্রি বেড়েছে দোকানগুলোতে। বিভিন্ন এলাকার রাস্তায়ও লাগানো হচ্ছে ক্যামেরা। শুধু রাজধানী নয়, দেশের সব জেলা শহর থেকে পৌর সদরেও সিসি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ছে। রাজধানীর অধিকাংশ দোকানে সিসি ক্যামেরা বিক্রি বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। মূলত পাঁচ ধরনের সিসি ক্যামেরা এখন রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিটি ওয়াইফাই আইপি সিসি ক্যামেরা বিক্রি হচ্ছে ৫০০০ থেকে ৬৫০০ টাকায়। এই ক্যামেরার মধ্যে আউটডোর ও ওয়াটার প্রুপ ক্যামেরাগুলোর দাম ১৪০০০ থেকে ১৭০০০ হাজার টাকা। দামের দিক থেকে এর পরেই রয়েছে পিটিজেড (পেন টিল জুম) সিসি ক্যামেরা। এগুলো সামনে-পেছনে ঘুরে ও জুম করে ভিডিও ছবি ধারণে সক্ষম। এর চেয়ে কম দামে রয়েছে এইচডি সিসি ক্যামেরা। এগুলো ৪৫০০ থেকে ১০৫০০ টাকা। এএইচডি (এনালগ হাই ডেফিনেশন) সিসিটিভি ক্যামেরা বিক্রি হচ্ছে ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকায়।

ঢাকার হাতিরপুলের মোতালিব প্লাজা মার্কেটের নিচ তলার একটি ব্যস্ত সিসি ক্যামেরা বিক্রি ও সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ৪ডি ন্যাশনাল সিকিউরিটি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল আলম সোহেল বলেন, আমার দোকানে আগে পাইকারি ও খুচরায় প্রতিমাসে ১০০টির মতো সিসি ক্যামেরা বিক্রি হতো। গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৩ শতাধিক সিসিটিভি। এর বাইরে আরো ৭৫টি ক্যামেরা বিক্রির অর্ডার পাওয়া গেছে। তাও বিক্রির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে বনশ্রীতে এক প্রবাসী ও ধানমন্ডিতে সচিবের বাসায় তা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। কামরাঙ্গীরচর, চকবাজার, পরিবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বহু বাসায় সমপ্রতি তা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ, সিদ্ধেশ্বরীর গেটওয়ে ইন্ট্যারন্যাশনাল স্কুলসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠানেও তা লাগানো হয়। এছাড়া চকবাজার, কলাবাগান, দোহারসহ বহু দোকানে আমরা সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়েছি। একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লেও অন্যদিকে সিসি ক্যামেরার দাম কমে হাতের নাগালে আসায় বিক্রি বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম নিউ সুপার মার্কেটের ডিজিটাল সিকিউরিটি সিস্টেম অহনা এন্টারপ্রাইজে সিসি ক্যামেরার বিক্রি তিনগুণ ছাড়িয়ে গেছে। ওই দোকানে আগে প্রতি মাসে পাইকারি ও খুচরা ১৫০ থেকে ২০০টি সিসি ক্যামেরা বিক্রি হয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত জুলাই থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত প্রায় দেড় মাসে বিক্রি হয়েছে ৬৫০টি সিসি ক্যামেরা। এর বাইরে ৭ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান আরো ৬৫টি ক্যামেরার জন্য অর্ডার দিয়ে রেখেছে। অহনা এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর ফারুক হোসেন বলেন, আগে রাজধানীর অভিজাত প্রতিষ্ঠানগুলোই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে। এখন বড় ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্টের মালিকরা সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছেন। ক্রেতারা নিরাপত্তা নিয়ে নানা শঙ্কার কথা বলে সিসি ক্যামেরা কিনতে আসলেও অধিকাংশরাই খুঁজেন কম দামের ক্যামেরা। এ ক্ষেত্রে ধারণ করা ভিডিওতে যাতে অন্তত মানুষের ছবিটুকু ভালোভাবে বোঝা যায় সেজন্য এইচডি ক্যামেরা কেনার পরামর্শ দিচ্ছি।

ঢাকার নিউ এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি সেন্টারের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানেও বিক্রি দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। এই মার্কেটে মো. আনিসুর রহমান শিপনের নিউ ইউনিভার্সেল কম্পিউটার নামের দু’টি দোকান আছে। দু’দোকানেই পাইকারি ও খুচরায় সিসি ক্যামেরা বিক্রি হয়। তিনি বলেন, গত জুন পর্যন্ত আমার দু’টি দোকানে প্রতিদিন গড়ে ২০টির মতো সিসি ক্যামেরা বিক্রি হতো। এখন দিনে ৪০টির কম বা বেশি ক্যামেরা বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এসব ঘটনার পর এখন ঢাকার পাড়া-মহল্লার বহু ছোট ও মাঝারি ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানগুলোও ‘সিসি ক্যামেরা পাওয়া যায়’ লিখে ঝুলিয়ে রেখেছে। অর্ডার পেলে আমাদের কাছ থেকে ক্যামেরা নিয়ে বিক্রি করছে। সামনে সিসি ক্যামেরার বিক্রি আরো বাড়বে বলেও ধারণা করেন তিনি।

এরই মধ্যে কূটনৈতিক জোন গুলশানের বিভিন্ন পয়েন্টে ৬৪৬টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বসানো হবে আরো অর্ধসহস্রাধিক ক্যামেরা। ধানমন্ডিতে বসানো হয়েছে অর্ধশতাধিক। তাছাড়া তেজগাঁও, নিকেতন, কল্যাণপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, রাস্তাঘাট, প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও বাসাবাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর খবর পাওয়া গেছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বাইরে দেশের প্রতিটি জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বসানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। জেলা সদরের বাসা বাড়িতেও এর ব্যবহার বাড়ছে। পৌর সদরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং দোকানপাট ও বাসাবাড়িতেও বসছে সিসি ক্যামেরা। গত শুক্রবার দুপুরে তার দোকানে সিসি ক্যামেরা কেনার জন্য নরসিংদী থেকে আসেন হাফিজুর রহমান সুজন। মনোহরদী পৌরসভায় সুজন এন্টারপ্রাইজ নামে তার একটি ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান আছে। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরে জেলা শহর ও পৌর সদরেও সিসি ক্যামেরার বিক্রি কয়েকগুণ ছাড়িয়ে গেছে। আমি গত দুই বছরে ২ ব্যক্তির কাছে মোট ৪টি সিসি ক্যামেরা বিক্রি করেছিলাম। গত প্রায় দেড় মাসে ৩৫টি বিক্রি করেছি। আরো ৩০ টার অর্ডার পেয়েছি। তা কিনতে ঢাকায় আসা।

Related posts