December 17, 2018

নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে : মির্জা আব্বাস

aঢাকা::

একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে দেশের জনগণ সরকারকে বাধ্য করবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। একই সাথে তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় থাকতে পারবে না জেনেই সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে পালাই পালাই ভাব দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, যদি আপনারা পালানোর পথ খুঁজতে চান তাহলে বিএনপির সাথে যোগাযোগ করুন। বিএনপি আপনাদের পালানোর পথ খুঁজে বের করে দেবে।

প্রস্তাবিত বাজেটের বিশাল ব্যয়-বরাদ্দ থেকে জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে রাখতেই ব্যাংকের হিসাবের ওপর বর্ধিত করারোপের প্রস্তাব সরকার করেছে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত রোববার বলেছেন, বাজেটে যদি কোনো রকম অসামঞ্জস্য কিছু থাকে, তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কেনো? সেটা আগে আলোচনা করে ঠিক করা যেতো না? আসলে আপনারা এটা রেখে দিয়েছেন এজন্য যাতে অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা না হয়। আপনারা ব্যাংকের হিসাবের ওপর এই আবগারী শুল্ক উঠাবেন, এটা রাখার কোনো সুযোগ নাই। কারণ এই যে লাখ টাকার যারা মালিক এরাই কিন্তু বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কোটি টাকার মালিকরা কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। ভোটের সংখ্যা ওদের হাতে বেশি। ভোটের হিসাবে এই আবগারী শুল্ক আপনাদের উঠাতেই হবে। এই সরকার জনগণের সঙ্গে রীতিমত মস্করাই করছে।

আজ সোমবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই অভিযোগ করেন। রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে দেশপ্রেমিক ফোরামের উদ্যোগ দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর মুক্তির দাবিতে এই আলোচনা সভা হয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত সাহেব বাজেট এমন করেছে যে, তারা মায়েদের আঁচলে হাত দিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেছেন, এটা তার শেষ বাজেট। তিনি শেষ বাজেটটা এমন বাজেট দিলেন যে, মা-বোনদের পকেট কেটে দিলেন। এক লাখ টাকার আবগারী শুল্ক ৮শ’ টাকা অর্থমন্ত্রীর কাছে বিশেষ কোনো টাকা নয়। আমার ভয়টা অন্য জায়গায় যে, উনারা এই বাজেটে এমন অপকর্ম করেছেন, চুরি করার জন্য চোরাই রাস্তা রাখা হয়েছে- এই বিষয়গুলো ধামাচাপা দেয়ার জন্য এক লাখ টাকার ওপর আবগারী শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন। যাতে আমরা এটা নিয়ে ব্যস্ত থাকি, অন্যদিকে না তাকাই। আরে ভাই, এক লাখ টাকার পেছন দিয়ে অনেক বড় বড় গাড়ি চলে যাচ্ছে যে, সেটার খবর আমরা রাখছি না।

কারাবন্দি নেতা বরকত উল্লাহ বুলুর মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এভাবে নেতা-কর্মীদের বন্দি করে, মামলা দিয়ে কত দিন থাকবে সরকার। আমাদেরকে এখন ইফতার পার্টি করতে দেয়া হয়, সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। আমি বলতে চাই, এভাবে সমস্ত কিছু আটকিয়ে ফেলার পরিণতি শুভ নয়। একদিন এর বিস্ফোরণ ঘটবেই। আমরা বলতে চাই, এভাবে দমন-পীড়ন করে ক্ষমতায় কেউ থাকতে পারেনি, আপনিও পারবেন না। আপনারা পালবারও পথ পাবেন না।

মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগকে আসলেই পালাতে হবে। কারণ সামনে বিএনপির যে আন্দোলন আসছে, সেই আন্দোলনের ধাক্কা সামাল দেয়া আওয়ামী লীগের দ্বারা সম্ভব হবে না।

যথাযথ নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, হত্যা-গুম-খুন-গ্রেফতার-টাকা লুট করে কোনো লাভ হবে না। গুম-খুন-গ্রেফতার প্রক্রিয়া বিএনপির কাছে এখন অকেজো হয়ে গেছে। একটি কথা স্পষ্ট- প্রতিটি কাজের জবাবদিহি এই সরকারকে করতে হবে। তাই আগামী দিনে একটি যথাযথ নির্বাচনের উদ্যোগ নিন। অন্যথায় একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে দেশের জনগণ সরকার বাধ্য করবে।

সংগঠনের সভাপতি অ্যালবার্ট পি কস্টার সভাপতিত্বে ও এম এ কাইয়ুমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Related posts