November 21, 2018

নিজ সন্তান বৃদ্ধা মাকে ফেলে গেল তামাকপট্টিতে

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  জামালপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের তামাকপট্টি এলাকায় মাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেলো তারই সন্তান। আর ওই বৃদ্ধা মাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে এক মাস যাবত সেবা করছেন আরো চার মায়ের ৪ সন্তান। এক মাসেও এ মায়ের খোঁজ নেয়নি তার সন্তান রুহুল আমিন ও মেয়ে পেয়ারা বেগম। এক মাস পূর্বে তামাকপট্টি এলাকায় ঝড়ের সময় রাস্তায় পরে থাকাবস্থায় দেখে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা নূর জাহান বেগমকে উদ্ধার করে গার্মেন্ট চাকুরীজীবী রকি, সুপার স্টার বাল্ব কোম্পানীর কর্মকর্তা পারভেজ, নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের স্নাতকের ছাত্র নাদিম হয়দার ও নয়ন দাস। উদ্ধারের পর নূর জাহান বেগম জানায় তার সন্তানরা তাকে এখানে ফেলে দিয়ে গেছে। এর আর নূর জাহান বেগম কথা বলতে পারছে না।

তবে নূরজাহান বেগম উদ্ধারের তাদের জানায় তার নাম নুর জাহান বেগম। বাবা বাড়ী জামালপুর জেলার দেগুল কান্দী। স্বামীর নাম সানু সরকার। নূর জাহানের বাবার নাম মিনার সরকার। তার ছেলে রুহুল আমিন, মেয়ে পেয়ারা বেগম, মেয়ের স্বামীর নাম করিম মিয়া। আর স্বামীর ঠিকানা দেগুল কান্দী। এছাড়া আর কিছু জানাতে পারেনি নূর জাহান বেগম। এক মাস যাবত বাসায় রেখে চিকিৎসা সেবা করলেও গুরুত্বর অসুস্থ হলে বৃদ্ধাকে সোমবার নারায়ণগঞ্জ ১শ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মাকে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে চায় নারায়ণগঞ্জের এ চার যুবক। শুধু তাই নয় বৃদ্ধা মায়ের সেবা যত্ন ও চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ ১’শ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বৃদ্ধার পাশেই পালা করে থাকছেন ওই চার যুবক। দিনের প্রতিটা সময়েই ৪ জনের একজন একজন করে সময় দিচ্ছে। ওই বৃদ্ধা মায়ের গোসল ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার জন্য একজন নারীকেও রেখেছে ওই যুবকরা।

বৃদ্ধাকে উদ্ধারকারীরা জানান, প্রায় এক মাস পুর্বে ঝড়ের রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের তামাকপট্টি এলাকায় বৃদ্ধাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে রকি ও তার বন্ধু নাদিম ও পারভেজ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে। পরে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেয়া বৃদ্ধাকে। প্রথমে ওই বৃদ্ধা পরিচয় বলতে পারছিলেন না। এরপর থেকে প্রায় এক মাস তামাকপট্টি এলাকার ফিরোজা বেগম নামে এক মহিলার কাছে রেখে সেবা যত্নের কাজ শুরু করে। কিন্তু গত শুক্রবার থেকে বৃদ্ধা মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ ১শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় বৃদ্ধাকে। সেখানেও মাকে ভর্তি করতে প্রচন্ড ভোগান্তিতে পড়তে হয় ৪ যুবককে।
তারা আরো জানান, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গাউছুল আজম ও জেলা সিভিল সার্জেন আশুতোষ দাসের সহযোগিতায় তারা বৃদ্ধা মাকে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করাতে সক্ষম হয়। এদিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছে, বৃদ্ধা মাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। বর্তমানে হাসপাতালের তৃতীয় তলার মহিলা বিভাগের ৩০৯ নম্বার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে বৃদ্ধা।

অন্যদিকে আরেক বন্ধু পারভেজ জানান, বন্ধু নাদিমই প্রথম বৃদ্ধা মাকে দেখে সকল বন্ধুদের খবর দেয়। এর পর থেকে আমরা আমাদের উপার্জনের অর্থদিয়ে গত এক মাস ধরে সেবা যত্ম করে আসছি। ফিরোজা বেগমের বাসায় রেখে এতদিন সেবাযত্ন করা হয়েছিল। এর মাঝে কিছুটা সুস্থ হলে আমরা জানতে পারি বৃদ্ধা মায়ের নাম নুর জাহান বেগম। বৃদ্ধা মায়ের বাবার বাড়ী জামালপুর জেলার দেগুল কান্দী। স্বামী নাম সানু সরকার, পিতা মিনার সরকার, ছেলে রুহুল আমিন, মেয়ে পেয়ারা বেগম, মেয়ের স্বামীর নাম করিম মিয়া। আর স্বামীর ঠিকানা দেগুল কান্দী। এসব বিষয়ে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলাম। যাতে বৃদ্ধা মায়ের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারি। তবে এতেও কারো কোন খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি।’

ওই চার বন্ধুর প্রত্যাশা দ্রুত বৃদ্ধা মাকে সুস্থ করে তার স্বজনদের কাছে যেনো ফিরিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জে সহৃদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান এবং প্রশাসনের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্য যে, গত ২০১৫ সালে নারায়ণগঞ্জে আরো দুইজন বৃদ্ধা মাকে কুড়িয়ে পেয়ে সেবাযত্ন করেন তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান নারায়ণগ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গাউছুল আজম। ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা শাসনগাঁও এলাকায় গত ১২জুলাই সন্তান কর্তৃক বস্তায় ভরে ফেলে দিয়ে যায় হাসিনা বেগম নামে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধাকে। এছাড়াও ২০১৫ সালে এপিল মাসে পুত্রবধু নাতি মিলে ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে নাজমা বেগম নামে বৃদ্ধাকে ভর্তি করে চলে যায়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts